fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সাড়া ফেললো অতিমারির অতীত বর্তমানের সালতামামি শংকরের নতুন বই ‘ দুঃসময়ের দিনলিপি’

শরণানন্দ দাস, কলকাতা: করোনা আর লকডাউনের জেরে দীর্ঘদিন কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়া দুয়ার এঁটে ঘুমিয়েছিল। সামান্য কিছুদিন হলো বইয়ের দোকানের ঝাঁপ খুললেও পুরনো মেজাজে ফেরেনি বইপাড়া। কিন্তু পাঠক যে বুভুক্ষু ছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেল কথাসাহিত্যিক শঙ্করের নতুন বই ‘ দুঃসময়ের দিনলিপি’ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। প্রকাশক দেজ পাবলিশিংয়ের কর্ণধার সুধাংশু দে জানালেন,’প্রচুর ফোন বইয়ের জন্য। সবে শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। এখনও সব জায়গায় বই পাঠাতে পারিনি।’

কি রয়েছে এই বইয়ে? প্রশ্ন ছিল এই সময়ের অন‌তম শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক শঙ্করের কাছে। ‘ জন অরণ্যের’ লেখক বললেন,’অতিমারি, বিপর্যয় অতীতেও এসেছে, আর বেপরোয়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন সমকালের সেবাব্রতী সন্ন্যাসী সেবিকারা,নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক,প্রতিভাধর বিঞ্জানী ও দূরদর্শী গবেষকরা। তাঁদের দুরদৃষ্টি, সাধনা ও ত্যাগ, প্রতিভাই যুগে যুগে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে।’

বিষয়টা ব্যাখ্যা করে তিনি বললেন, ‘আসলে ঘরবন্দি থাকতে থাকতেই খোঁজ শুরু করলাম অতীতে এমন পরিস্থিতি এসেছিল কিনা? বইপত্র ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম উনিশ শতকে কলকাতায় প্লেগ মহামারী হয়েছিল। আর পুরনো সূত্র খুঁজতে গিয়ে মনে পড়লো শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা। ১৯৬২ নাগাদ আমি কাজের সূত্রে পুণায় যেতাম। তখন উনি পুণায় থাকতেন, আমি ওখানে গেলে ওঁর বাড়িতেই থাকতাম। তখনই উনি চাপেকার ব্রাদার্সের কথা লিখতে বলেন। কিন্তু আমি রাজি হইনি।’
কেন? প্রশ্ন করাতে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক কিছুটা আপশোষের সুরেই বলেন, ‘ সিদ্ধান্তটা ভুল হয়েছিল। তখন সবে আমার ‘ চৌরঙ্গী’ বেরিয়েছে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় পুণার বাড়িতে একদিন আড্ডার ফাঁকে বললেন, ‘পুণেতে একসময় প্লেগের মারাত্মক প্রকোপ হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল টিকা দেওয়ার নাম করে ইংরেজরা ভারতীয়দের উপর ভয়ানক অত্যাচার করতো। চাপেকর ভাইয়েরা এর প্রতিবাদে আন্দোলন করে। চাপেকরদের তিন ভাইয়ের ফাঁসি হয়। তুমি ওদের উপর লেখো।

আর পড়ুন: দিল্লি, মুম্বই সহ দেশের ৬ শহর থেকে কলকাতায় নামবে না কোনও বিমান

শংকর বললেন, ‘ এখন অতিমারির নথি ঘাঁটতে গিয়ে দেখলাম চাপেকর ভাইদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বাল গঙ্গাধর তিলক ওঁদের গীতা পাঠিয়েছিলেন। আর সেই অপরাধে ব্রিটিশ সরকার বাল গঙ্গাধর তিলককে গ্রেফতার করে। কোন আইনজীবী না পেয়ে তিনি তখন অমৃতবাজার পত্রিকার মতিলাল ঘোষকে সব জানান। মতিলাল ঘোষ রবীন্দ্রনাথের শরণাপন্ন হন। কবিগুরু তখন ৩০ হাজার টাকায় পিউ এবং গার্থ নামে দুই ইংরেজ আইনজীবীকে বালগঙ্গাধর তিলকের হয়ে মামলা লড়তে পাঠান।’
কলকাতায় প্লেগ রুখতে রবীন্দ্রনাথ, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, স্বামী অখণ্ডানন্দ সবার প্রসঙ্গ এসেছে এই বইয়ে জানালেন লেখক। পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রে রোনাল্ড রস, কালাজ্বরের প্রতিষেধক তৈরিতে উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারীর প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। ইতিহাস, স্মৃতি চারণ, অতীত অভিজ্ঞতা সব কিছুুর সালতামামি।

Related Articles

Back to top button
Close