fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

পাইলটের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে স্পিকার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজস্থানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে টানটান নাটক চলছে, তা এবার পৌঁছতে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে। মরুরাজ্যে রাজনৈতিক সংকট চরমে, একদিকে নড়বড়ে গেহলটের গদি, অন্যদিকে বিধায়ক পদ থাকবে কিনা সেই নিয়ে চাপে পাইলট। এবার পাইলটকে চাপে ফেলতে  সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন রাজস্থানের স্পিকার সি পি যোশী। বুধাবার সাংবাদিক বৈঠকে রাজস্থান হাই কোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা ঘোষণা করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তাঁর দাবি, কোনও বিধায়ককের বিরুদ্ধে দল-বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ উঠলে তা খতিয়ে দেখা স্পিকারের সাংবিধানিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। আদালত এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে হাজির না থাকায় শচীন পাইলট ও তাঁর ১৮ জন অনুগামী বিধায়ককে শোকজ নোটিস পাঠান রাজস্থান বিধানসভার স্পিকার সিপি যোশী। জানিয়ে দেওয়া হয় তিনদিনের মধ্যে বৈঠকে গরহাজিরার কারণ না দেখাতে পারলে তাঁদের বিধায়কপদ বাতিল হয়ে যাবে। স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজস্থান হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন পাইলট শিবিরের বিধায়করা। মঙ্গলবার সেই মামলায় আংশিক স্বস্তি পান শচীন পাইলট । পাইলট এবং তাঁর অনুগামী ১৮ জন বিধায়ককে ৩ দিনের রক্ষাকবচ দেয় আদালত। স্পিকার সিপি যোশীকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ২৪ জুলাই পর্যন্ত পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে কোনওরকম ব্যবস্থা নিতে পারবেন না তিনি।

কংগ্রেসের বক্তব্য, শচীন পাইলট এবং তাঁর শিবিরের আরও ১৮ জন বিধায়ক রাজস্থানের অশোক গেহলট সরকারকে ফেলতে ষড়যন্ত্র করেছেন। এমনকি গিরিরাজ সিং মালিঙ্গা নামের এক কংগ্রেস বিধায়ক অভিযোগ করেছেন, পাইলট তাঁকে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য ৩৫ কোটি টাকা অফার করেছিলেন। যদিও এহেন অভিযোগের জন্য তাঁকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন শচীন। সাংবাদিক বৈঠক করে সিপি যোশী জানিয়েছেন, সাংবিধানিক সংকটের জন্যই তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন। তিনি এও বলেছেন, জয়পুর হাইকোর্টের বিচারপতিদের সঙ্গে তাঁর কোনও সংঘাত নেই।

আরও পড়ুন: বিশ্বে মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় কোটির গণ্ডি পার করল

জয়পুর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ মহান্তি এবং বিচারপতি প্রকাশ গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। পাইলটদের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী মুকুল রোহতগি। তিনি বলেন, স্পিকারের এ হেন নোটিস সংবিধানের দশম তফসিলকে লঙ্ঘন করছে। পাল্টা অধ্যক্ষের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, বিধানসভার স্পিকারের অধিকার রয়েছে বিধায়কদের শোকজ করার। সংবিধানই এই অধিকার দিয়েছে স্পিকারকে।

স্পিকার সিপি যোশীর দাবি, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালত তাঁর সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। এভাবে আদালত স্পিকারের অধিকারে হস্তক্ষেপ করা শুরু করলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন,”সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্ট স্পিকারের দায়িত্ব এবং অধিকার নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা আগেই দিয়েছে। স্পিকার হিসেবে আমি একটা অভিযোগ পেয়েছিলাম। সেটা নিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছি। একটা কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছি শুধু। একজন স্পিকার যদি কারণ দর্শানোর নোটিসও না পাঠাতে পারে তাহলে তাঁর কাজটা কী? একজন স্পিকারের পুরোপুরি অধিকার আছে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর। আমি আমার আইনজীবীদের বলেছি সুপ্রিম করতে আবেদন করতে। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টে স্পিকারের হয়ে মামলা লড়বেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিব্বাল।

 

Related Articles

Back to top button
Close