fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মুখ্যমন্ত্রী রেট বেধে দেওয়ার পর রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে, রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ মহম্মদ সেলিমের

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি সংলগ্ন রাজগঞ্জ ব্লকে পরপর ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় রাজ্য সরকারের ওপর দায় চাপাল বামফ্রন্ট। শাসক দলের মদতে একের পর এক  ধর্ষণ হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন সিপিএমের বর্ষিয়ান নেতা মহম্মদ সেলিম ও শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য।

রাজগঞ্জ ব্লকে পরপর কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এক নাবালিকা ধর্ষণ করার পর খুন করে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া রাজগঞ্জ ব্লকের  দুই বোনকে ধর্ষণকে অভিযোগ ওঠে।  দুই বোন বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেস্টা করে। এক বোনের মৃত্যু হয়। ইতিমধ্যে রাজগঞ্জ ব্লকের এই সমস্ত ঘটনায় সরব হয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূলসহ বিজেপি। নির্যাতিতা এই পরিবারগুলির সাথে দেখা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়।

এবার সিপিএমের তরফে পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের পাশে থাকার বার্তা জানাতে কলকাতা থেকে ছুটে আসেন বর্ষিয়ান নেতা মহম্মদ সেলিম। বুধবার শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোড অনিল বিশ্বাস ভবন থেকে সিপিএমের বর্ষিয়ান নেতা সেলিম সহ শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য ও বাম নেতৃত্ব রাজগঞ্জের নির্যাতিত দুটি পরিবারের সাথে দেখা করেন। পরিবারগুলির সাথে দেখা করে  একের পর এক ধর্ষনের ঘটনায় মহম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, “গোটা দেশের পাশাপশি মেয়েদের ওপর অপরাধ রাড়ছে আমাদের রাজ্যেও। আমাদের ছোটবেলা পর্যন্ত পরিচিত ছিল যে বিদ্যাসাগরের রামমোহমের রাজ্যে মেয়েদের সম্মান সুরক্ষিত। কিন্তু এখন দুর্ভাগ্যক্রমে গত ১০ বছর থেকে পার্ক স্ট্রিট, কামদুনি ও কাটোয়ায় যখন থেকে মুখ্যমন্ত্রী রেট বেধে দিয়েছেন ও যখন থেকে চাকরী দিয়ে রেপের মামলা তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তখন থেকে এটা বাড়তে আরম্ভ করল।”

তার আরও অভিযোগ, এ রাজ্যে আইনের শাসন নেই, অপরাধীদের বাঁচানোর লোকেরা সরকারে ও পুলিশে বসে আছে, এজন্য এই ঘটনা বাড়ছে।  তিনি বলেন,”আমরা এজন্য এসেছি যাতে পরিবারগুলি বিচার পায়। অপরাধিরা শাস্তি পায়। সরকারে বসা লোক সহ পুলিশ ও দালালরা যাতে আবাস যোজনার একটা ঘর দিয়ে বা কিছু টাকা দিয়ে মিটমাট না করতে পারে।” পাশাপাশি শিলিগুড়ির বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা সবাইকে নিয়ে নির্যাতিত পরিবারদের পাশে থাকব। রাস্তায় দাঁড়িয়ে লড়াই হবে।  পরিবারের ফাঁসির দাবিকে সমর্থন করছি। “

এই ঘটনায় একজন তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর নামে অভিযোগ উঠে এসেছে এবং তাকে এখনও পুলিশ ধরতে পারে নি। সেই প্রসঙ্গে অশোকবাবুর মন্তব্য, “জলপাইগুড়ি জেলার গ্রামে গ্রামে এই ঘটনা ঘটছে পাশাপাশি, মেদিনীপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার প্রত্যেকটি ঘটনার সঙ্গে তৃণমূল জড়িত। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এরা তাদের দলের সম্পদ। তাদের লালন পালন করছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের মন্ত্রীরা নানাভাবে সহযোগিতা করছে। মেয়েদের এখানে কোনও সুরক্ষা নেই উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোনও পার্থক্য আছে বলে মনে হচ্ছে না।”

Related Articles

Back to top button
Close