fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গৃহবধূকে ধর্ষণ ও জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা, গ্রেফতার শ্বশুর ও স্বামী

মিলন পণ্ডা, খেজুরি (পূর্ব মেদিনীপুর):  শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে অমানবিক ভাবে অত্যচারে শিকার হলেন সদ্য বিবাহিত গৃহবধূ। প্রথমে ধর্ষণ ও তারপর জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠলো শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। পণের টাকা পেয়ে গৃহবধূর উপর শারিরিক অত্যাচার চালালো স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ি সদস্যরা।

অভিযোগ, প্রথমে বৌমাকে ধর্ষণ করে শ্বশুর। এমনকি গৃহবধূর উপর প্রাণঘাতী হামলার চালায় শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা। গৃহবধূর বাবার অভিযোগে ভিওিতে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামী ও শ্বশুরকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার রামচক এলাকায়। খেজুরি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা হল স্বামী রাজেশ মণ্ডল ও শ্বশুর তারিনী মণ্ডল। শনিবার অভিযুক্তদের কাঁথি আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের জামিন নাকচ করে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

            আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার মন্ত্রী-নেতাদের বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়: রাণা দাশগুপ্ত

পুলিশ ও স্থানীয় সূএে জানা গেছে, দেড় বছর আগে খেজুরির পিঙ্কি সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় রাজেশ। বিয়ের পর অতিরিক্ত পণের দাবিতে পিঙ্কির উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। সেই কাজে পুরোটা সহযোগিতা করতো স্বামী বলে অভিযোগ। কয়েক দিন আগেই বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে বৌমা পিঙ্কিকে ধর্ষণ করে শ্বশুর তারিনী বলে অভিযোগ। কীর্তিমান শ্বশুরের এই নারকীয় অত্যাচারে কথা স্বামীকে জানালে একথা বিশ্বাস করেনি। লোকলজ্জার কারণে গৃহবধূর বাপের সদস্যদের কিছু জানায়নি। তারপরে থেকেই দুজনের শুরু হয় অশান্তি।  অক্টোবর মাসে গৃহবধূ পিঙ্কি মণ্ডল (২০)-এর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা।

 

নববধূর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভর্তি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন বাপের বাড়ির সদস্যরা। অবস্থার অবনতি হলে অগ্নিদদ্ধা গৃহবধূকে উদ্ধার করে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এখন হাসপাতালে সঙ্কটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানাগে ছে।

 

তমলুক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর বাপের সদস্যদের সব কথা জানায়। নিজের মেয়ের মুখে ঘটনার জানতে পেরে উওেজিত হয়ে পড়েন বাপের বাড়ি সদস্যরা। সুবিচারের আশায় খেজুরি থানায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়। এরপর ৬ নভেম্বর খেজুরি থানার নির্যাতিতার বাপের বাড়ির সদস্যরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে খেজুরি থানার পুলিশ। রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় থেকে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৪৯৮(এ), ৩০৭, ৩৭৬ সহ ভারতীয় দণ্ডবিধি মামলার রুজু করেছে পুলিশ। খেজুরি থানার ওসি সত্যজিৎ চানক বলেন, অভিযোগের ভিওিতে তদন্তে নেমে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যদিও তদন্তে কারণে বেশি কিছু জানাতে রাজী হয়নি পুলিশ।

Related Articles

Back to top button
Close