fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

“সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরাতে দু’দেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে’, চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বৈঠক রাজনাথ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কপূর্ব লাদাখে ভারত-চিনের উত্তেজনাপূর্ণ আবহে শুক্রবার মস্কোতে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়েছে। দু’পক্ষই লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর স্থিতাবস্থা জারি রাখার বিষয়ে সহমত হয়েছে। বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে ট্যুইট করেন ‘রক্ষামন্ত্রী’ (প্রতিরক্ষা) রাজনাথ। তিনি জানান, ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের বিষয়বস্তু ছিল লাদাখের উত্তেজনা। কিন্তু, প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কী কথা হল, তার কিছুই জানা যায়নি। দু-জনের কেউই প্রেসের কাছে মুখ খোলেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেছেন যে উভয় পক্ষের নেতাদের ঐকমত্য থেকে গাইডেন্স নেওয়া উচিত। কারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও উন্নতির জন্য সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা অপরিহার্য। এবং পার্থক্যকে বিরোধে পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। তাই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও প্রোটোকল অনুসারে পংগং লেক সহ সমস্ত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার ও উত্তেজনা কমনোর জন্য করার ভারতের সঙ্গে কাজ করা জরুরি ছিল চিনের।” ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এর আগেও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটাতে রাজি ছিল দুদেশেই। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতিতে বদল আসেনি। সীমান্ত সমস্যা মেটাতে এদিনও কোনও রফাসূত্র মেলেনি বলেই খবর।

সূত্রের খবর, বৈঠকে ভারতের তরফে পূর্ব লাদাখে প্যাংগং লেকের দক্ষিণ অংশে ফের নতুন করে চিনা অনুপ্রবেশের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। আলোচনার মধ্যে দিয়েই এই সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার দাবিও তোলে ভারত। ভারতের পূর্বের স্থিতাবস্থা রক্ষার চাপে কার্যত চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী নতিস্বীকার করেন বলেও সূত্রের খবর। যদিও অন্য একটি সূত্রে দাবি, লাদাখে অশান্তির দায় ভারতের ঘাড়েই চাপিয়েছে ড্রাগন। তবে সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে দিতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে সরকারিভাবে কিছুই জানানো হয়নি।

গত কয়েকমাসে ভারত-চিন সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকাসহ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ঘটনার বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোরের সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছন যে বিপুল সংখ্যক সেনা জড়ো করা, তাদের আক্রমণাত্মক আচরণ এবং একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা সহ চিনা সেনাদের পদক্ষেপ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির লঙ্ঘন। রাজনাথ সিং স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ভারতীয় সেনারা সীমান্ত পরিচালনা সম্পর্কে সর্বদা খুব দায়িত্বশীল পন্থা নিয়েছিল, তবে একই সঙ্গে সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তাদের সংকল্প নিয়ে সন্দেহ হওয়া উচিত নয়।”বৈঠক শেষে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, “সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরাতে দুদেশকেই উদ্যোগ নিতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হবে। দ্রুত সীমান্তের পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীকে পূর্বে অবস্থানে ফেরানো প্রয়োজন।”

আরও পড়ুন: ‘ভারত-চিনের সীমান্ত পরিস্থিতি খুব খারাপ’, মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের

বৃহস্পতিবার ভারতের কাছে চিনের তরফে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে, ভারত আদৌ সেই প্রস্তাবে সাড়া দেবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা একটা ছিলই। কারণ, পূর্ব লাদাখে দুই দেশের সৈন্যদের মধ্যে সংঘাত বাধার পর থেকে এর আগে আরও দু-বার চিনা প্রতিরক্ষামন্ত্রক বৈঠকে বসার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু, লাগাতার চিনা আগ্রাসনের কারণে ভারত প্রতিরক্ষা স্তরে বৈঠকে বসতে নারাজ ছিল। তাই আগের দু’টি বৈঠক হয়নি। এ বার সেই সম্ভাবনা প্রবল ছিল। রাজনাথ সিং মস্কোয় যাওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন চিন বা পাকিস্তানের সঙ্গে আলাদা করে কোনও আলোচনায় তিনি বসবেন না। কিন্তু, শুক্রবার সকালেই আভাস মিলেছিল বৈঠক হতে পারে। সেই মতো শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় বৈঠকের সময় চূড়ান্ত হয়। নির্ধারিত সময়ে বৈঠকও হয়েছে।

গত মে মাসে চিনের লালফৌজ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। চিনাসেনার এই আগ্রাসী আচরণের জেরে ১৫ জুন রাতে পূর্ব লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় দু-দেশের সেনাদের মধ্যে সংঘাত বেধে যায়। রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। লালফৌজকেও এই সংঘাতের মাশুল দিতে হয়েছে। কিন্তু, গলওয়ানে কত জন চিনা সেনা মারা গিয়েছেন, তা গোপন করে রেখেছে বেজিং। তবে, আন্তর্জাতিক মিডিয়ার দাবি ভারতের প্রায় দ্বিগুণ সেনা মারা গিয়েছে লালফৌজের। গলওয়ানের এই সংঘাতের পর থেকেই দু-দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যে কোনও সময় যুদ্ধ বেধে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি।

Related Articles

Back to top button
Close