fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

‘পুনর্মিলন’ এক ফ্রেমে গেহলট-শচীন, আজ বিধানসভায় অনাস্থা প্রস্তাব আনছে বিজেপি

অধিবেশন উপলক্ষে পরস্পরকে টেক্কা দিতে ইতিমধ্যেই যুযুধান কংগ্রেস ও বিজেপি শিবিরের নেতারা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তির হাওয়া, কংগ্রেস শিবিরে ‘পুনর্মিলন’। ক’দিন আগে মরুরাজ্য উত্তাল হয়েছিল এঁদের সংঘাতেই। যে দ্বন্দ্ব মেটাতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে হাইকম্যান্ডের। মাসখানেকের সংঘাত পর্বের পর এই প্রথম মুখোমুখি হলেন অশোক গেহলট এবং শচীন পাইলট। বাড়িতে আয়োজিত কংগ্রেসের বিধায়ক দলের বৈঠকে আসার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে শচীনকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন গেহলট। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে কংগ্রেসের বৈঠকে পাশাপাশি দেখা যায় তাঁদের। করমর্দনও করেন তাঁরা। দীর্ঘ এক মাস বিদ্রোহের পর ঘরে ফিরেছেন শচীন। এদিন সকালে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট বলেন, ”ভুলে গিয়েছি এবং ক্ষমা করেছি।”

বিকেল বৈঠক শুরু হওয়ার অনেক আগেই দলবল নিয়ে পৌঁছে যান শচীন। গেহলটের নিজের শিবিরের বিধায়কেরা তখনও জয়পুরের হোটেল থেকে রওনা হননি! বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আলাদা করে কিছুক্ষণ কথা বলে নেন গেহলট এবং পাইলট। ছিলেন দিল্লির দূত অজয় মাকেন এবং কে সি বেণুগোপালও। আলোচনা শেষে আরও স্পষ্ট হল সংঘর্ষবিরতির বার্তা। গেহলট বললেন, ‘সব ভুলে, সবাইকে ক্ষমা করে এগিয়ে যেতে হবে।’ ক্ষুব্ধ বিধায়কদের উদ্দেশ্যেও বলেন, ‘আপনারা চাইলে পরে আবার আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন।’

শুক্রবার থেকে রাজস্থান বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন শুরু হচ্ছে। আর অধিবেশন উপলক্ষে পরস্পরকে টেক্কা দিতে ইতিমধ্যেই যুযুধান কংগ্রেস ও বিজেপি শিবিরের নেতারা রণকৌশল তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথা জানানো হয়েছে। পাল্টা আস্থা ভোট চাওয়ার হুংকার ছেড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী গেহলটও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মরু রাজ্যের চলতি বিধানসভা অধিবেশন নাটকীয়তায় ভরপুর হতে পারে।

রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী তথা পোড়খাওয়া কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট দলে বড়সড় ভাঙন রুখে দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শচিন পাইলট ও তাঁর অনুগামী বিধায়কদের বিধায়ক পদ খারিজ করে নিজের পথ আরও নিষ্কন্টক করতে বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রকে বাধ্যও করেছিলেন। তবে আচমকাই পট পরিবর্তন ঘটেছে। বিদ্রোহের পথ ছেড়ে ফের দলে সামিল হয়েছেন বাগী পাইলট ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা। ফলে মরু রাজ্যে ফের কংগ্রেস সরকার শক্ত ভিতের উপরে দাঁড়িয়ে। করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন সহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে চলতি অধিবেশনে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও কার্যত তা গৌণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশে একদিনে আক্রান্ত প্রায় ৬৪ হাজার, বাড়ছে করোনাজয়ীর সংখ্যাও

রাজস্থানের সংকটকে ‘বন্ধ অধ্যায়’ বলে আখ্যায়িত করে কংগ্রেস নেতৃত্ব। ফলে বিধানসভায় গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনলেও, বিজেপি’র যুদ্ধ জয়ের আশা কার্যত শেষ। অন্যদিকে, বিদ্রোহে ইতি টেনে রাজস্থানে ফিরে প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মনে কোনও দুঃখ নেই। কোনও দিনই রাজ্য সরকারের অংশ ছিলাম না। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা হিসেবে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলার চেষ্টা করেছি। আমি নিজের জন্য কোনও পদের দাবি করিনি। শুধু নিশ্চিত করতে চেয়েছি, যে বিধায়করা বিরোধিতা ভুলে মূলস্রোতে ফিরছেন, তাঁদের যাতে প্রতিহিংসার শিকার না হতে হয়।”

রাজনৈতিক মহলের নজর থাকছে বিজেপির আনা অনাস্থা প্রস্তাবের দিকেই। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের মতো ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ আদৌ বিজেপিকে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ না দিয়ে নিজেই আস্থা ভোটের মুখোমুখি হবেন। আজ বিধানসভার অধিবেশন শুরু হলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। কংগ্রেসকে বিপাকে ফেলতে বিজেপির সঙ্গে  পরোক্ষে হাত মিলিয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টি সুপ্রিমো মায়াবতী। বৃহস্পতিবার রাতে কংগ্রেসে সামিল হওয়া দলের ছয় বিধায়ককে ফের গেহলট সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার জন্য হুইপ জারি করেছেন।

Related Articles

Back to top button
Close