fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশশিল্প-বাণিজ্যহেডলাইন

বাজারে ‘রিমুভ চায়না’ অ্যাপস, তথ্য হাতানোর নয়া কৌশল, দাবি বিশেষজ্ঞদের

অভীক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: আর প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এবার মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে মোবাইলের তথ্য হাতানোর ছক হ্যাকারদের! দীর্ঘ ২ মাসের লকডাউনে করোনা ভাইরাসের মহামারী সংক্রমণ বিপদগ্রস্ত করেছে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের জীবন থেকে অর্থনীতি। যদিও বিশ্বের প্রথম সারির কয়েকটি দেশ এই মহামারীর পিছনে চিনকে দায়ী করলেও প্রত্যক্ষভাবে কেউই প্রমাণ করতে পারেননি। কিন্তু এর মধ্যেই ‘রিমুভ চায়না অ্যাপস’ নামে একটি নতুন অ্যাপ চলে এল গুগল প্লে স্টোরে, যা মোবাইল থেকে নাকি মুছে দেবে সমস্ত চাইনিজ অ্যাপ।

দেখা গিয়েছে, এক্ষেত্রেও অ্যাপটি আসার তিনদিনের মধ্যেই চিন্তাভাবনা না করেই এক লক্ষের ওপর মানুষ সেটিকে ডাউনলোড করে ব্যবহার করেছেন। অনেকে আবার সগর্বে যুদ্ধজয়ের মতো হোয়্যাটসঅ্যাপে ওই অ্যাপটির লিংক দিয়ে সমস্ত চাইনিজ অ্যাপ মুছে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবি, মহামারীর জন্য চিনের ওপর মানুষের তৈরি রাগকে হাতিয়ার করেই তৈরি হয়েছে এই অ্যাপস। আর এর আড়ালে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যারের মাধ্যমে মানুষের মোবাইলের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার সম্পূর্ণ সম্ভাবনা থাকছে।

প্রসঙ্গত, আরোগ্য সেতু অ্যাপ বাজারে আসার আগেই চলে এসেছিল করোনা ডিটেকশন অ্যাপ। যাতে আশপাশে কে করোনা আক্রান্ত রয়েছেন, তা দেখতে পাবেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু পরে সেটিকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়। সে কিছুদিন আগে ৪২ টি চাইনিজ অ্যাপের তালিকা প্রকাশ করে সেগুলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। কিন্তু অনেক মানুষ তা জানেনই না। ঠিক সেই কারণেই হ্যাকিং করার চেষ্টাতেই তৈরি করা হয়েছে এই অ্যাপসটিকে, এমনই দাবি সাইবার বিশেষজ্ঞদের।

দেখা গিয়েছে, অ্যাপসটিকে মোবাইলে ইনস্টল করার পর সেটিকে সকলের জানা কিছু চাইনিজ অ্যাপ আনইনস্টল করছে, কিন্তু তার লাইট ভার্সনকে ডিলিট করছে না। আবার অনেক অজানা চাইনিজ অ্যাপসকে আগের মতো রেখে দিচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ফোন স্লো হওয়ার অভিযোগ আসছে। অথচ গুগল প্লে তে সবচেয়ে বেশি রেটিং পেয়েছে এই অ্যাপস, যা আজ পর্যন্ত হয়নি। এমনকি সাধারণ গুগল রিভিউয়ের থেকেও রিভিউ বেশি এই অ্যাপসের।

আর এই অস্বাভাবিকতাই নজর কেড়েছে সাইবার বিশেষজ্ঞজের। সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ রাজর্ষি রায়চৌধুরীর কথায়, ‘মানুষের ভয়, আনন্দ আর রাগ এই সমস্ত আবেগকে হাতিয়ার করেই সাধারণত অ্যাপস বানায় হ্যাকাররা। মনে রাখবেন, একমাত্র ‘প্লে প্রোক্টেট’ মার্ক দেওয়া অ্যাপগুলি সাধারণত ভেরিফায়েড ও সুরক্ষিত হয়। গুগল প্লে স্টোরে যে কোনও অ্যাপ তৈরি করে ছাড়া যায়, কিন্তু মানুষ অভিযোগ করলে তবেই সেটি নিষিদ্ধ হয়। তার আগেই বহু মানুষ প্রতারিত হন। তাই আবেগের বশে যে কোনও অ্যাপ ডাউনলোড না করাই উচিত।’

অন্যদিকে, সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই অ্যাপে কোনও মালিক বা সংস্থাগত তথ্য দেওয়া নেই। যে কোনও অ্যাপকে অপছন্দ হলে সরাসরিই আনইনস্টল করা যায়। তার জন্য আবার একটা অ্যাপের কি প্রয়োজন?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় গুগল প্লে স্টোরে যে কোনও অ্যাপকে চালু করার আগে সিকিউরিটি অডিট করে সার্টিফিকেট দিয়ে তবেই চালু করা উচিত। কোনও খুঁত থাকলে সঠিক অ্যাপ ডেভেলপার হলে তিনি ঠিক করে নেবেন। কিন্তু হ্যাকাররা সেটা করবে না আর আটকে যাবে।’ তাঁর কথায়, ‘অ্যাপ ইনস্টল হলেই সে ফোনের কিছু ক্ষেত্রে পারমিশন চাইবেই। আর সেটাই অস্ত্র হ্যাকারদের। তাই আবেগ বা অ্যাডভেঞ্চারের ঝোঁকে নতুন যে কোনও অ্যাপ না ইনস্টল করাই ভাল।’

Related Articles

Back to top button
Close