fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীতে তলিয়ে যাওয়া চার গবাদি পশুকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচালেন কালনার বাসিন্দারা

অভিষেক চৌধুরী, কালনা: কচুরি পানায় ভর্তি ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে যাওয়া চার গবাদি পশুকে উদ্ধার করলেন গ্রামবাসীরা। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ওই পশুদের বাঁচাতে পেরে খুশি পূর্ব বর্ধমানের কালনার পুরাতনহাট ও কোম্পানীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা।গরু ও মোষগুলিকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পেরে খুশি তাদের মালিকরাও।

স্থানীয়সূত্রে জানা যায় যে, কালনার পুরাতনহাট গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভাগীরথী নদী। তার চরে জল অল্প জল থাকায় সোমবার বিকেলে বেশ কয়েকটি গবাদি পশু নিয়ে ফিরছিলেন এক মহিলা।বৃষ্টির কারণে ভাগীরথী নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় নদীর স্রোতে অন্যান্য গবাদি পশু পেরিয়ে গেলেও দুটি গরু ও দুটি মোষ কচুরি পানার ভর্তি জলে হারিয়ে যায়।খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায় নি। প্রায় ১৮ ঘন্টা তলিয়ে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে তলিয়ে যাওয়া ওই চার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অনেকেই হাল ছেড়ে দেয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি বেশ কিছু মানুষ। কয়েক ঘন্টা নিজেরা চেষ্টা করে।ওই চার গবাদি পশুকে খোঁজার জন্য ডিঙি নৌকা নিয়ে অভিযান চালায়। তাতে কোন ফল না পাওয়ায় হাট কালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও কালনা মহকুমা শাসকের উদ্যোগে প্রায় ১০ জনের একটি বিপর্যয় মোকাবিলার দল নিখোঁজ ওই গবাদি পশুর সন্ধানে নামে।

এরপর বড় ইঞ্জিন চালিত ভুটভুটি নৌকা নিয়ে পানা ভর্তি নদীতে ওই চার গবাদি পশুকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পরে কোম্পানিডাঙার কুড়ি জন যুবকের একটি দল। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানা ভর্তি নদীতে ১৮ ঘন্টা ধরে আটকে থাকা চার গবাদি পশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া চার গবাদি পশুকে তাদের মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে হাটকালনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাপ্পা মজুমদার বলেন,‘ভাগীরথী নদীতে জল কম থাকায় প্রায় পঞ্চাশটি গরু মোষ নিয়ে যাওয়ার সময় ওই জলের স্রোতে চারটি গবাদি পশু কচুরিপানা থাকা জায়গায় ঢুকে যায়। খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দলকেও গবাদি পশুদের সন্ধানে নামানো হয়। পুরাতনহাট ও কোম্পানিডাঙ্গা এলাকার মানুষজনও তাদের সন্ধানে নামে। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা হয়।’

Related Articles

Back to top button
Close