fbpx
কলকাতাহেডলাইন

এখন স্তাবকতার যুগ ফের বিস্ফোরক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্তাবকতা করতে পারলে রাজনীতিই টিকে থাকা যায়। ফের বিস্ফোরক রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার টালিগঞ্জের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি নাম না করে দলের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির মঞ্চকে অনেকেই নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেন। এখন স্তাবকতার যুগ। হ্যাঁ তে হ্যাঁ এবং না তে না বলতে হবে। তবেই আপনার নম্বর বাড়বে।’

যেখানে গত সপ্তাহে হলদিয়ায় তৃণমূলের মিছিলে অংশ গ্রহণ করেছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত বিদ্রোহী বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দেওয়ার জন্যেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে মনে করতে শুরু করেছিলেন, ঠিক তখনই আবার বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির রাজীব। শনিবার দক্ষিণ কলকাতার একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে রাজীব বলেন, ‘আমি সেটা পারি না বলে আমার নম্বর কম।’ উল্লেখ্য এর আগেও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন।

রাজীব মঞ্চ থেকে আরও বিস্ফোরক কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভালো কাজ করতে গেলে পেছন দিক থেকে টেনে ধরে রাখা হচ্ছে। যারা ঠাণ্ডা ঘরে বসে থাকে তারাই সামনের সারিতে আসছে। অথচ যারা মাঠে-ঘাটে কাজ করে তাদের গুরুত্ব নেই। যোগ্যতা নিয়ে কাজ করলেও পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমাকে এসব কষ্ট দেয়, দুঃখ দেয়। রাজনীতিতে যাদের দেখতে চায় না মানুষ, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত তাঁদের অনেকেই আজ সামনের সারিতে।’

রাজীব বলেন, ‘মানুষ রাজনীতি থেকে এই কারণেই বিমুখ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ অনেক আশা করে একজন জনপ্রতিনিধিকে নির্বাচন করেন। তাঁর ওপর ভরসা করেন। কিন্তু কি হচ্ছে সবাই দেখছেন।’ দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে বলেছেন, রাজ্যে কর্মসংস্থান কিভাবে বাড়ছে। লক্ষ লক্ষ ছেলে মেয়ে চাকরি পাচ্ছে। কিন্তু এদিন রাজীব যা বলেছেন তাতে মনে করা হচ্ছে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতাই করেছেন। তিনি বলেন, ‘যারা মানুষকে বোকা ভাবেন তাঁরা মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। মানুষ চরম খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। কর্মসংস্থান নেই, নির্দিষ্ট দিশা নেই, চাকরির জন্য চারদিকে হাহাকার চলছে। কিন্তু আমি ভালোকে খারাপ, আর খারাপকে ভালো বলতে পারি না।’

আরও পড়ুন: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী, আমি তৃণমূলে রয়েছি’ জল্পনা ওড়ালেন মৌসম

বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা চলছে শুভেন্দু অধিকারী আগামীদিনে কি করবেন সেই বিষয়টি নিয়ে। তিনি দল ছাড়ছেন এটা কার্যত পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে সবার কাছে। সেই বিষয় নিয়েও মুখ খুলেছেন রাজীব। তিনি বলেন,’নেতাদের এত ক্ষোভ বিক্ষোভ কেন বাড়ছে সেটা ভাবতে হবে। যত তাড়াতাড়ি ভাবা হবে ততই মঙ্গল।’ শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়লে দলের যে ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং একটা শূন্যতার সৃষ্টি হবে তা তিনি স্পষ্ট ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছেন সভা মঞ্চ থেকে। এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চে থেকে গরিব মানুষদের শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ।

একটা সময় তৃণমূলের সঙ্গে থাকলেও বর্তমানে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বেড়েছে বলেই সকলে মনে করেন। তাই সংগঠকদের পাশাপাশি উপস্থিত মানুষদের উদ্দেশ্য করে রাজীবকে এসব কথা বলতে শোনা গেলেও, সকলেই বুঝতে পারছেন তাঁর নিশানায় কারা কারা রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে তবে কি এবার তিনিও শুভেন্দু অধিকারী মতো বিদ্রোহী হয়ে অন্য দলে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন? রাজনৈতিক মহলে সেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close