fbpx
গুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

জীবন ছন্দে ফিরুক আবার… এই প্রার্থনা নিয়ে পুজো শুরু হল কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: করোনা ভাইরাসের মোকাবিলায় গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া লকডাউন সব কিছুর হিসাব গোলমাল করে দিয়েছে। তার থেকে বাদ যায়নি আসানসোলের অদূরে বাংলা ঝাড়খণ্ড সীমান্তে থাকা ” মা কল্যাণেশ্বরী মন্দির’’। সেই মন্দিরের কাছেই রয়েছে” মাইথন”। সেই মাইথনের ছবিটাও এই লকডাউনে ছিল একই রকম।

বলতে গেলে প্রায় আড়াই মাস বন্ধ থাকার পরে, “আন লক” ১ এর দ্বিতীয় দিন সোমবার ” মা কল্যানেশ্বরী মন্দিরে “র দরজা খুলল। মানব জীবন হোক করোনা ভাইরাস মুক্ত, এই প্রার্থনা নিয়েই মায়ের কাছে পুজো দিলেন এলাকার ব্যবসায়ীরা। সব ধাক্কা সামলে এই মরশুমে মাইথন মুখো হন পর্যটকরা, জমে উঠুক সেখানকার পর্যটন ব্যবসা এই আশা নিয়ে পুজো দিলেন এলাকার মানুষেরা।

স্বাস্থ্য বিধি মেনে সোশাল ডিস্টেন্স বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ও মুখে মাস্ক পরে হয় পুজো। তবে এদিন স্থানীয় হাতগোনা কয়েকজন ভক্তরেই দেখা মেলে মন্দিরে। বাইরের কোনও ভক্ত অবশ্য এদিন মন্দিরে আসেননি।

বলতে গেলে, বছরে আট-ন মাস ভিড় লেগেই থাকে এই কল্যানেশ্বরী মন্দির ও মাইথনে । মাইথনে বেড়াতে এসেছেন, অথচ মায়ের দর্শন করেননি, এমন একটা মানুষেরও খোঁজ মিলবে না। জলাধার বা ড্যামের সঙ্গে জঙ্গল ও পাহাড়ের মেলবন্ধনের গাম্ভীর্য, এখানে ঢেলে সাজানো। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন ছুটিতে পিকনিক । ফেব্রুয়ারি মার্চে পলাশ ও শিমুলকে নিয়ে বসন্ত বা দোল উৎসবের আনন্দ । এপ্রিল থেকে জুনে গরমের ছুটি কাটানো । অক্টোবর নভেম্বরে পুজোর ছুটির মজা।

তবে এবারে লকডাউনের কারণে মার্চ থেকে সবই বন্ধ। বিপাকে পড়েছেন কল্যাণেশ্বরী ও মাইথনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা। কারোর দেখা নেই। ফাঁকা মন্দির চত্বর থেকে মাইথন। সাময়িক ধাক্কা সামলে দোকান খুললেও ক্রেতার দেখা নেই। খাঁ খাঁ করছে পাশাপাশি থাকা একের পর এক হোটেল।

কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে পুরোহিত জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ভক্তদের জন্য এদিন মন্দির খোলা হলেও, লকডাউনের মধ্যে নিয়ম মতো নিত্য পুজো হয়েছে। করোনা ভাইরাস মুক্ত জীবন ও মানুষের কল্যাণ চেয়ে এদিন পুজো হয়। মন্দির এলাকার এক দোকানি বলেন, লকডাউনে মন্দির বন্ধ থাকায় দোকানও ছিল বন্ধ। কোনও ব্যবসাও হয়নি। নতুন আশা নিয়ে মা কে পুজো দিয়ে মন্দির খোলা হল। আশা করি, সব ঠিক হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, মাইথন হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ তেওয়ারি বলেন, এখানে ছুটি কাটানোর জন্য পুজোর বুকিং শুরু হয়ে যায় মে জুন মাস থেকেই। কিন্তু এবার কোনও বুকিং হয়নি। গরমের ছুটি, বাংলার নববর্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবসা হয়নি।
সবারই একটাই প্রশ্ন, কবে হবে স্বাভাবিক অবস্থা। ছন্দে ফিরবে জীবন!

Related Articles

Back to top button
Close