fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একযোগে অবৈধ বালি পাচার রুখল পূর্ব বর্ধমানের নাখড়া গ্রামের বাসিন্দারা, আটক ৫টি ট্রাক্টর সহ চালক

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দামোদর থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে চলছিল পাচার। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে একজোট হয়ে আসরে নেমে সেই অবৈধ বালির কারবার রুখে দিল গ্রামবাসীরা । ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের নাখড়া এলাকায় । বৈধ চালান না থাকা বালি বোঝাই একাধিক ট্র্যাক্টর আটকে রেখে দিয়ে গ্রামবাসীরা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবিতে স্বোচ্চার হন । খবর পেয়ে সন্ধ্যার মুখে জামালপুর থানার পুলিশ নাখড়া গ্রামে পৌঁছে বালি বোঝাই ৫ টি ট্র্যাক্টর ও তার চালকদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অবৈধ বালির কারবার বন্ধে নাখড়া গ্রামের বাসিন্দারা এইভাবে হঠাৎকরে আন্দোলনে নেমে পড়ায় শঙ্কিত বালির কারবারীরা ।

নাখড়া গ্রামের বাসিন্দা উদয় ঘোষ , সঞ্জয় ধারা এদিন অভিযোগে বলেন, বেরুগ্রাম পঞ্চায়েতের
শম্ভুপুর ঘাট থেকে প্রতিদিন অবৈধ ভাবে বালি তোলা হয়। সেই বালি ৪০০-৫০০ ট্র্যাক্টরে লোড করে সারা দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করা হয়।সব জেনেও নিশ্চুপ থাকে প্রশাসন।

সঞ্জয় ধারা বলেন , আনলক-১পর্ব চালু হওয়ার পর থেকে বেপরোয়া ভাবে বালি পাচার শুরু হয়েছে। এখন বালি বোঝাই ট্র্যাক্টরের দাপটে নাখড়া সহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দারের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা দুরহ হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তে বেপরোয়া ভাবে বালি বোঝাই ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার পড়ুয়ারা ভয়ে প্রাইভেট পড়তে কিংবা স্কুলে যেতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছে। সঞ্জয় ধারা ও উত্তম ঘোষ বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে এদিন গ্রামবাসীরা সবাই মিলে অবৈধ কারবার বন্ধে আশরে নামতে বাধ্য হয়েছে।

অবৈধ বালির কারবার বন্ধে নাখড়া গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এদিন যোগ দেন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সুনীল ধারা। তিনি অভিযোগে বলেন, তাঁর বাড়ি নাখড়া গ্রামেই। তাই তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন দামোদরে শম্ভুপুর ঘাট থেকে অবৈধ ভাবে বালি তুলে ট্র্যাক্টরে লোড করে পাচার করা হয়। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ ট্র্যক্টরে ওই বালি লোড করে পাচার করা হচ্ছে। বেপরোয়াভাবে ট্র্যাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুনীল ধারা বলেন ,এদিন তিনি ও গ্রামবাসীরা মিলে যতগুলি বালি বোঝাই ট্র্যাক্টর আটকেছেন সেইসব ট্র্যাক্টরের কোন চালকই বালির বৈধ চালান দেখাতে পারেনি তা সত্ত্বেও ট্র্যাক্টর ছাড়ানোর জন্য বালির কারবারীরা নাখড়া গ্রামে এসে অশান্তি শুরু করে । সুনীল ধারা দাবি করেন বেরুগ্রাম অঞ্চলে বালি লুঠ হচ্ছে। কিন্তু সরকারের ঘরে কানাকড়িও জমা পড়ছে না । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার যে বালি পাচার হয়ে যাচ্ছে তার রাজস্ব সরকারের ঘরে জমা পড়লে সরকার আরও উন্নয়ন কাজ করতে পারত।

সুনীল ধারা আরও জানিয়েছেন , তাঁদের আটকানো ৫ টি ট্র্যাক্টর ও তার চালকদের আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে। জামালপুর থানার এক অফিসার বলেই এই বিষয়ে স্পেশিফিক কেস করা হবে।

Related Articles

Back to top button
Close