fbpx
অন্যান্যঅফবিটলাইফস্টাইলহেডলাইন

লক্ষ্মীপুজো…

দোয়েল দত্ত: ঠাকুর যাবে বিসর্জন—মা দুর্গার বিসর্জনের পরে এবার মা লক্ষ্মীর আরাধনার পালা বাংলা ও অসমের প্রতিটি ঘরে ঘরে৷ লক্ষ্মীপুজো যে বারোয়ারি পুজো হিসাবেও হয় না এমনটাও নয়, তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে এর ঘরোয়া চেহারাটাই যেন বেশি বেশি করে চোখে পড়ে৷ আশ্বিন মাসের শারদ পূর্ণিমাকে বলা হয় কোজাগরী পূর্ণিমা৷ এইদিনই মা লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয় হিন্দুশাস্ত্র মতে৷ আবার ইতিহাসের সমর্থিত সূত্র জানাচ্ছে, এইদিনই নাকি মা লক্ষ্মীর জন্মদিন৷

লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে অনেক প্রচলিত লোককাহিনি আছে৷ তার মধ্যে অন্যতম হল অলক্ষ্মী বিদায়েরটি৷ প্রাচীনকালে দেশের পূর্ব প্রান্তের প্রদেশে এক রাজা তাঁর সাম্রাজ্যের এক কারিগরকে বলেছিলেন সেই কারিগরের যদি কোনও মূর্তি বাকি থাকে বিক্রি হতে তবে তিনি সেটা কিনে নেবেন৷ কথামতো একটাই মূর্তি বাকি ছিল এবং সেটা অলক্ষ্মীর, বাধ্য হয়ে রাজা সেটাই কিনলেন৷ তারপর থেকে রাজ্যের উপর ঘনিয়ে এল বিপদের কালো মেঘ৷ একের পর এক ক্ষতি হয়ে রাজ্যের অবস্থা যখন বেসামাল, তখন রানিকে কেউ একজন উপদেশ দেন শারদ পূর্ণিমাতে ভক্তিশ্রদ্ধা সহ সমস্ত নিয়ম মেনে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো করতে৷ রানি সেইমতো পুজো করার পরই রাজ্যে আবার সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে আসে৷ সেই থেকেই দেশের পূর্বভাগে কোজাগরী পূর্ণিমার দিন মা লক্ষ্মীর আরাধনার প্রথা প্রচলিত হয়৷

আরও পড়ুন: বছরের প্রথম পর্বত অভিযানে বাংলার তিন এভারেস্টজয়ী, দেবাশিস, সত্যরূপ, মলয়

এদিন সন্ধ্যায় মা লক্ষ্মীর পুজো হয়৷ কথিত আছে, লক্ষ্মীপুজোয় যিনি সারারাত জেগে থাকেন, মা লক্ষ্মীর কৃপা তার উপর বর্ষিত হয়৷ মা লক্ষ্মী সারারাত ঘুরে ঘুরে নাকি গৃহস্থকে জিজ্ঞেস করেন ‘কে জাগ্রতি?’ বাংলায় এর অর্থ হল কে জেগে আছো? তাই অনেকেই চেষ্টা করেন শারদ পূর্ণিমার রাতে জেগে থাকার৷ তাহলে মিললেও মিলে যেতে পারে দেবীর বিশেষ উপহার, গৃহস্থালি ভরে উঠবে সুখ-সমৃদ্ধিতে৷ কেননা মা লক্ষ্মী যে ঐশ্বর্য আর সমৃদ্ধির দেবী৷

লক্ষ্মীপুজোর মূল হল আলপনা, আগে চালের বাটা দিয়ে মা লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ সহ বিভিন্ন নকশার আলপনা তৈরি করা হলেও এখন সকলেই নিজের নিজের সাধ্যমতো বাজার থেকে কিনে আনেন স্টিকার৷ মনে করা হয় ‘ভক্তিভরে যে নারীগণ’ এইভাবে লক্ষ্মীর পা আঁকেন, তার মাধ্য দিয়েই মা লক্ষ্মী নাকি সেই গৃহে প্রবেশ করেন৷ এইভাবে পা আঁকার মধ্য দিয়ে গৃহে মা লক্ষ্মীর আগমন ও অধিষ্ঠানকেই চিহ্নিত করা হয়৷ এছাড়া পদ্মফুল, গাঁদারমালা, আখ, মিষ্টি, পান, সুপুরি, নারকেল, কলা, পান, খই, মুড়কি, নাড়ু, মোয়া ব্যতীত পুজো অসম্পূর্ণ৷

আর তার সঙ্গে অন্যান্য সব পুজোয় প্রয়োজনীয় সাধারণ উপাদানগুলি তো আছেই৷ কোথাও মূর্তি এনে, কোথাও সরার লক্ষ্মীতে পুজো সারা হয়৷ আর ভোগ হিসাবে চিরাচরিত প্রথায় চলে আসছে খিচুড়ি, পাঁচমিশেলি তরকারি, লুচি, বেগুনভাজা, খেজুর-আমসত্ত্বের চাটনি, পায়েস৷

এ বছরের লক্ষ্মীপুজোর সময়সূচী…
৩০ অক্টোবর বিকেল ৫.১৯ থেকে ৩১ অক্টোবর সন্ধে ৭.২৭ মিনিট পর্যন্ত

Related Articles

Back to top button
Close