fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রামমন্দির ঘিরে গোটা বিশ্বে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে হিন্দুরা!

রক্তিম দাশ, কলকাতাঃ রামমন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে যে উৎসাহ দেখা দিয়েছে তা নিয়ে উল্লসিত বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে অযোধ্যার ভূমি পুজোর প্রসাদ ঘিরেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উন্মাদনা। প্রবাসে থাকা ভারতীয়রা প্রসাদের জন্য যোগাযোগ করছেন। এরই মধ্যে বুধবার রামমন্দিরের প্রসাদ পৌঁছে গেল বাংলাদেশে। রামমন্দির নির্মাণ বিশ্ব জুড়ে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করছে বলে দাবি করেছে ভিএইচপি।

এদিন সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পেট্রাপোলের নোম্যান্স ল্যান্ডে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার মতুয়াতীর্থ ওড়াকান্দির মতুয়া মিশনের পক্ষ থেকে মিন্টু বিশ্বাসের হাতে অযোধ্যার রামমন্দিরের ভূমি পুজোর প্রসাদ তুলে দেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সম্পাদক অমিয় সরকার। কয়েকদিন আগেই অযোধ্যার ভূমিপুজোর জন্য ওড়াকান্দির মতুয়া মন্দিরের জল ও মাটি পাঠানো হয়েছিল অযোধ্যায়। এরপর ঠাকুরনগরে ঠাকুরবাড়িতে যান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রতিনিধিরা। সেখানে তাঁরা হরিচাঁদ ঠাকুর,গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দির এবং পি.আর.  ঠাকুর এবং বড়মার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে তাঁরা অলইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের মহা সংঘাধিপতি মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর এবং যুগ্ম সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুরের হাতে ভূমি পুজোর প্রসাদ তুলে দিলেন। এসময় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকে ডা. অর্চনা মজুমদার, মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক ডা, সুখেন গাইন, মহিতোষ বৈদ্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রের সম্পাদক অমিয় সরকার বলেন, ‘আজ রামমন্দির নির্মাণ ঘিরে বিশ্ব জুড়ে হিন্দুরা জাত-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। বহুবছর পর ভগবান রামের ইচ্ছায় আমরা জাতিভেদ, অস্পৃশ্যতা  ভূলে হিন্দু ধর্মের পতাকা তলে একত্রিত হচ্ছি। এটাই আমাদের হিন্দুত্ববাদী সমাজের প্রকৃত রূপ। বিশ্বের যেকোন প্রান্তে থাকা প্রতিটি হিন্দু এই সমাজের অংশ। এই পথেই হেঁটে আমরা রামরাজ্যে পৌঁছব।  তিনি আরও বলেন, হিন্দু ধর্মের এই বিশ্ব ভ্রাতৃত্বকে আরও দৃঢ় করতে বিভিন্ন দেশে ভূমি পুজোর প্রসাদ যাচ্ছে। ঠিক সেভাবেই আমরা আজ বাংলাদেশের মতুয়াতীর্থ ওড়াকান্দি মন্দিরের প্রতিনিধিদের হাতে এই প্রসাদ তুলে দিলাম। দেশ ভাগ হলেও তাঁরা আমাদের পরিবারেই সদস্য বলে আমরা মনে করি।’

 

ঠাকুরবাড়ির জল ও মাটি দলিত সম্প্রদায়ের বলে রাম মন্দির নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়নি এই প্রচার মিথ্যা বলে অমিয়বাবু বলেন,‘এটা একটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ষড়যন্ত্র। রাম মন্দির নির্মাণের কাজে ঠাকুরবাড়ির পবিত্র মাটি এবং কামনা সাগরের জল ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ভগবান শ্রী রামচন্দ্র কোন জাত পাতের বিধি-নিষেধ মানতেন না। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতেন। এই ধরনের কুরুচিক রটনা ভারতীয় হিন্দু সমাজকে দ্বিধা বিভক্ত করার এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মনে ভগবান শ্রী রাম সমন্ধে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করার জন্য করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তীব্র ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন,‘ মনে রাখতে হবে ভগবান বিষ্ণুর অবতার শ্রীরাম। ঠিক তেমনই হরিচাঁদ ঠাকুর ভগবান বিষ্ণুর পূর্ণ অবতার। তাই এই পবিত্র জল-মাটি অযোধ্যায় শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভিএইচপির পক্ষ থেকে। এবং তা ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ভূমিপুজোয় অনান্য সব তীর্থ থেকে আনা জল এবং মাটির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। মনে রাখতে হবে ট্রাস্টের সঙ্গে ভিএইচপিও যুক্ত।’

অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের মহা সংঘাধিপতি মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর বলেন,‘ হিন্দু ধর্মকে নিয়ে যারা রাজনীতি করছে বা ভুলভাল গুজব ছড়ানো হচ্ছে, এই গুলো ঠিক না। কয়েকদিন আগেই দিল্লিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদর দফতরে সংঘাধিপতি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের হাতে অযোধ্যার ভূমি পুজোর প্রসাদ তুলে দিয়েছিলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের জাতীয় সভাপতি অলোক কুমার। আজ বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতৃবৃন্দ মতুয়া তীর্থ ঠাকুরনগরে এসেছেন। তাঁরা এই পবিত্র ধামে এসে রামন্দিরের ভূমিপুজোর প্রসাদ আমাদের দিলেন। আজ মতুয়া মহাসংঘ এবং সমগ্র মতুয়া সমাজের কাছে খুব আনন্দের দিন।’

Related Articles

Back to top button
Close