fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রানাঘাট পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন হলেন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়

অভিষেক আচার্য, কল্যাণী: রাজ্য সরকার মেয়াদ উত্তীর্ণ পুরসভায় প্রশাসকমন্ডলী নিয়োগ করছে। ইতিমধ্যে রানাঘাট পুরসভায় প্রশাসকমণ্ডলী নিয়োগ করা হয়েছে। প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন হয়েছেন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছেন বিরোধীরা।
পুরসভাগুলিতে চলতি মে মাসের মধ্যেই পুরনির্বাচন হয়ে নতুন বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু করোনার আবহে নির্বাচন হতে না পারায় ক্ষমতাসীন বোর্ডের মেয়াদ না বাড়িয়ে প্রশাসকমণ্ডলী বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুর ও নগরোন্নয়ণ দফতরের তরফে জানানো হয়েছে। বর্তমান পুরবোর্ডের সদস্যদের মধ্যে থেকেই প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য মনোনীত করা হচ্ছে।

২৫ বছরের চেয়ারম্যান ছিলেন পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। এ মাসে মেয়াদ শেষের পর তিনি হয়েছেন প্রাক্তন। এবার তিনিই হলেন প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন। সঙ্গে আরও তিনজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন, বিজয় প্রসাদ মল্লিক, অসিত দত্ত ও কৌশলদেব ব্যানার্জি। যদিও এই বোর্ড গঠন একপেশে বলে দাবি করেছেন রানাঘাটের কংগ্রেস টাউন সভাপতি বিশ্বনাথ সেন। তিনি বলেন, নিজেদের দলবল নিয়েই প্রশাসক তৈরি করা হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সিপিএমের তরফ থেকে দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, এর সমাধান একমাত্র নির্বাচন। দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন দেবাশীষবাবু। বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন যে আর পুর নির্বাচন হচ্ছে না তা স্পষ্ট।

সূত্রের খবর, ১৯৯৫ সালে রানাঘাটের পুরবোর্ড দখল করে কংগ্রেস। পুরপ্রধান হন পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়। তারও পাঁচ বছর আগে থেকেই কাউন্সিলার ছিলেন তিনি। তখন অবশ্য ছিল বামেদের বোর্ড। ২০০৯ সালের শেষের দিকে একাধিক কাউন্সিলার নিয়ে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পার্থসারথীবাবু।

২০১১ সালে হয়েছিলেন তৃণমূলের বিধায়ক। ২০১০ এবং ২০১৫ দু’টি পুরভোটেই রানাঘাট পুরসভা দখল করে তৃণমূল। পুরপ্রধান হন পার্থসারথীবাবু। এর মাঝে পাঁচ বছরের জন্য বিধায়ক। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী শঙ্কর সিংহের কাছে হেরে যান পার্থসারথী। হেরে গেলেও পুরপ্রধান ছিলেন তিনিই । ১৯৯৫ সাল থেকে টানা পঁচিশ বছর। পুরনির্বাচন না হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মে সেখানে প্রশাসক বসতে চলেছে। তবে পুরপ্রধান পদ থেকে সরতে হলেও পার্থসারথীকে প্রশাসক করা হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা ছিলই। অবশেষে তিনিই হলেন প্রশাসক।

এই বিষয়ে বিরোধীদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে পার্থসারথীবাবু বলেন, শহরের সমস্যা নেই বললেই চলে। প্রশাসক হলেও স্বাভাবিক নিয়মেই কাজ চলবে। উন্নয়ন থেমে থাকবে না। এর ফলে পুরসভার কোনো কাজ থমকে যাবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close