fbpx
আন্তর্জাতিকগুরুত্বপূর্ণহেডলাইন

প্রিয় আদিবাসীদের বিষাক্ত তির কেড়ে নিল আদিবাসী বিশেষজ্ঞ রাইলি ফ্রান্সিসকাতোর প্রাণ

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: সহজ, সরল মানুষগুলো জন্য তিনি বার বার ছুটে গিয়েছেন ওদের পাশে দাঁড়াতে। শত বাধা বিপত্তি, এই মানুষটির কাছে ছিল তুচ্ছ। কিন্তু সেই ভালোবাসার মানুষগুলির হাতেই জীবন চলে গেল এক আদিবাসী বিশেষজ্ঞের। আমাজনের জঙ্গলে আদিবাসীদের হাতে বিষাক্ত তিরের ফলায় বিদ্ধ হয়ে প্রাণ চলে গেল আদিবাসী বিশেষজ্ঞ রাইলি ফ্রান্সিসকাতোর। মাত্র ৫৬ বছর বয়সেই চলে যেতে হল তাকে।
আমাজনের জঙ্গলের আদিবাসী মানুষগুলির জন্য কিছু করার তাগিদ নিয়ে বার বার ছুটে গিয়েছেন। তাদের ভাষাও বুঝতেন তিনি।
এর আগে তাদের সঙ্গে সেখানে গিয়ে সময় কাটিয়েছেন তিনি। কিন্তু এবার আর ফিরলেন না রাইলি।

আধুনিক সভ্যতা থেকে কয়েক যোজন দূরে থাকা যে মানুষগুলির যার মন কাঁদত, সেই প্রিয় প্রিয় আদিবাসীদের ছোঁড়া বিষাক্ত তির নিয়ে নিল রাইলি ফ্রান্সিসকাতোর প্রাণ।

‘ব্রাজিলের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রনডোনিয়া রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গহীন জঙ্গলে উপজাতিদের একটি গোষ্ঠীর জন্য আদিবাসী বিষয়ক সংস্থা ফুনাইয়ের কাজ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়েছিলেন রাইলি। সঙ্গে ছিল পুলিশ ও এক আলোকচিত্রী। কিন্তু আচমকাই রাইলির নেতৃত্বাধীন দলের উপরে চড়াও হয় আদিবাসীরা। হাতে বিষাক্ত তির, বল্লম, বর্শার মতো মারাত্মক অস্ত্রও ছিল। আদিবাসীদের এমন হিংস্র রূপ আগে কখনও দেখেননি আদিবাসীদের বন্ধু রাইলি। আক্রমণের মুখে প্রাণ বাঁচাতে পুলিশের একটি গাড়ির পিছনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। আদিবাসীদের ছোঁড়া তির তাঁর বুকে এসে বেঁধে। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক পুলিশ আধিকারিকে কথায় বুক থেকে তিরের ফলা বের করতে সক্ষম হয়েছিলেন রাইলি। কিন্তু ততক্ষণে বিষ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শরীরে। কিনও রকমে ৫০ মিটার দূরে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

রাইলির সঙ্গী আলোকচিত্রী গ্যাব্রিয়েল উচিডা জানিয়েছেন, ‘’কাউটারিও রিভার আইসোলেটেড গ্রুপ’ নামের আদিবাসী গোষ্ঠী প্রথম দিকে শান্তই ছিল। রাইলির সঙ্গে ভালভাবনে কথাও বলছিলেন। কিন্তু আচমকা চার-পাঁচজনের একটা সশস্ত্র দল হামলা চালায়।’
শোকস্তব্ধ আদিবাসীদের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থা সারভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল।

Related Articles

Back to top button
Close