fbpx
হেডলাইন

বর্ষাকালীন গবাদি পশুর পরিচর্যা…

নিজস্ব প্রতিনিধি: গৃহপালিত পশু গরু যার উপস্থিতি বেদের সময় থেকে বর্তমান। পরবর্তীতে মানবজীবনের সঙ্গে গরু যুক্ত হয়েছে নানা ভাবে। বর্তমানে অনেকেই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে গো-পালন করে লাভবান হচ্ছেন। খামারের আকার, গরু রাখার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে গো খামারের পরিচ্ছন্নতা, গো খাবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সব দিকে নজর দিলেই প্রাণী নিরোগ থাকে
এবং অধিক দুধ দেয়। তাই এই বর্ষায় এবং বর্ষা পরবর্তী সময়ে গরুর সুংসহত পরিচর্যা খুবই প্রয়োজনীয়।

জেনে নেওয়া যাক কেমন ভাবে এই নির্দিষ্ট সময়ে গো পরিচর্যা করা উচিৎ…

দৈনিক গো খামার থেকে নিয়মিত গোবর সরাতে হবে এবং কম্পোস্টের গর্তে বা বায়োগ্যাসের প্ল্যান্টে দিলে তা কাজে লাগতে পারে। যদি গো খামারের পাশে গো খাদ্যের জন্য সবুজ ঘাসের জমি থাকে তাহলে গোবর ও গোমূত্র ধোয়া জল ওই জমিতে চালিত করা যেতে পারে। খামারে প্রতি সাতদিন অন্তর জীবণুনাশক রাসায়নিক স্প্রে বা ডাস্টিং করতে হবে। ৫ মিলি ফরমালিন প্রতি লিটার
জলে গুলে তা যদি খামারের বাইরে ও ভিতরে স্প্রে করা যায়, তাহলে এই রোগের সংক্রমণ হবে না। ছত্রাকজনিত রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে ১ শতাংস কপার সালফেট বা তুঁতের দ্রবণ স্প্রে করা উচিৎ। খামারের চারধারে ব্লিচিং কিংবা ফিনাইল ছড়ালে খামারে রোগের বাড়বাড়ন্ত কম হয়।

এঁটুলি পোকার সংক্রমণ কমানোর জন্য বুটক্স বা ডেল্টামেট্রিন প্রতি মাসে একবার করে স্প্রে করা যেতে পারে। মাত্রা হবে ছ’মিলি প্রতি লিটার জলে। গরুকে প্রতিদিন স্নান অবশ্যই করাতে হবে। যদি বুটক্স দিয়ে স্নান করানো হয় তাহলে ভালো। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার জলে ৪ মিলি বুটক্স ব্যবহার করা উচিত। তবে মাথায় রাখতে হবে যদি বুটক্স দিয়ে স্নান করানো হয়, তাহলে গরুর মুখ অবশ্যই জাল দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।

 

ফার্মে ঢোকার মুখে যদি ফুটবাথের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে ভালো হয়। এর জন্য যে জায়গা নির্মিত করতে হবে তার গভীরতা হবে ৩ সেমি। ফুটবাথের জন্য কীটনুনাশক দ্রবণ রাখতে হবে যাতে পা ডুবিয়ে ফার্মে ঢুকলে খামারের জীবাণু সংক্রমণ হবে না। খামারের কোনও গরু যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাকে আলাদা ঘরে নিযে যেতে হবে এবং তার পরিচর্যার জন্য আলাদা লোকের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে যাতে খামারে অন্য পশু-পাখি ঢুকতে না পারে। খামারে যদি কোনও পশু মারা যায় তাহলে তাকে যত্রতত্র ফেলে না রেখে ১০ ফুট গভীর গর্ত খুঁজে তাতে মাটি চাপা দেওয়া উচিত এবং সেই মাটির ওপর চুন ও ব্লিচিং ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বাইরে থেকে গরু কিনে আনলে তাকে প্রথমে সংক্রমক রোগের জন্য ভ্যাকসিন করতে হবে। তারপর অন্তত ১৫ দিনের জন্য অন্যান্য গরু থেকে আলাদা রাখতে হবে। যদি ফার্মের বাইরে কোনও সংক্রমক রোগ ছড়ায় তাহলে ফার্মের পশুদের ভ্যাকসিন করাতে হবে। দুধ দোয়ানোর আগে যিনি কাজটি করবেন তাঁর হাত ও গরুর বাট ভালো করে জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। সোডিয়াম ডাইক্লোরোয়াইসোয়ানোরেট ট্যাবলেট দিয়ে এই দ্রবণ তৈরি করা যেতে পারে। মাত্রা ১ লিটার জলে ১টি
ট্যাবলেট। এই ভাবে গরুর বাট পরিস্কার রাখলে ম্যাস্ইটিস বা পালান ফোলা রোগ হয় না। যদি গোপালক মিল্কিং মেশিনের সাহায্যে দুধ দোহন করে, তবে এই রোগের সম্ভাবনা কম থাকে। খামারের জলকে পরিশুদ্ধ করার জন্য জলে সোডিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড মেশাতে হবে। এই জল গরুকে পানীয়

হিসাবেও দেওযা যেতে পারে। এছাড়া বর্ষাকালে গরুর খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এই সময় গরু যদি বাইরে বেরিয়ে জলা জমির ঘাস খায় তাহলে তার শরীরে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। আসলে জমিতে বর্ষার জল জমে থাকলে তাতে নানা কীটের বা জীবাণুর জন্ম হতে পারে। তাই বর্ষাকালে গরুকে বাইরের জমিতে চড়তে না দেওয়াই ভালো। ফার্মের বর্জবস্তু ট্রিটমেন্ট করে শোধন করে নিলে ভালো হয়। গোবর গ্যাস প্ল্যান্টের সাহায্যে এই কাজ করা যায়। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ হবে না তেমনই রান্নার গ্যাসের ব্যবস্থাও করা যাবে। আবার চাষের জন্য তরল সারও পাওয়া যাবে। দুটি সংকর গরুর মল থেকে ৩ কিউবিক মিটারের একটি বায়োগ্যাস চালানো যায় যা দিয়ে ৩ জন মানুষের রান্না হতে পারে।

 

Related Articles

Back to top button
Close