fbpx
অন্যান্যঅফবিটগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

রিক্সা চলেছে মালদার গোবিন্দ মণ্ডলের .. দিল্লি থেকে ১৩৫০ কিমি পেরিয়ে এসেছেন… আর কিছুটা…!!!

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: এখনও বাকি অনেকটা পথ। পা চলছে না আর। কিন্তু ছেলের আর স্ত্রী’র মুখের দিকে তাকালে কোনও কষ্টই আর কষ্ট বলে মনে হয় না মালদার গোবিন্দ মণ্ডলের। ঘরে অভাব তাই দিল্লিতে সেই অভাবের কাজে একটু সুদিন দেখবেন বলে ভিন রাজ্যে পাড়ি গোবিন্দর। দিল্লির লাজপত নগরে মেকানিকের কাজ ছিল তার। ভালোই চলছিল। কিন্তু বাদ সাধল করোনা…।

তখন কি ভেবেছিলেন কি একটা অচেনা, অজানা আতঙ্কের জন্য তাকে আজ এইদিন দেখতে হবে। কিন্তু ফিরতে যে হবেই। তাই ক্ষিদে আর আতঙ্কে দিল্লি থেকে মালদায় ১৫০০ কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে বাড়ি ফিরবেন এই সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন গোবিন্দ। ফেরার আগে দয়ালু মালিক গোবিন্দর হাতে ১৬,০০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে হাত তুলে দিয়েছিলেন। আর বলে দিয়েছিলেন আর এখানে কাজে না আসতে। দেড়মাস কোনও মতে এই টাকায় টেনেটুনে চালাচ্ছিলেন গোবিন্দ। কিন্তু সেই টাকা এসে দাঁড়াল ৫ হাজার টাকায়।

ক্রমশই গোবিন্দ বুঝতে পারছিল, আর এখানে থাকা আর হবে না। আর থাকলে না খেয়ে মরা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তিনি দিল্লির এক ব্যক্তির কাছ থেকে একটা
সেকেন্ড হ্যান্ডরিকশা ৫০০০ টাকায় কিনলেন গোবিন্দ। দাম কিছু কম করার জন্য তাকে জানায় গোবিন্দ। কথা রেখেছিলেন ওই রিকশার মালিক। ২০০ টাকা কমান তিনি। লকডাউনের বাজারে আর কি-ই বা করার ছিল!

সেই ২০০ টাকাই সম্বল। হাতে সেই ২০০ টাকা নিয়ে গোবিন্দ তার স্ত্রী সন্তানকে রিকশায় তুলে দিল্লি থেকে বাংলায় উদ্দেশ্য রওনা দেন। কিন্তু সমস্যা পিছু ছাড়ল না গোবিন্দ’র।

ঘর থেকে বের হওয়ার সে ধাওয়া করল। ব্যাগপত্র নিয়ে কিছুটা রাস্তা যাওয়ার পরে রিক্সা পাংচার হয়ে গেল। এর জন্য এক মেকানিক তাদের কাছ থেকে ১৪০ টাকা নেন।

গোবিন্দের হাতে মাত্র ৬০ টাকা। তবে সাহস হারায়নি গোবিন্দ। কারণ গোবিন্দদের সাহস হারালে চলে না।

পথে ইউপিপুলিশ রাস্তা আটকালো। পিঠে পড়ল দু’চারটে। লাঠিরঘায়ে দুদিন রিকশা টানতে পারেনি গোবিন্দ। তবে তার অবস্থা দেখে একজন সহৃদয় ইউপি পুলিশ তাদের ছোট্ট রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারটিতে গ্যাস ভরিয়ে দেন। কোনও মতে পুলিশকে এড়াতে গ্রাম্যপথ ধরে বেশ কয়েকদিন রিকশা চালিয়ে তারা উত্তরপ্রদেশ পার করে। দুঃস্থদের যেখানে খাবার দেওয়া হচ্ছিল সেটাই খেয়ে, গ্রামের লোকেদের দেওয়া চাল ফুটিয়ে খেয়ে আবার পথ চলা।

এভাবেই সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু এবং স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ১৩৫০ কিলোমিটার রিক্সা চালিয়ে ফেলেছেন মালদার গোবিন্দ মণ্ডল। গত মঙ্গলবার স্ত্রী এবং সাড়ে তিন বছরের বাচ্চা নিয়ে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে পৌঁছন গোবিন্দ। দেওঘরের সিটি থানার কমিউনিটি কিচেনে ক্ষুধায় আক্রান্ত স্ত্রী ও শিশুর খাবার পেয়েছেন।

গোবিন্দ মন্ডল এখনও পর্যন্ত ১৩৫০ কিমি পথ রিকশা চালিয়েছেন। এখনও প্রায় ৩০০কিলোমিটার পথ বাকি আছে। আর তো কিছুটা পথ ও পৌঁছে যাবে গোবিন্দ। প্যাডেলে চাপ দিয়ে চলছে গোবিন্দ’র রিকশা।

Related Articles

Back to top button
Close