fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পাথরপ্রতিমায় ত্রাণ বিতরণ তমলুকের সম্প্রীতি সংঘের 

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক: দক্ষিণ ২৪ পরগণার পাথরপ্রতিমায় ত্রাণ পৌঁছে দিল পূর্ব মেদিনীপুরের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সম্প্রীতি সংঘ’। সাইক্লোন আমফানের দাপটে তছনছ হয়ে গেছে সুন্দরবনের বেশিরভাগ দ্বীপের প্রায় সমস্ত কাঁচাবাড়ি। এখানে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে এবং অসংখ্য পানের বোরজ ভেঙে পুরো নষ্ট গিয়েছে। সমুদ্রের নোনা জলে সমস্ত ক্ষেতের ফসল নষ্টও হয়েছে। যার ফলে এখানকার পানচাষীরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি এখন।

সেইসঙ্গে অসংখ্য বিদ্যুতের পোস্ট উপড়ে গিয়ে তার ছিঁড়ে যায়। ফলে কার্যত ২৩ দিন পরেও এই সুন্দরবনের বেশিরভাগ এলাকা আজও বিদ্যুৎহীন অবস্থায়। পানীয় জলের হাহাকার আর সেই সঙ্গে সরকারিভাবে ত্রাণের অপ্রতুলতা, এই দ্বীপভূমির মানুষজনের এখন নিত্যসঙ্গী।

আরও পড়ুন: নিকাশি নালা না থাকায় অল্পতেই জলমগ্ন হলদিবাড়ি শহরের ব্যস্ততম রাস্তা

এমতবস্থায় সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমা ব্লকের দিগম্পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন তিনটি গ্রাম রামনগর আবাদ সংযুক্ত গ্রাম পাথরপ্রতিমায় পৌছে গিয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের শহীদ মাতঙ্গিনী ব্লকের সম্প্রীতি সংঘ। এই সংস্থার সম্পাদক কাশীনাথ গুচ্ছাইত এর নেতৃত্বে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী ১৬০ টি পরিবারের হাতে নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেয়। এদিন ত্রিপল সহ চাল, ডাল, চিঁড়া, সোয়াবিন, মুড়ি, সরিষার তেল, চা, গুঁড়োদুধ, বিস্কুট, সুজি, মোমবাতি, দেশলাই ইত্যাদি মোট ১২ দফা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। দুর্দশাগ্রস্ত এলাকার ৭০ জন ছাত্রছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শিক্ষা সামগ্রী স্কুল ব্যাগ খাতা পেন পেন্সিল, আঁকার রঙ, ড্রইং খাতা, শার্পনার, চকোলেট, বিস্কুট ইত্যাদি। ৩০ জনের ছাত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে কুর্তি, ৪০ জন শিশুকে দেওয়া হয় প্যান্ট ও শার্ট, ৪০ জন বয়স্ক মানুষের হাতে দেওয়া হয় লুঙ্গি আর ৭০ জন মানুষের হাতে একটি করে গেঞ্জি। এলাকার মানুষজন এই ত্রাণ পেয়ে খুশি ও খুবই আনন্দিত।

সংগঠনের সম্পাদক কাশীনাথ গুছাইত বলেন, সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি, দেশ বিদেশে থাকা সংগঠনের শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো আর্থিক সহযোগিতায় এই ত্রাণ তুলে দেওয়া সম্ভব হল। তিনি আরোও জানান, এই এলাকার মানুষজন প্রতি বছর একসময় আমাদের এলাকায় কাজের জন্য আসতেন। তাঁরা আমাদের বাড়িতে থেকে মাঠের ফসল আমাদের ঘরে তুলে দিতেন । আজকে তাঁদের এমন দুর্দশার দিনে একটু ঋণ শোধ করে গেলাম। তাঁদের সংগঠনের এখন লক্ষ্য, এই দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন।

Related Articles

Back to top button
Close