fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

রেশন দুর্নীতির অভিযোগ, কড়া ব্যবস্থা রাজ্যের, গ্রেফতার ১৯ জন রেশন ডিলার

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিনামূল্যে রেশন দেওয়া শুরু হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কম রেশন বন্টন, আবার কোথাও নিম্ন মানের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে উঠেছে অভিযোগ। এবার কড়া ব্যবস্থা নিতে মাঠে নামল রাজ্য সরকার। রাজ্য খাদ্য দপ্তর সূ্ত্রে খবর, কেন্দ্রের তরফে যে পরিমাণ চাল বা ডাল আসার কথা, সেই পরিমাণ খাদ্যশস্য আসেনি। ফলে অনেকক্ষেত্রেই চাল, ডাল কম পরিমাণে দিতে হচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকরা তা বুঝতে চাইছেন না। এদিকে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে যে রেশন ডিলাররা দুর্নীতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগে ১৯ জন রেশন ডিলারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি আরও জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ২৭১ জন রেশন ডিলারকে শোকজ করা হয়েছে। আরও ২ জনকে সাসপেন্ড, ৮ জনকে শোকজ ও কয়েকজনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এদিন টেলিফোনে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘সাধারণ মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয় তার জন্য লকডাউনের সময়ে বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই সুযোগে কোনও রেশন ডিলার দুর্নীতি করলে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। দোষ প্রমাণ হলে লাইসেন্সও বাতিল হতে পারে।’ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রেশনে দোকানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে বলেও খাদ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার থেকে রেশনে সামগ্রী দেওয়া শুরু হয়েছে। ডিজিটাল কার্ড যাঁদের রয়েছে তাঁদেরই বিনামূল্যে নির্ধারিত সামগ্রী দেওয়ার কথা ঘোষণা করে রাজ্য সরকার। কিন্তু প্রথম দিনই রেশন নিয়ে অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে নাস্তানাবুদ হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। পরে রেশন বিলিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধুন্ধুমার ঘটে পূর্ব বর্ধমান জেলায়। এদিকে রেশনে সামগ্রী কম দেওয়ায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের সালার। দিনভর রেশন নিয়ে বিক্ষোভে সাক্ষী থাকে বাঁকুড়া, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগণা-সহ একাধিক জেলা। গ্রাহকদের অভিযোগ, সরকার যে পরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল, সেই পরিমাণ পাচ্ছি না। কোথাও চাল দিলে আটা দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও আবার অমিল ডাল। সবমিলিয়ে রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত দুর্নীতির অভিযোগ আনছেন গ্রাহকরা।

আরও পড়ুন: খাদ্য বন্টনে দুর্নীতি, ক্যামেরাবন্দি করায় আক্রান্ত সাংবাদিক

সূত্রের দাবি, যেখানে যেখানে রেশন ডিলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেই সব জায়গায় আপাতত চাল-ডাল বিলির ব্যবস্থা সরাসরি খাদ্য দফতরের অফিসাররা সামলাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্যে রেশন ব্যবস্থায় লকডাউনের সময়ে নানা দুর্নীতি হচ্ছে বলে প্রথম থেকেই অভিযোগ তুলে আসছে বিরোধী দলেরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর পরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিনামূল্যে রেশনের বেশ কিছু ঘোষণা করেছিল। তার পর থেকেই বিরোধীরা বিশেষ করে বিজেপি বারবার অভিযোগ করে যে বহু জায়গায়, রেশন দোকানের পরিবর্তে তৃণমূলের স্থানীয় কার্যালয় থেকে চাল-গম (রেশনের) বিলি হচ্ছে। দুর্নীতি ও মজুতের অভিযোগও তোলা হয়েছিল বারবার। এর পরে রাজ্যের রেশন ব্যবস্থা নিয়ে নিজেও বিরক্ত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে এনিয়ে খাদ্যমন্ত্রীকে ধমক দেওয়া ছাড়াও খাদ্য সচিবের পদ থেকে মনোজ আগরওয়ালকে সরিয়ে দেন। এর পরেও থামেনি রেশন নিয়ে ক্ষোভ। খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য দাবি করেছেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় যে বিক্ষোভ হচ্ছে তার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। কংগ্রেস ও বিজেপি এই কাজ করছে। সাধারণ মানুষের পাশে আছে সরকার। ৯ কোটি ৯৬ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে রেশন দিচ্ছে সরকার। এটা সহ্য হচ্ছে না বিরোধীদের। তবে এটাও ঠিক যে কিছু ডিলার দুর্নীতি করছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।’ মন্ত্রী এদিন এও জানিয়েছেন যে, এবার থেকে কোথাও রেশন দোকানে গোলমাল হলে সামায়িকভাবে রেশন বিলি বন্ধ রাখা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close