fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মেদিনীপুর থেকে ত্রাণসামগ্রী গেলো বেঙ্গালুরুতে

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : আজ করোনার আক্রমণ বিশ্বজুড়ে। এখানে সবাই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইতালি থেকে ঢাকা, কিংবা সাংহাই থেকে আজারবাইজান — সকলেরই দুর্বিষহ অবস্থা। ফলে কেবল নিজের পরিবার, নিজের পাড়ার কথা ভাবলে আর চলবে না। গোটা বিশ্ব আজ একসূত্রে গাঁথা হয়ে গেছে করোনার তাণ্ডবে। তাই সুদূর বেঙ্গালুরুতে আটকে থাকা ঘরবন্দী মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মহান কাজ করলো মেদিনীপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মেদিনীপুর ডট ইন’। তাঁরা দুর্মূল্য খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিল ২০০০ কিঃমিঃ দূরে বেঙ্গালুরুতে আটকে থাকা মানুষের কাছে। এ এক বিরলতম ঘটনা।

আসলে মেদিনীপুরের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য সারা বছর ধরেই বেঙ্গালুরু যান। তেমনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পাথরা মন্দির খ্যাত হাতিহলকা গ্রামের টিংকু খান, সুধীর পাঠানরা মহিলা ও শিশু সহ মোট দশ জন বেঙ্গালুরুর সাঁইবাবা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গিয়ে আটকে পড়েন। লকডাউনের জন্য বাড়ি ফিরতেই পারছিলেননা তাঁরা। ঘর ভাড়া এবং দৈনন্দিন খাবার খাওয়ার মতো টাকাও শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাঁদের দিন কাটছিল BBMP (Bruhat Bengaluru Mahanagara Palike) -র ক্যান্টিনের খাওয়ার খেয়ে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বেঙ্গালুরু শহরের সমস্ত জায়গায় এই BBMP ই তৈরি করা খাওয়ার বিতরণ করছে। কিন্তু টিংকু খানরা এই খাওয়ার খেতে পারছিলেননা। কারণ তাঁদের বেশির ভাগই গ্যাস্ট্রিক আলসারের সমস্যায় ভুগছেন।

এদিকে ‘মেদিনীপুর ডট ইন’ এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করা হয়েছিলো যে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে থাকা মেদিনীপুরবাসীকে সাহায্য করা হবে। সেই বিজ্ঞপ্তি দেখে কবির পুরস্কারপ্রাপ্ত ইয়াসিন পাঠান যোগাযোগ করেন ‘মেদিনীপুর ডট ইন’ এর সঙ্গে। তিনিই জানান যে, হাতিহলকা গ্রামেরই টিংকু খান, সুধীর পাঠানদের পরিবারের চরম অসুবিধার কথা। সংগঠনের সম্পাদক অরিন্দম ভৌমিক বলেন, “ইতিমধ্যেই আমরা বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধব ও ‘মৈত্রী বন্ধন’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ শুরু করে দিয়েছিলাম। ইয়াসিন বাবুর কাছে খবর পেয়েই ‘মৈত্রী বন্ধন’ এর মাধ্যমে আমরা চাল, ডাল, আঁটা, আলু, পেঁয়াজ, তেল, নুন, বিভিন্ন মসলা, বিস্কুট, চা, সাবান ইত্যাদি পৌঁছে দিই টিংকু খানদের কাছে।”

আরও পড়ুন: পরিযায়ী শ্রমিকরা কোলাঘাট থেকে বাড়ি ফিরল, শুভেচ্ছা জানালো পরিবহন মন্ত্রীকে

এমনকি নিয়মিত সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার টাকাও সরাসরি পাঠাবার জন্য টিংকু খানদের একাউন্টে লিংক করা হয়েছে। যাতে তাঁদের আর্থিক অসুবিধা না হয়। এছাড়াও বাড়ি ফেরার জন্য কর্ণাটক সরকারের অনলাইন ফর্মে টিংকু খানদের নাম নথিভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ‘মেদিনীপুর ডট ইন’ এর পক্ষ থেকে।

মূলত ঝাড়গ্রাম জেলার ঝাড়খন্ড সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম গ্রামগুলির কথা ভেবেই ত্রাণকার্যে নেমেছিল টীম ‘মেদিনীপুর ডট ইন’। জঙ্গলমহলের ওই দুর্গম গ্রামগুলি ছাড়াও সুনিদৃষ্ট তথ্য পেয়ে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এই তিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। কখনো পশ্চিম মেদিনীপুরের শিরোমনি গ্রাম পঞ্চায়েতে। আবার কখনও বা পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্র সংলগ্ন গ্রাম দক্ষিণ-পুরুষোত্তমপুরের খাদ্যসঙ্কটে থাকা মৎস্যজীবী পরিবারগুলির কাছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে যেমন পৌঁছে গিয়েছে ওড়িশার সীমান্তবর্তী ডিহি বীরকুল-পাটনা গ্রামে। তেমনই পৌঁছে গিয়েছে বালিসাই-চাঁদপুর রাস্তার কাজে এসে আটকে পড়া বাঁকুড়া ও মুর্শিদাবাদ থেকে আগত শ্রমিক পরিবারগুলির কাছে। বলতে গেলে এই কোরোনা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ল্যাজেগোবরে হওয়া মানুষের খবর পেলেই ছুটে গিয়েছে ‘মেদিনীপুর ডট ইন’।

এবার মেদিনীপুরের গণ্ডী ছাড়িয়ে বেঙ্গালুরুতে আটকে পড়া মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ালো সংস্থাটি। রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত ইয়াসিন পাঠান বলেন, সত্যিই মহানুভবতার চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এই ‘মেদিনীপুর ডট ইন’। এখন বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষায় সবাই। অরিন্দম ভৌমিক বলেন, এভাবে যদি আমরা সবাই সকলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি, তবে সমাজেরই মঙ্গল। দেশের স্বার্থে আমাদের এইভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

Related Articles

Back to top button
Close