fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রোগীর বিছানায় লাল পিঁপড়ের বাসা! প্রশ্নের মুখে মেদিনীপুরের নামী নার্সিং হোম

তারক হরি, পশ্চিম মেদিনীপুর: এক সংজ্ঞাহীন রোগীর শরীরে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে লাল পিঁপড়ের দল। শহরের নামজাদা বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ রোগীর পরিজনদের। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নার্সিংহোমের সামনে উত্তেজনা শুরু হয়।

সূত্রে খবর গত অক্টোবর মাসের ২ তারিখে মেদিনীপুর শহরের তাঁতিগেড়িয়ার অশোক নগরের বাসিন্দার দোহী সাউকে ভর্তি করা হয় মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগর এলাকার এক নামজাদা বেসরকারি নার্সিংহোমে। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, রাতে তারা যখন রোগীকে দেখতে যায় সে সময়ই তাঁদের নজরে আসে রোগীর বিছানায় ঘুরে বেড়াচ্ছে লাল পিঁপড়ে। এরই মধ্যে অচৈতন্য অবস্থায় শুয়ে আছে রোগী। এর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রীতিমতো বচসায় জড়িয়ে পড়ে রোগীর পরিজনেরা।

রোগীর ছেলে অশোকনগরের বাসিন্দা লক্ষ্মণ সাউ জানান – “মায়ের ব্রেন স্ট্রোক হয়ে ছিল, অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওনাকে ভর্তি করা হয় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে। রাতে যখন মাকে দেখতে যায় সে সময়ই নজরে আসে তাঁর শরীরে পুরো লাল পিঁপড়েতে ভর্তি হয়ে আছে এবং বিভিন্ন জায়গায় কামড় দিচ্ছে। উনি তো অচেতন অবস্থায় আছেন কাজেই বুঝতে পারছেন না, আমরা তৎক্ষণাৎ নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়, ওনারা পরিষ্কার করে দিছি বলে আমাদের ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন, এবং কিছুক্ষণ পর পরিষ্কার করার পরেও আমরা লক্ষ করি কিছু পিঁপড়ে তখনও বেডে ঘুরছে।  ডাক্তারী ট্রিটমেন্ট নিয়ে আমরা কিছু বলছি না, কিন্তু আমাদের কথা হল যে সিসিইউ ইউনিটে যেখানে রোজ আমাদের দৈনিক পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা করে বিল মেটাতে হচ্ছে, সেখানে রোগীর নূন্যতম ট্রিটমেন্ট বা কেয়ার টুকু না পায়, পিঁপড়ের বাসায় রোগীকে থাকতে হয়, কিছু বলার নেই, এই বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।”

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোয় বাজার মাতাবে কালনার করোনা স্পেশাল শাড়ি

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মেদিনীপুর জেলা যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা সমাজসেবী মহম্মদ সইফুল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে তিনিও নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন। রাতে মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে রোগীর পরিজনেরা। অবশ্য গোটা এই বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি নার্সিংহোমে লক্ষ লক্ষ টাকা বিল দিয়েও কেন এভাবে অবহেলার শিকার হতে হবে? প্রশ্ন একটা থেকেই যাচ্ছে রোগীর আত্মীয় পরিজন থেকে জেলার বিশিষ্ট মহলের।

Related Articles

Back to top button
Close