fbpx
দেশহেডলাইন

৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উল্টো সুর! করোনা নয়, করোনিল জ্বর-সর্দির ওষুধ, লাইসেন্সের আবেদনে জানিয়েছিল পতঞ্জলি

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিনে যখন বিশ্বের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা করোনার প্রতিষেধক তৈরি করতে দিনরাত আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেখানে সম্প্রতি পতঞ্জলি দাবি করেছিল যে তাঁরা ওষুধ বানিয়ে ফেলেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে সাড়া পড়ে যায়। তাঁরা দাবি করে, ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে করোনা আক্রান্ত সংকটজনক রোগীও সুস্থ হতে পারে পতঞ্জলির আয়ুর্বেদিক ওষুধ ‘করোনিল’-এর মাধ্যমে। কিন্তু ‌এই ওষুধের জন্য যে লাইসেন্সের আবেদন করা হয়েছে তাতে কোভিড-১৯-এর কথা বলাই নেই। উত্তরাখণ্ডের লাইসেন্স সংক্রান্ত দফতরের এক কর্তা এমনটাই জানিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেছেন, লাইসেন্সের জন্য যে আবেদন পাঠানো হয়েছে তাতে বলা হয়েছে এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বর-সর্দির জন্য উপকারী। আয়ুর্বেদিক ওষুধেই সারবে কোভিড-১৯। এমন দাবি প্রথম থেকেই করে আসছেন রামদেব। এর পরে ওষুধ আবিষ্কারের দাবিও করে তাঁর সংস্থা পতঞ্জলি। সংস্থার পক্ষে সেই ওষুধের নাম দেওয়া হয় ‘করোনিল’। পতঞ্জলির সিইও আচার্য বালকৃষ্ণ সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, এই ওষুধ কোনও করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীকে ৫ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ
সুস্থ করে দেবে। সংস্থা এমনও দাবি করে যে, ক‌রোনা আক্রান্ত হয়ে যেসব রোগী পতঞ্জলির হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁদের উপরে এই ওষুধ প্রয়োগ করে ভাল ফল পাওয়া দিয়েছে। এই ওষুধ মূলত তৈরি তিন ওষধি গুলঞ্চ, তুলসি এবং অশ্বগন্ধা দিয়ে। সকাল ও সন্ধ্যায় দু’বার করোনিল খেলেই করোনা থেকে মুক্তির গ্যারান্টি। এমন দাবি করেন রামদেবেও।

 

 

এদিকে করোনা ঠেকাতে আয়ুর্বেদিক ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ মন্ত্রক। এর পরেই পতঞ্জলির সিইও আচার্য বালকৃষ্ণ ঘোষণা করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে পারে এমন ভেষজ ওষুধের গুণাগুন পরীক্ষা করছেন তাঁরা। বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক উপাদানের মিশ্রণে তৈরি ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়ালও শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন আচার্য বালকৃষ্ণ। জানানো হয়, ওষুধের গবেষণা এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল করেছে পতঞ্জলি রিসার্চ ইউনিট। এই কাজে তাদের পাশে ছিল জয়পুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স। ওষুধ তৈরি করেছে পতঞ্জলির দিব্য ফার্মাসি। গোটা বিশ্ব যখন করোনা ওষুধের খোঁজে রয়েছে তখন পতঞ্জলি একশ শতাংশ সারিয়ে দেবে বলে দাবি করার পর থেকেই নানা প্রশ্ন উঠছিল। এর পরেই আয়ুষ মন্ত্রক পতঞ্জলিকে একটি নোটিস পাঠিয়ে জানায়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ওষুধের উপাদান কী কী তা জানাতে হবে। তিনি যে রোগীদের উপর গবেষণা করেছেন, তার বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে। কোন হাসপাতালে এই পরীক্ষা চলেছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য এই সংস্থা আদৌ সরকারের কাছে নাম লিখিয়েছিল কিনা– সবটাই বিশদে জানতে চেয়েছে কেন্দ্র।

 

 

আয়ুষ মন্ত্রকের তরফ থেকে জারি করা ওই নোটিশে বলা হয়েছে, “এই দাবির সত্যতা এবং এর পেছনে যে বিস্তারিত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা থাকার কথা, সে সম্পর্কে কিছুই জানে না মন্ত্রক।”

Related Articles

Back to top button
Close