fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

শুভেন্দু প্রসঙ্গে বেসুরো রাজিব, এড়িয়ে গেলেন শুভেন্দু-যোগ

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: শুভেন্দু আলাদা, আমি আলাদা। দায় এড়ালেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু প্রসঙ্গে বেসুরো সুর চরিয়ে খারিজ করলেন নন্দিগ্রামের বিধায়কের সঙ্গে যোগ। রাজীব বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী আলাদা, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা। কারও সঙ্গে কারোর তুলনা চলেনা। উনি ওনার কথা বলেছেন। আমি আমার কথা বলেছি।’
 এদিন মান ভাঙাতে রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তৃণমূলের মহা সচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু বৈঠকের নির্যাস নিয়ে জল্পনার অবসান করলেন না কোনও পক্ষই। বরং আরও খানিকটা জল্পনা উস্কে দিলেন বনমন্ত্রী।
বেশ কিছুদিন থেকেই দল বিরোধী সুর শোনা গিয়েছিল রাজীব বাবুর গলায়। এরপরেই তাকে বোঝানোর জন্য উঠে পড়ে লাগে দল। কারণ বিধানসভা নির্বাচনের সময় আরও এক মন্ত্রী দলত্যাগী তা যে দলের জন্য খুব একটা কাজের হবে না তা বলাই বাহুল্য। এদিন রাজীব বাবু বলেন, ‘দলীয় বৈঠকের জন্য এসেছিলাম। আলোচনা হল। প্রয়োজনে পড়ে আবারও আলোচনা হবে।’ তবে দলের সঙ্গে কোনো সমস্যা তৈরি হলে সেই সমস্যা আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার পক্ষেই সওয়াল করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘মনে করি দলের কারোর যদি কোনও সমস্যা তৈরি হয়। তবে তা আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। দলকে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’ আলোচনা কি সন্তোষজনক? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও মিলল না। বললেন, ‘আলোচনা হয়েছে, এটুকুই। এর বেশি কিছু বলার নেই।’ অর্থাৎ রাজীবকে নিয়ে তৃণমূলের অবস্থান অথবা দল নিয়ে রাজীবের মনোভাব কী, এ নিয়ে জল্পনা কার্যত এখনও জিইয়ে রইল।
অন্যদিকে, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টারে ছয়লাপ হয়েছে জেলা সহ শহর কলকাতা। যাতে প্রচারের সৌজন্যে দেখা গেছে ‘ দাদার অনুগামী’ দের। এই বিষয়টিতে অবশ্য বনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘এটা কারা করছে জানি না। যারা করছে তাঁদের নিজেদের ব্যাপার। আমার এই নিয়ে কিছু বলার নেই।’
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষোভ প্রশমনে এদিন বৈঠকে ডাকা হয়েছে। তৃণমূলের ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরকেও। তিনি এদিন বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট নাগাদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন। আর বেলা ১২টা ২০ মিনিট নাগাদ সেখানে হাজির হন রাজীব। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরেই চলে।
নিয়মিত নিজের দফতরে গেলেও কয়েকদিন ধরেই দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছিলেন না রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে একের পর এক বেসুরো মন্তব্য করে গিয়েছেন তিনি। দলের প্রতি ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যে মন্ত্রিত্ব–সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়েছেন। তার পর বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিপাকে পড়েন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এমন সময়েই শুভেন্দুর কায়দায় রাজীবের নামে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফ্লেক্স, পোস্টার পড়ায় জল্পনা বাড়ছিল।

Related Articles

Back to top button
Close