fbpx
অফবিটদেশহেডলাইন

বর্ষা এলেই তিন মাসের হোম কোয়ারেন্টাইনে চলে যান ভুটিয়া বস্তির বাসিন্দারা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে চৌদ্দ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে কাটানোর নিদান দেওয়া হলেও কুমারগ্রাম ব্লকের তুরতুরি খন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুটিয়া বস্তির বাসিন্দারা প্রতি বছর বর্ষার তিন মাস বাধ্য হন হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকতে। না, কোনো অসুখের ভয়ে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন এ থাকেননা। অপ্রতুল যাতায়াত ব্যবস্থাই তাদের বাধ্য করে গৃহ বন্দী থাকতে।

 

ভারত ভুটান সীমান্তে পাহাড়ের পাদদেশে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ঘন জঙ্গল ঘেরা ও বেশ কয়েকটি নদী বেষ্টিত অত্যন্ত দুর্গম এই ক্ষুদ্র জনপদটির জনসংখ্যা মাত্র তিনশো কয়েকজন। চুনিয়াখোলা, ফাঁসখাওয়া, শ্বেতিখোলা মেচিখোলা, জয়ন্তী নদী এবং বেশ কয়েকটি পাহাড়ি ঝোরা এই জনপদটিকে বেষ্টন করে আছে। বর্ষায় এগুলি ফুলে ফেঁপে হয়ে ওঠে ভয়ংকর। গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে যেতে হলে বাসিন্দাদের পেরোতে হয় বারো কিলোমিটার পথ, যার মধ্যে সাত কিলোমিটার বক্সার ঘন জঙ্গল। এই বস্তি থেকে বাইরে যেতে হলে জঙ্গলের মধ্যেকার পায়ে চলা পথই ভরসা। এই একমাত্র পথে পেরোতে হয় পাহাড়ি ঝোরা সহ বেশ কয়েকটি নদী, বর্ষাকালে যা হয়ে পড়ে অসম্ভব।

 

বাসিন্দারা জানান বর্ষায় প্রতি বছর মেচিখোলা নদীর জল বাড়িতে ঢুকে যায়, নদীতে বাঁধ না হলে পুরো বস্তিটি নদী গর্ভে চলে যাবে। বর্ষাকাল বাদে বছরের বাকী মাস গুলিতে তারা জঙ্গল পথে নদী পেরিয়ে জীবন হাতে নিয়ে যাতায়াত করলেও বর্ষার তিন মাস নদী পেরিয়ে যাতায়াত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। কারন নদী ও ঝোরা গুলো বর্ষায় ফুলে ফেঁপে হয়ে ওঠে ভয়ংকর। তাই বর্ষার আগেই তারা যথা সম্ভব তিনমাসের খাবার মজুত করে রাখার চেষ্টা করেন বলে জানান গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সাজন সোনার। এবছর করোনা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত খাদ্য সামগ্রী সহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য তারা মজুত করতে পারেননি ফলে ভরসা সরকারি রেশন।

 

কিন্তু তা সংগ্রহ করতে হলেও তাদের যেতে হবে সাত কিলোমিটার দুরে চুনিয়াঝোড়া চা বাগানে। এই সাত কিলোমিটার দুর্গম রাস্তা পেরিয়ে রেশন সংগ্রহ করাও সমস্যাজনক। এভাবেই দিন যাপন করছেন এই বস্তির বাসিন্দারা যেখানে উন্নয়ন আজ ও অধরা। কুমারগ্রামের বিডিও মিহির কর্মকার জানান বর্ষায় বস্তিবাসী যাতে সহজেই রেশন পান সে বিষয়ে দ্রুত ভাবনা চিন্তা করবেন।

Related Articles

Back to top button
Close