fbpx
হেডলাইন

মাধ্যমিকে সম্ভাব্য ষষ্ঠ শিলিগুড়ি গার্লস স্কুলের ছাত্রী রিঙ্কিনি ঘটক

কৃষ্ণা দাস, শিলিগুড়ি: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে বুধবার প্রকাশিত হল মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। ১৮ ফেব্রুয়ারী পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। আর শেষ হয়েছিল মার্চে।

কিন্তু লকডাউন আর করোনার জেড়ে প্রায় ১৩৯ দিন পর বুধবার প্রকাশিত হল মাধ্যমিকের ফল। অন্যান্যবারের মতো এবারও মাধ্যমিকের ফলাফলে জেলার জয়জয়াকার। শিলিগুড়ি পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের অরবিন্দ পল্লীর ছাত্রী রিঙ্কিনি ঘটক ৬৮৭ নম্বর পেয়ে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে। বরাবর স্কুলে প্রথম নয়ত দ্বিতীয় স্থান পেয়ে রিঙ্কীনি মাধ্যমিকে ভালো ফল করবে তা আশাই করেছিল বাড়ির সকলে। তবে একেবারে রাজ্যের মধ্য ষষ্ঠ স্থান অধিকার, অতটা আশা করেনি রিঙ্কিনি।

 


শিলিগুড়ির হাকিম পাড়ার একটি বেসরকারী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করে রিঙ্কিনি। তখন বরাবর ক্লাসে প্রথম হয়ে এসেছে। এরপর পঞ্চম শ্রেনীতে শিলিগুড়ি গার্লস স্কুলে পড়াশুনা করার সময় কখনও প্রথম আবার কখন দ্বিতীয় স্থানে থেকেছে সে। তবে নবম থেকে দশম শ্রেনীতে ওঠার সময়ও ক্লাসে প্রথম হয়েছে রিঙ্কিনি। এরপর মাধ্যমিকে একেবারে রাজ্যে ষষ্ঠ। এই খবর পাওয়া মাত্রই খুশির আবহ গোটা পরিবারে। বাড়িতে আত্মীয় স্বজনদের আনাগোনা শুরু হয়। চলে মিষ্টি মুখের পালা।

রিঙ্কিনির ঠাকুমা জানায় রিঙ্কিনি খুব শান্ত স্বভাবের। যখন ইচ্ছে পড়াশুনা করে। পড়াশুনার পাশাপাশি আঁকা শেখে সে। তবে গান ও আবৃত্তি করতে ও শুনতে ভীষন পছন্দ। রিঙ্কিনির পিতা স্বর্গীয় হিমাদ্রী ঘটক। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানীতে চাকরী করতেন। রিঙ্কিনির মা ভাস্বতী ভট্টাচার্য ঘটক জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। রিঙ্কিনি তাদের একমাত্র সন্তান। ভাস্বতী দেবী আইন বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করলেও বিয়ের পর সাধারণ গৃহবধূই ছিলেন।

তবে হঠাৎই ২০১৬ সঙ্গে স্বামীর মৃত্যু হলে সংসারের হাল ধরতে তিনি প্র্যাকটিস  শুরু করেন। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশানের তিনি সদস্যা। মা আইনজীবি হলেও মেয়ে কিন্তু রিসার্চ করতে আগ্রহী। তার প্রাপ্ত মোট নম্বর ৬৮৭। বাংলায় ৯৫, ইংরেজিতে ৯৮, অংকে ১০০, পদার্থ বিদ্যায় ৯৮, জীবন বিজ্ঞানে ৯৯, ইতিহাসে ৯৭ ও ভুগোল ১০০নম্বর পেয়েছে সে। তবে মাধ্যমিকে এত ভালো ফল করে আবেগে ভেসে যাননি রিঙ্কিনির মা ভাস্বতী ঘটক। তিনি বলেন মাধ্যমিকে এত বেশি নম্বর পাওয়াটা বড় কথা নয়। নিজের পায়ে দাড়ানোটাই বড়ো বিষয়।

রিঙ্কিনি রিসার্চ করতে পারবে কিনা তা জানা নেই মায়ের তবে তিনি চান বড় হয়ে নিজের পায়ে দাড়াক রিঙ্কিনি।এদিকে তার এই সাফল্যে শিলিগুড়ি পুরসভার প্রশাসক অশোক ভট্টাচার্য হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার কারনে নিজে যেতে না পারলেও রিঙ্কিনিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।

Related Articles

Back to top button
Close