fbpx
কলকাতাহেডলাইন

দলে গুরুত্ব কমল রত্নার, শোভনের ‘ঘর ওয়াপসি’র পথকে প্রস্তত করল তৃণমূল

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক:  ২০২১-এর নির্বাচনের আগে রত্নার গুরুত্ব কমে ফের কাননকে ঘরে ফেরার কার্যত শেষ আমন্ত্রণটা এবার পাঠিয়েই রাখল ঘাসফুল শিবির। সৌজন্যে সেই ক্ষমতার কাটছাঁট! তৃণমূল সূত্রে খবর, ২১-এর নির্বাচনকে মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই ঘর গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল। নজরে রয়েছেন ঘরছাড়াদের ফেরানো। কাননের ‘ঘর ওয়াপসি’ পিছনে রত্না-কাঁটা যে প্রথম থেকেই ছিল, তা বিলক্ষণ জানতেন ঘাস ফুলের শীর্ষ নেতা। ভাঙনেও পিছনেও ছিল একই কারণ!  এবার কি সেই লক্ষ্যে আরও একধাপ এগোল তৃণমূল? বাড়ছে জল্পনা। সূত্রে খবর, কাননকে ফেরাতে আরও এক দফায় শোভন-পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ও বেহালা পূর্বের বিধায়ক শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেন। তারপরই তৃণমূলের তরফে তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতা পুরসভার ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আচমকাই সেই সিদ্ধান্ত বদল করল তৃণমূল। ওয়ার্ডের সবরকম সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বিরত থাকার কথা জানিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। কয়েকদিনের মধ্যে ওই ওয়ার্ডের নতুন সভাপতি মনোনীত করা হবে। সাংগঠনিক কাজ থেকে তাঁকে আপাতত বিরত থাকতে বলা হয়েছে বলে খবর। ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শোভনের জায়গা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল দল। এবার কাননকে ঘরে ফারার সুযোগ দিয়ে রত্নার ক্ষমতা খর্ব করা হল?

রত্নার মাথার উপরে ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি পাশের কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনিই গাইড করে দিতেন রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। একটা সময় শোভনের কেন্দ্র বেহালা পূর্বেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল রত্নার উপর। শোভন-বান্ধবী বৈশাখী নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর রাতারাতি রত্নাকে সরিয়ে দেওয়া হয় ওই দায়িত্ব থেকে। যদিও রত্না চট্টোপাধ্যায় জানান, তিনি ওই গুরুদায়িত্ব নিতে চাননি।তিনি রাজনীতিতে নতুন, একই একটা বিধানসভার দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না, তিনি শুধু ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডটাই রাখতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: উত্তর ২৪ পরগনায় সংক্রমণে লাগাম পরানো যাচ্ছে না কেন? প্রশাসনিক আধিকারিকদের প্রশ্ন মমতার

তবে কী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরাকে নিশ্চিত করতেই ডানা ছাঁটা হল রত্নার? এতদিন শোভন আসবে আসবে করেও তৃণমূলে ফিরতে পারেননি। তাঁর জন্যই দুয়ার খুলে দিল তৃণমূল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ। কারণ রত্নার সক্রিয়তায় অসন্তুষ্ট ছিলেন শোভন। কালীঘাটে বিজয়ার প্রণাম সারতে গিয়ে এ বিষয়ে নিজের আপত্তির কথাও দলনেত্রীকে জানান শোভন। অনেকেই মনে করছেন, বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলেই ফিরতে পারেন শোভন। শোভনের ফেরা মসৃণ করতেই রত্নার ডানা ছেঁটে দেওয়া হল কি না, প্রশ্ন উঠছে।

রত্না কিছুদিন আগে জোর দিয়েই বলেছিলেন, শোভনকে ঘরে ফিরতে হবে। তবেই তিনি ফিরবেন তৃণমূলে। রত্নাকে দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে বলায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, শোভন ‘ঘর ওয়াপসি’।

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close