fbpx
দেশহেডলাইন

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অশোক গেহলট, রাজ্যপালের তিনটি শর্ত নিয়ে আলোচনা

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। শুক্রবার থেকে বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। গত সোমবার রাজস্থানের রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান, বিধানসভার অধিবেশন ডাকতে তিনি রাজি আছেন। কিন্তু সরকারকে তিনটি শর্ত মানতে হবে। একইসঙ্গে তিনি কয়েকটি প্রশ্নও তোলেন। রাজ্যপালের শর্ত ও প্রশ্নগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট। রাজ্যপাল চিঠিতে লিখেছেন, সরকার কি আস্থাভোট নিতে চায়? সেক্ষেত্রে অধিবেশন শুরুর ২১ দিন আগে কি প্রত্যেক বিধায়ককে জানানো উচিত নয়? মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য রাজ্যপালকে লেখা চিঠিতে আস্থাভোটের কথা বলেননি। কিন্তু প্রকাশ্যে তিনি একাধিকবার বলেছেন, বিধানসভার অধিবেশন বসলে সরকারের গরিষ্ঠতা প্রমাণ করবেন। রাজ্যপাল জানতে চেয়েছেন, বিধানসভার অধিবেশন বসলে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা যাবে কীভাবে?

বিধানসভার অধিবেশন ডাকার জন্য গেহলোট দু’বার রাজ্যপালের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রথমবার রাজ্যপাল ছ’টি কারণ দেখিয়ে আবেদন নাকচ করে দেন। তিনি বলেছিলেন, কবে অধিবেশন চান, সেখানে কী আলোচনা হবে, তা মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে উল্লেখ করেননি। সর্বোপরি বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হচ্ছে। এই অবস্থায় অধিবেশন ডাকা সম্ভব নয়। এর পরেই কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টে শচীনদের নিয়ে আবেদন তুলে নেয়। মুখ্যমন্ত্রী দ্বিতীয়বার আবেদন করেন গত শনিবার। তাতে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেন, ৩১ জুলাই থেকে অধিবেশন শুরু হোক। সেখানে করোনা অতিমহামারী নিয়ে আলোচনা হবে। সোমবার সকালে শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বিতীয় আবেদনও নাকচ হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, দলবিরোধী কাজের জন্য সচিন পাইলটকে কংগ্রেস থেকে বরখাস্ত করার পরই মরু রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ ঘিরে দেখা দিয়েছে জট। বিদ্রোহী কংগ্রেস বিধায়কদের দলে আছেন আরও ১৮ জন। এই পরিস্থিতিতে রাজস্থান বিধানসভায় ক্ষমতা দখলের জন্য ঝাঁপিয়েছে বিজেপিও। এদিকে কংগ্রেস শিবিরের অভিযোগ, রাজ্যপাল বিজেপির হাতের পুতুল। বিজেপির অঙ্গুলিলেহনে চলছে। যদিও, কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ খারিজ করে গেহলটকে লেখা চিঠিতে রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্র বল ঠেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের কোর্টেই।

আরও পড়ুন: উপত্যকায় ৩৭০ ধারা ফেরানোর দাবিতে সরব কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

তিনি লিখেছেন, “জনসমক্ষে আপনিই আস্থা ভোটের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আপনার দেওয়া প্রস্তাবে আস্থা ভোটের কোনও উল্লেখ নেই। আপনি কি আস্থা ভোট চান? এই বিশ্বমারী পরিস্থিতিতে এত কম সময়ের মধ্যে সব বিধায়কদের একসঙ্গে ডাকা কঠিন। সেক্ষেত্রে আপনি কি বিধায়কদের ২১ দিনের নোটিস দিতে পারবেন?” পাশাপাশি, অধিবেশন ডাকা-ই হোক বা আস্থা ভোট-ই হোক, বিধানসভা কক্ষের ভিতর কীভাবে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং মানা হবে? তা নিয়েও জানতে চেয়েছেন রাজ্যপাল।

সূত্রে খবর, আস্থাভোট নেওয়ার জন্যই তাড়াহুড়ো করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ধারণা, শচীন পাইলটের শিবিরের যে বিধায়করা এখন হরিয়ানায় আছেন, অধিবেশন শুরু হলে তাঁদের কয়েকজনকে নিজের পক্ষে আনতে পারবেন। ২০০ আসনবিশিষ্ট বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে আছেন ১০২ বিধায়ক। গরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য যতজনের সমর্থন দরকার, তার চেয়ে মাত্র একজন বেশি আছেন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে। অবশ্য তাঁর সমর্থকের সংখ্যা আরও কমতে পারে। কারণ বিএসপি নেত্রী মায়াবতী এদিনই রাজস্থানে তাঁর দলের বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট দেন।

Related Articles

Back to top button
Close