fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রেশন দুর্নীতি রুখতে নয়া উদ্যোগ নবান্নের! ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক হবে আধার ও মোবাইল নম্বর 

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: করোনা আবহে রেশন বন্টন নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ এসেছিল প্রকাশ্যে। শাসকদলের ঘনিষ্ঠ না হলে রেশন মিলছে না, এমন অভিযোগও উঠেছিল। পরিস্থিতি সামলাতে খাদ্যসচিবকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার রেশনগ্রহীতারা যাতে আরও সুষ্ঠু ভাবে রেশন পেতে পারেন, তার জন্য ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর সংযুক্তি করণের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন।

খাদ্য দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, এই কাজের জন্য রেশন কার্ড, আধার কার্ড এবং মোবাইল নিয়ে রেশন দোকানে যেতে হবে। ডিলারকে সংযুক্তির জন্য বলা হলে তিনি রেশন দোকানে থাকা ই–পসের সাহায্যে তা করবেন। রাজ্যের সব রেশন দোকানেই এই ই–পস যন্ত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রেশনে জিনিসপত্র বিলির ক্ষেত্রে সেটি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

কিন্তু ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে এই সংযুক্তিকরণে কী সুবিধা হবে? খাদ্য দফতরের দাবি, ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার ও মোবাইল নম্বর সংযুক্তি হয়ে গেলে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তার রেশন তুলতে পারবে না। রেশন গ্রহীতা যখন রেশন দোকান যাবেন, তখন আঙুলের ছাপের সাহায্যে রেশন তোলার অনুমতি দেবেন। অনেক ক্ষেত্রে বয়স্ক মানুষের আঙুলের ছাপ মেলে না। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মোবাইলে ওটিপি আসবে। সেই ওটিপি দিয়ে কাজ সেরে নেওয়া যাবে। এ ব্যাপারে কারও কোনও অসুবিধা হলে খাদ্য দপ্তরের টোল ফ্রি নম্বরে ১৮০০৩৪৫৫৫০৫ এবং ১৯৬৭ তে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

কিন্তু এরপরে যে দুর্নীতি হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা রয়েছে? অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, অনেক রেশন ডিলার এই সংযুক্তিকরণ করতে চান না। কারণ সে ক্ষেত্রে রেশন নিয়ে কালোবাজারের পথ আটকে যাবে। কারণ শুধু ব্যক্তি নয় ওই কার্ডে বরাদ্দের পরিমাণ তখন প্রকাশ্যে চলে আসবে। অনেকে একজন এসে বাড়ির সকলের কার্ড এমনকি মৃত ব্যক্তিদের কার্ডেও রেশন তোলার চেষ্টা করেন।

আবার বাড়ির অসুস্থদের রেশন দোকানে এসে আঙ্গুলের ছাপ দেওয়া সম্ভব নয় আর মোবাইলে ওটিপি এলে সেটা অন্য যে কোনও কারোর পক্ষে বলে দেওয়া সম্ভব। তাই এত সব কিছু করেও রেশন দুর্নীতি আটকানো যাবে কিনা, সে প্রশ্ন উঠেছে খোদ প্রশাসনের অন্দরেই।

Related Articles

Back to top button
Close