fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণদেশব্লগহেডলাইন

পাকিস্তানে ফের কবে তৈরি হবে রাম মন্দির

আর কে সিনহা: একটি প্রাচীন প্রবাদ রয়েছে যে চোর চুরি ছাড়তে পারে কিন্তু তছরূপ ছাড়তে পারে না। এই উক্তিটি পাকিস্তানের শাসকদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ প্রযোজ্য। তাঁদের মধ্যে উন্নতির কোনও লক্ষণই নেই। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের জন্য সমগ্র বিষয় যখন ত্রস্ত,  তখন পাকিস্তান করোনা-সংক্রমিত রোগিদের চিকিৎসা নিয়ে ততটা উদ্বিগ্ন ছিল না। তাঁরা ভারতীয় মুসলিমদের রাম মন্দির নিয়ে উস্কানি দিচ্ছে। তাঁরা হয়তো ভুলে যাচ্ছে, ভারতীয় মুসলিমরা রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষেই। শেখ আব্দুল্লাও অযোধ্যা গিয়ে ‘কর-সেবা’-র ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণ শুরু হওয়া মাত্রই, পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক একটি টুইটে লিখেছিল ‘সমগ্র বিশ্ব একদিকে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, অন্যদিকে সঙ্ঘ-বিজেপি জোট ভারতে হিন্দুত্বের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যস্ত।’ রাম মন্দির নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তির মোক্ষম জবাবও দিয়েছিল ভারত। ভারত ঠিকই বলেছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে রাম মন্দির নির্মাণের কোনও সম্পর্ক নেই। ভারতে প্রতিটি ধর্মের মানুষকে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। রাম মন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে ভারতীয় মুসলিমরাও অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

ইকবাল রামকে বলেছিলেন ইমাম-এ-হিন্দ

অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের জন্য পাকিস্তানেরও উচিত ভারতকে অভিনন্দন জানানো। কিন্তু, পাকিস্তানও নির্বোধ ও অজ্ঞ দেশ। পাকিস্তানের সর্বাধিক সম্মানিত নায়ক ও বিখ্যাত উর্দু কবি ইকবাল রাম নিয়ে একটি সম্পূর্ণ কবিতা লিখেছিলেন। তাতে রামকে তিনি ইমাম-এ-হিন্দ উল্লেখ করেছিলেন। পাকিস্তানের শাসকরা এই বাস্তবতা সম্পর্কে আদৌ অবগত কি না, তা জানা যায়নি।

স্পষ্টতই যে, পাকিস্তান সরকারের যদি ইকবাল এবং রাম সম্পর্কে তাঁর লেখা কবিতা সম্পর্কে কিছুটাও জ্ঞান থাকত, তাহলে সে দেশে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাম মন্দিরগুলি পুনর্নির্মাণ করত। পাকিস্তানে কী এখনও রয়েছে রাম মন্দির? পাকিস্তান হওয়ার আগেও সেখানে কী কোনও রাম।মন্দির ছিল? আসলে পাকিস্তানে প্রচুর রাম মন্দির ও অন্যান্য মন্দির ছিল। তবে সকলেরই জানা ওই সমস্ত মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে এখনও কিছু মন্দির রয়েছে, সেই মন্দিরগুলির অবস্থা অবশ্য খারাপ।

পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ পঞ্জাবে, বহু খোঁজাখুঁজির পরও একটি মন্দির খুঁজে পাওয়া যাবে না, এমনকি হিন্দুদের খুঁজে পাওয়াও অত্যন্ত মুশকিল। স্বাধীনতার প্রাক্কালে সেখানের জনসংখ্যার প্রায় ৬০ লক্ষ হিন্দু ছিল। প্রতিটি গলি-রাস্তায় অসংখ্য মন্দির ছিল। এখন পঞ্জাবের ছোট শহর, গ্রাম এবং তালুকার কথা তো ছাড়ুন, সেখানকার লাহোর, শিয়ালকোট ও মিয়াওয়ালির মতো শহরেও কোনও মন্দির নেই।

পাকিস্তান বংশোদ্ভূত ঐতিহাসিক ডা. আই আহমেদ বলেছেন, দেশ ভাগের পর পাকিস্তানের পঞ্জাবে সুপরিকল্পিতভাবে সমস্ত মন্দির ও হিন্দুদের বিনাশ করা হয়েছিল। ডা. আই আহমেদ সুইজারল্যান্ডে অধ্যাপনা করেন।

আসলে রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ৯ নভেম্বর ২০১৯-এর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে পাকিস্তান। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি বলেছিলেন, সঙ্ঘ ও মোদি সরকার ভারতে মুসলমানদের দমন করছে। হতাশ করেছেন ইমরান খান।

ইমরান খান নিজের লক্ষ লক্ষ ভারতীয় ভক্তদের হতাশ করেছেন।পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য ভারতকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাগাতার অভিযোগ করেন। তিনি বলেছিলেন, ভারতে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হওয়ার পরে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে ভারত ছাড়তে হবে। একবারে অর্থহীন কথা বলেছেন তিনি। তাঁর এটাও জানা নেই যে, নাগরিকত্ব আইনের কোনও প্রভাবই পড়বে না মুসলিমদের উপর। ভারতে মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এজন্যই ইমরানের উচিত নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে চিন্তিত হওয়া। ইমরানের  বুঝে নেওয়া উচিত, ভারতীয় মুসলিম সমাজ দেশভক্ত এবং ভারতে তাঁরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

ভারতীয় মুসলমানরা সরকারের যতই সমালোচনা করুক না কেন, পাকিস্তানে যেতে তাঁরা মোটেও রাজি নন। ভারতেই তাঁরা অত্যন্ত খুশি। ইমরান খানের দু’ধরনের মানসিকতা নিয়ে হাসি পায়। ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে কুমীরের কান্না কাঁদছে সে। কিন্তু, চিনে মুসলমানদের উপর অত্যাচার নিয়ে কার্যত নীরব। চিনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলমানদের উপর নৃশংসতা চলছে। মুসলমানদের জন্য যা নিষিদ্ধ, সেগুলিও তাঁদের খেতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু, পাকিস্তান নীরব।

চিনে মুসলিমদের উপর অত্যাচার নিয়ে কখনও সরব হয়নি পাকিস্তান। ইমরান খান কী জানেন না জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলিমদের কমিউনিস্ট পার্টির আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। যাঁরা নিজেদের ইসলামিক দেশের নেতা অভিহিত করেন, এই অবস্থা তাঁদের। ভারতীয় মুসলিমদের হয়ে কথা বলা ইমরান খান কেন বাংলাদেশে নারকীয় জীবনযাপনকারী উর্দুভাষী বিহারি মুসলমানদের নাগরিকত্ব দিয়ে ফিরিয়ে নিচ্ছেন না? বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ বিহারি মুসলমান এখনও পর্যন্ত শরণার্থী শিবিরে নারকীয় জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁরা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান সেনাকে সমর্থন করেছিল। এটাই তাঁদের একমাত্র দোষ। এজন্যই বিহারি মুসলিমদের বাংলাদেশে ঘৃণার নজরে দেখা হয়।

১৯৪৭ সালে বিভাজনের সময় বিহার থেকে পূর্ব পাকিস্তানে (এখন বাংলাদেশ) চলে গিয়েছিল তাঁরা। বাংলাদেশ হওয়ার পর বাঙালি মুসলিমরা বিহারি মুসলিমদের ভয়ঙ্করভাবে প্রতারিত করেছে, তাঁরা এখন পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইছে। কিন্তু, ইমরান খান তাঁদের জন্য মোটেও চিন্তিত নয়।

বিষয়টি শুরু হয়েছিল রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তি প্রসঙ্গে। একথাও হয়েছে যে, ইকবাল রামকে ইমাম-এ-হিন্দ আখ্যা দিয়েছিলেন। এটা সেই ইকবাল যাকে পাকিস্তান নিজেদের নায়ক মনে করে। পাকিস্তানের উচিত ওই ইকবালের কথা শুনে রাম মন্দির-সহ অন্যান্য মন্দির, যেগুলি ভেঙে দেওয়া হয়েছে তা মেরামত করা। এছাড়াও পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের যেন মানুষ মনে করে।

(লেখকের মতামত নিজস্ব)

Related Articles

Back to top button
Close