fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

হারিয়ে যাচ্ছে নদীয়ালী মাছ, বিপাকে মৎস্যজীবী সম্প্রদায়

সুকুমার রঞ্জন সরকার, কুমারগ্রাম: রাতভর নৌকা চালিয়ে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে সাত সকালে সেই মাছ বাজারে বিক্রী করে পরিবারের মুখে অন্ন যোগানো মৎস্যজীবী সম্প্রদায় আজ বিপাকে। নদীয়ালি মাছ কমে যাওয়ায় নদী নির্ভর পেশায় আর তারা আস্থা রাখতে পারছেন না।

 

ডুয়ার্সের নদীগুলোতে বছর তিনেক আগেও পাওয়া যেত প্রচুর পরিমানে নদীয়ালি মাছ। পুঁটি, চাঁদা, বোয়াল, খলসে, বালিচাটা, বেলে, খয়রা, বাম, ঘুলসা আরও কত নামের মাছ। রায়ডাকের বোরোলি মাছের নাম তো সবার মুখে মুখে। এখন জলের রুপোলী শস্যের আকাল দেখা দিয়েছে। রাতভর জাল ফেলে কেউ এক কেজি কখনো দুই কেজির বেশি মাছ ধরতে পারছেননা বলে জানান কুমারগ্রাম ব্লকের লস্করপাড়া, রাধানগর , চেংমারী, নারারথলি সহ বিভিন্ন এলাকার মমৎস্যজীবিরা।

 

তাঁরা বলেন, নদীতে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। চার পাঁচ জন মিলে রাতভর নৌকা চালিয়ে নদীতে জাল ফেলে সামান্য পরিমান মাছ নিয়ে বাজারে বিক্রী করে ভাগে যে টাকা পাওয়া যায় তাতে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তাঁরা আরও বলেন নদীয়ালি মাছের আকাল দেখে নবীন প্রজন্ম মাছ ধরার বংশগত পেশায় আসতে চাইছেনা। তারা কাজের সন্ধানে পাড়ি দিচ্ছে ভিন রাজ্যে। নদীয়ালি মাছ কেন কমে যাচ্ছে জানতে চাইলে কুমারগ্রাম ব্লক মৎস্য আধিকারিক দেবজিৎ কর জানান এর প্রধান কারণ পলি পড়ে নদীখাত ভরে যাওয়া। নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় মাছেদের স্বাভাবিক প্রজনন বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এরপর রয়েছে জমিতে কীটনাশক ব্যবহার, জমি ধৌত কীটনাশক নদীর জলে মিশে জলদূষণ ঘটানোয় মাছেরা মারা যাচ্ছে।

 

 

পাশাপাশি নদীতে বিষ প্রয়োগ ও ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে মাছ মারা এবং মশারী জাল ব্যবহার করে মাছ ধরা ও নদীয়ালি মাছেদের বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। তিনি জানান প্রতিনিয়ত প্রচারের জেরে এখন মশারী জালের ব্যবহার বন্ধ হয়েছে। নদীতে বিষ প্রয়োগের ফলে মাছেদের ডিম নষ্ট হয়ে যায় সেকারণে মাছের পোনার জন্ম হচ্ছেনা। নদীয়ালি মাছের বিলুপ্তি ঠেকাতে মৎস্য দপ্তর বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মানুষ যদি এখনও সচেতন না হয় তবে সেদিনের আর দেরী নেই যেদিন মাছে ভাতে বাঙ্গালী নদীয়ালি মাছের জন্য হাপিত্যেশ করবে।

Related Articles

Back to top button
Close