fbpx
কলকাতাহেডলাইন

রেফারেল কোড দিয়েই পাঠাতে হবে অন্য হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের, অ্যাম্বুলেন্স দুর্নীতি ঠেকাতে তৎপর কলকাতা পুরসভা এবং স্বাস্থ্য ভবন

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কোনও নন কোভিড রোগী কোনও হাসপাতাল বা ছোট নার্সিংহোমে ভর্তি থাকাকালীন যদি কোভিডে আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে অন্য কোভিড হাসপাতালে স্থানান্তর করতে গেলে আগের হাসপাতালকেই পরবর্তী হাসপাতালে ওই রোগীর জন্য শয্যা বুক করে দিতে হবে। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায়। এই জটিল পরিস্থিতিতে এদিন জরুরি বৈঠকের ডাক দেন আলাপান বন্দ্যপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভায় এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ, গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি বোর্ডের সদস্য চিকিৎসক চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমার, আইএমএ- র রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কমিশনার জাভেদ শামীম।

পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স দুর্নীতি ঠেকাতে এবার একযোগে তৎপর হলো কলকাতা পুরসভা এবং স্বাস্থ্য ভবন। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর স্বাস্থ্য ভবন এবং কলকাতা পুরসভার নিজস্ব এম্বুলেন্স এর সংখ্যা বাড়ানোর কথা জানালেন কলকাতার নোডাল অফিসার তথা স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপান বন্দ্যপাধ্যায়। পাশাপাশি এখন থেকে অ্যাম্বুলেন্স এর প্রয়োজন হলে পুরসভা নয়তো স্বাস্থ্য ভবনেই ফোন করার পরামর্শ দেন আলাপন বাবু।

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করার মত অভিযোগ তুলছেন রোগীর পরিজনেরা। অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালে শয্যার অভাবে একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে মাঝপথেই মৃত্যু হচ্ছে রোগীর। এদিকে বহু হাসপাতাল শয্যা নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে সংকটাপন্ন রোগীকেও। কিন্তু এবার থেকে হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে থাকাকালীন অবস্থায় কোনো রোগীর যদি করোনা সংক্রমণ হয় সেক্ষেত্রে ওই হাসপাতালেই অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে আগেই শয্যা বুক করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রেফারেল কোড দিয়ে স্থানান্তরিত হাসপাতলে রোগীকে পাঠানো হবে। এবং ওই কোড সে হাসপাতালে গিয়ে বললে রোগী অনায়াসেই ভর্তি হতে পারবেন তার বরাদ্দ শয্যায়।

এদিন এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর আলাপন বাবু জানান, ” কোনও হাসপাতালে কোভিড পজিটিভ রোগী হলে তাঁদের সরকারি বা সরকার অনুমোদিত কোভিড হসপিটালে সুনিশ্চিত শয্যা বুক করে রেফার করতে হবে।” তিনি জানিয়েছেন, করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে তাকে বা তাদের সরকারি রিকুইজিশন দিয়ে কোভিড হাসপাতালে সুনিশ্চিত করা যাবে। সেক্ষেত্রে একটি রেফারেল নম্বর দেওয়া হবে।

রাজ্যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা আছে বলে দাবি করে আলাপন বাবু জানান, ” কোন ছোট হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে কোন ব্যক্তির করোনা পজেটিভ হলে সে ক্ষেত্রে ওই হাসপাতাল বা নার্সিংহোম এর দায়িত্ব স্বাস্থ্য ভবনে ফোন করে কিংবা অন্যান্য হাসপাতালের ফোন করে সহ্য করে তবেই ওই রোগীকে স্থানান্তর করা।”স্বাস্থ্য ভবন এই নন কোভিড হাসপাতাল ও নার্সিংহোম গুলির সাথে কথা বলছে যাতে আগামী দিনে হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এই চঞ্চলতা কমে বলেও জানান আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: রামমন্দির নিয়ে রক্তচাপ বাড়ছে পুলিশের! নবান্নের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রাজ্যের গোয়েন্দারা

সম্প্রতি শহরজুড়ে অ্যাম্বুলেন্স সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠছে। রোগীর পরিজনদের একটা বড় অংশই অভিযোগ করছে মুমূর্ষু রোগী ছাড়াও যেকোনো ক্ষেত্রেই এখন এম্বুলেন্স মিলছে না সহজে। করোনা সংক্রমণের ভয়ে কোন এম্বুলেন্স রোগীকে গাড়িতে তুলতে রাজি হচ্ছে না। যদিও বা কোন এম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে তারা সামান্য দূরত্ব যেতেই ভাড়া হাঁকাচ্ছেন কয়েক হাজার টাকা। যার জেরে নাজেহাল হতে হচ্ছে রোগীর পরিজনদের। এই ধরনের একাধিক অভিযোগ স্বাস্থ্য ভবন তথা রাজ্য সরকারের কাছে আসতেই এবার নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন। এই জটিল পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দুর্নীতি ঠেকাতে এদিন জরুরি বৈঠকের ডাক দেন আলাপান বন্দ্যপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভায় এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক মন্ডলীর সদস্য অতীন ঘোষ, গ্লোবাল অ্যাডভাইজারি বোর্ডের সদস্য চিকিৎসক চিকিৎসক অভিজিৎ চৌধুরী, কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ কুমার, আইএমএ- র রাজ্য সম্পাদক শান্তনু সেন এবং কলকাতা পুলিশের স্পেশাল কমিশনার জাভেদ শামীম।

এদিন স্বরাষ্ট্রসচিব তথা নোডাল অফিসার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “রাস্তা থেকে যেকোনো এম্বুলেন্স ধরে না গিয়ে বরঞ্চ সুনিয়ন্ত্রিত পথে গেলে নিশ্চিত ভাবে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ভবন ও কলকাতা পুরসভার যোগাযোগ করতে হবে।” একই সঙ্গে আলাপন বাবু জানান ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবন এবং কলকাতা পুরসভা নিজেদের এম্বুলেন্স এর সংখ্যা বাড়িয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতা শহরের করোনা আক্রান্ত দের জন্য স্বাস্থ্য ভবনের ১১০টি এম্বুলেন্স এবং কলকাতা পুরসভার ৩০ টিরও বেশী অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে। অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্স কোথায় যাচ্ছে তা নিয়ন্ত্রিত করতে কলকাতা পুরসভার অ্যাম্বুলেন্স গুলিতে জিপিএস সিস্টেম লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি সাপ্লাই আরও বাড়ানো হবে আরো সহজলভ্য হবে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা বলে আশ্বস্ত করলেন স্বরাষ্ট্র সচিব।

এদিন চঞ্চলতা না করে স্বাস্থ্য দফতরের নির্দিষ্ট নম্বর( ১৮০০৩১৩৪৪৪২২২ ) এবং কলকাতা পুরসভার কন্ট্রোলরুমের( ০৩৩-২২৮৬ ১২১২/১৩১৩/১৪১৪) নম্বরে যোগাযোগ করে সুনিয়ন্ত্রিত পথে গেলে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা সঠিক পাওয়া যাবে বলে জানান স্বরাষ্ট্র সচিব।

Related Articles

Back to top button
Close