fbpx
ব্লগহেডলাইন

ড. আম্বেদকরের ধর্ম চিন্তা

উতপল বিশ্বাস: ইদানিং বাংলাদেশেও ড. আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬) বেশ আলোচিত হচ্ছে। তবে ভারত বা বাংলাদেশে ড. আম্বেদকর সম্পর্কিত আলোচনায় তাঁর ধর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি অনিবার্য ভাবে জায়গা পায়।

আম্বেদকরের অনুসারীরা এমন ভাবে কথা বলেন তাতে মনে হয় প্রতিটি আম্বেদকরবাদীর বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করা উচিত। আর বিরুদ্ধ পক্ষের লোকের বক্তব্য শুনলে মনে হয় তিনি বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে জঘন্যতম অপরাধ করেছেন এবং এ ধরনের অপরাধীকে নিয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।

এখানে বলে রাখা দরকার আম্বেদকরের মত বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী পৃথিবীতে বিরল। তার রাষ্ট্র চিন্তা, সমাজ দর্শন, ইতিহাস বোধ, অর্থনৈতিক দর্শন, নারী অধিকার ভাবনা এবং হিন্দু মুসলিম সম্পর্ক সম্পর্কে দৃষ্টি ভঙ্গি সমকালীন সব ভারতীয় মহান চিন্তকদের থেকে উচ্চতর ছিলো। দলিত সংগঠনগুলো দাবী করেছে ড. আম্বেদকরের জন্মদিনকে সম্প্রতি জাতি সংঘ Knowledge Day হিসাবে ঘোষনা করেছে। ভারতের মত বহু ভাষা, বহু ধর্ম, নানা জাত-পাতে বিভক্ত, বর্ণ বৈষম্যে দীর্ণ জনসমবায়ের জন্য সংবিধান তার হাত দিয়েই রচিত হয়েছে।

কিন্তু তার ধর্ম পরিবর্তন? এইখানে এসে বিতর্ক জটিল হয়ে ওঠে। একেতো ধর্ম একটি স্পর্শ কাতর বিষয়। যার যার ধর্মের প্রতি সকলের একটু আধটু দূর্বলতা থেকেই যায়। ফলে সাধারণ হিন্দুরা আম্বেদকরের ধর্মান্তরিত হওয়াকে ভালো ভাবে নেন না। আর যারা গোঁড়া হিন্দু তারা এই প্রসঙ্গ তুলে আম্বেদকরকে বাতিল করতে চান। তবে আম্বেদকরের ধর্ম চিন্তা নিয়ে আলোচনা করলে ভারতীয় সংস্কৃতির অনেক বড় সীমাবদ্ধতা সকলের সামনে উন্মোচিত হতে পারেঃ

১. আম্বেদকরের মতো সত্যিকার অর্থে জ্ঞানী কেনো একটা ধর্ম পরিবর্তন করে আর একটা ধর্ম গ্রহনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেন?

২. ১৯৩৬ সালে শিখ ধর্ম গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেনো সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেন?

৩. ১৯৫৬ সালে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করলেন কেনো?

আম্বেদকর জন্ম গ্রহণ করেছিলেন বর্তমান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের মাহার সম্প্রদায়ে ১৮৯১ সালের ১৪ এপ্রিল। ১৮৭২ সালে ব্রিটিশ ভারতে লোক গননায় এক-পঞ্চামাংশ লোকের ভদ্রজনোচিত কোনো পরিচয় পাওয়া যায় নি। তারা ছিলো সমাজে অস্পৃশ্য। মাহারারা সে সময় অস্পৃশ্য হিসাবে চিহ্নিত হয়। মাহারদের সাথে বাংলার নমঃশূদ্রদের তুলনা করা যেতে পারে। নমঃশূদ্ররাও ১৮৭২ সালের লোক গননায় চণ্ডাল নামে অস্পৃশ্য হিসাবে চিহ্নিত হয়।

ড. আম্বেদকরের বাবা রামজী শকপাল মিলিটারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। আম্বেদকরের পড়াশুনার প্রতি রামজী শকপাল খুব খেয়াল রাখতেন। তিনি সুর করে ভারতীয় দুই মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত পড়ে ছেলেকে শুনাতেন। বাবার সুরেলা কণ্ঠের সে পড়া থেকে আম্বেদকর ছেলেবেলা রামায়ণ ও মহাভারত সম্পর্কে বেশ ভালভাবেই জেনেছিলেন।

আম্বেদকরের জীবনীকাররা সকলেই এ বিষয়ে একমত যে শকপাল পরিবার ছিলো জাতপাত বিরোধী চিন্তক সন্ত কবীরের অনুসারী। আম্বেদকরের পিতামহ মালোজী শকপালের সময়ে গ্রামের দেবতার বেদী প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো তাদের বাড়িতে। প্রতি বছর গ্রামের সর্বসাধারণ এখানে এসে জড়ো হতেন এবং শ্রদ্ধা জানাতেন। রামজী শকপাল সমাজবিপ্লবী জ্যোতিরাও ফুলের বন্ধু ও সহযোগী ছিলেন।

এসব থেকে আম্বেদকরের ধর্ম চিন্তার প্রাথমিক ধারনা পাওয়া যায়। ভারতীয় সমাজের ভিতরে বেড়ে ওঠা যে কোনো ব্যক্তির চিন্তায় ধর্ম একটি বিশেষ জায়গা দখল করে থাকে। আম্বেদকর তার ব্যতিক্রম ছিলেন না।

আম্বেদকর প্রথমে হিন্দু ধর্মের সংস্কারের চিন্তা করেছিলেন। ১৯১৬ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে তিনি উপস্থাপন করেন “ভারতীয় বর্ণ ব্যবস্থা : উৎপত্তি, গঠন ও বিকাশ” – যা হিন্দু ধর্ম নিয়ে তাঁর ভাবনার গভীরতাকে নির্দেশ করে। ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন প্রণয়নের আগে সাউথবরো কমিটির সামনে ড. আম্বেদকর অস্পৃশ্যদের জন্য দু’টো বিকল্প দাবী উপস্থাপন করেন :

১। সার্বজনীন ভোটাধিকার। বা
২। পৃথক নির্বাচনের ভিত্তিতে আসন সংরক্ষণ।

তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান মুসলিম ও শিখরা অস্পৃশ্যদের থেকে অনেক অগ্রসর হলেও তাদের জন্য পৃথক নির্বাচন আগে থেকেই স্বীকার করা হয়েছে। তবে ১৯১৯ সালের আইনে অস্পৃশ্যদের জন্য উপরোক্ত বিকল্প দাবী দু’টির একটিও স্বীকার করা হলো না।

## আম্বেদকর মনে করতেন বর্ণ ও জাতপাতের আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক কাঠামো না ভাঙ্গতে পারলে সমতার চিন্তা বৃথা। তাই তিনি সাইমন কমিশন ও লণ্ডন গোলটেবিল বৈঠকে অস্পৃশ্যদের জন্য পৃথক নির্বাচনের উপর জোর দেন। ব্রিটিশ সরকার মেনেও নেন। বাদ সাধেন গান্ধীজী। তাই পুণাচুক্তি।

## জাতপাত তোড়ক মণ্ডলেশ্বর “Annihilation of Caste” শিরোনামে বক্তব্য ছিলো আম্বেদকরের হিন্দু ধর্ম সংস্কারের শেষ প্রচেষ্টা।

# সমাজের আলাদা রাজনৈতিক স্বীকৃতিতে বাধা
# জাতপাত তোড়ক মণ্ডলের সিদ্ধান্ত
# নারীর প্রতি বৈষম্য
# গান্ধীজীর বর্ণব্যবস্থা সমর্থন
# আম্বেদকরের Neo-Buddhism বনাম মতুয়া দর্শন

Related Articles

Back to top button
Close