fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

বিরল কাকাতুয়ার দেখা মিলল মেদিনীপুরে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : লক ডাউনের গেরো মানুষকে আটকে রাখলেও সুদূর অস্ট্রেলিয়ান টিয়াকে আটকে রাখতে পারেনি। বিরল সেই পাখির দর্শন মিলল। করোনায় ভীত, লকডাউনের কর্মহীন সকালে। মেদিনীপুরের এক বহুতল আবাসনের ছাদে দেখা মিলল সেই কাকাতুয়ার মতো দেখতে ককাটেল পাখির।

সকাল ৮ টা নাগাদ, অন্যান্য দিনগুলোর মতো ছাদে যান পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী সায়ন্তন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা ও ছেলে। জামা কাপড় মিলতে গিয়ে দেখেন ছাদের এক দিকের দেওয়ালের উপর বসে রয়েছে এই ককাটেলটি। বিষয়টি নজরে আসায় তিনি তাঁর ছেলে সায়ন্তনকে ডেকে পাঠান। সায়ন্তনবাবু ও তাঁর স্ত্রীও সঙ্গে সঙ্গে ছাদে গিয়ে দেখেন কাকাতুয়ার মতো দেখতে সুন্দর ঝুঁটিওয়ালা একটি পাখি। তাঁরা পাখিটিকে কাকাতুয়া ভেবেছিলেন প্রথমে। পাখিটি অনেকক্ষণ এক‌ই জায়গায় বসে রয়েছে দেখে সায়ন্তনবাবু পাখিটিকে খাওয়ানো চেষ্টা করেন। কিন্তু কাছে যেতেই পাখিটি উড়ে পালিয়ে যায়।

রাজ্যজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতিতে মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগরের বহুতল আবাসন “নির্মল নীড়” এর টপ ফ্লোরে দেখা মেলা অনেকটা সাদা কাকাতুয়ার মতো দেখতে এই ককাটেল পাখিকে ঘিরে পক্ষীপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে। কিভাবে এখানে চলে এলো এই বিরল পাখিটি!

সায়ন্তনবাবু বলেন,”দীর্ঘ দিন রয়েছি এই আবাসনে, অনেকবার ছাদেও আসি। তবে এই ধরনের পাখি কোনদিন নজরে আসেনি। অনেকক্ষণ বসে রয়েছে দেখে ভাবলাম হয়তো পাখিটি ক্ষুধার্ত। তাই কাছে গিয়ে খাবার দেবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উড়ে পালিয়ে গেল।” তিনি আরও জানান, যদি তিনি পাখিটি উদ্ধার করতে পারতেন, তবে সেটিকে তিনি বনদপ্তরের হাতে তুলে দিতেন।

পাখিটির ছবি দেখে বন্যপ্রাণপ্রেমী ফোটোগ্রাফার অরিন্দম দাস বলেন, এটি অষ্ট্রেলিয়ান প্রজাতির একটি টিয়া জাতীয় পাখি। এটির নাম ককাটেল। অরিন্দম দাস ও রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা নরসিংহ দাস বলেন, কাকাতুয়াটিকে দেখে মনে হয় কারো পোষ্য। হয়তো খাঁচা থেকে বেরিয়ে এসে এখানে পৌঁছে গেছে। তবে যাই হোক না কেন, সকাল সকাল এই করোনা আতঙ্কের আবহের মধ্যে এতো সুন্দর শ্বেতশুভ্র পাখি দেখে যে কারোর মন থেকে মৃত্যুভয় উবে যেতে বাধ্য।

Related Articles

Back to top button
Close