fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

নদীতে জল বেড়ে প্লাবিত দিনহাটার জারিধরলা ও দরিবস গ্রাম

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা: নদীতে জল বেড়ে জলমগ্ন সীমান্তঘেঁষা দিনহাটা ১ ব্লকের গীতালদহের জারিধরলা ও দরিবস গ্রাম। এই দুই গ্রামে প্রতিবছর হয় বন্যা না হয় নদীর জলে প্লাবিত হয়ে পড়ে গ্রাম। প্রতিবছরই ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় গ্রামবাসীদের। দুঃখের এই সময় ঠিকমত খাবারটুকুও পাওয়া যায়না। বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই দুই গ্রামে প্রায় সাত হাজার মানুষ বসবাস করে থাকে।

ওই বছরও দিন দশেক আগে বৃষ্টির জল ও নদীর জল একসাথে বেড়ে যাওয়ায় গ্রামে প্লাবন দেখা যায়। প্রতিবছর বৃষ্টি ও বন্যায় বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা ভারতের এই দুই গ্রাম বন্যা প্লাবিত হয়ে পড়লেও আজও স্থায়ী কোনও সমাধান মেলেনি। এই দুই গ্রামে সরকারি সাহায্য সেভাবে না মেলায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। ব্লক প্রশাসন সূত্রে অবশ্য জানা গিয়েছে জল প্লাবিত ওই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের পরিবার পিছু একটি করে ত্রিপল ছাড়াও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। তাদের যাতে কোন অসুবিধা না হয় তার জন্য সীমান্তে পহরারত বিএসএফের সাথে ও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

গীতালদহ গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে দিন কয়েক আগে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা এই দুই গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ে। ফের নদীর জল বেড়ে আবারও নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে গ্রাম দুটি। বাড়িতে জল ঢোকার পাশাপাশি কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের কারো কারো বাড়িতে নিজেদের শোবার ঘরে খাটের উপরে রান্নার গ্যাস নিয়ে রান্না করে কোন রকমে দিন কাটাতে হচ্ছে।

জারিধরলা ও দরিবস গ্রামের বাসিন্দাদের রতন বর্মন, আলাউদ্দিন মিয়া, নবীন বর্মন, দিলীপ বর্মন, আক্কাস মিয়া প্রমুখ বলেন যে, দিন দশেক আগে ও একটানা বৃষ্টির ফলে নদীর জল বেড়ে তাদের গ্রামে ঢুকে পড়ে। ফের দশ দিনের মাথায় এবার নদীর জল বেড়ে নতুন করে প্লাবিত হয়ে ভয়ানক অবস্থা ধারণ করে তাদের দুই গ্রাম। সরকারি সহযোগিতা সেভাবে না মেলায় তাদের না না কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। পাট ও ভুট্টা চাষের উপর নির্ভরশীল এই দুই গ্রামে ফের বন্যায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলেও গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে।

গীতালদহ দুই গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মনসুর আলী মিঞা বলেন তাদের এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের গীতালদহ বাজারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। বর্ষায় নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীর জল বেড়ে এই দুই গ্রাম প্রতিবছরই প্লাবিত হয়ে পড়ে। এবছর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়বার এই দুই গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়ল। সরকারিভাবে এখনও সেখানে সেভাবে সাহায্য মেলেনি বলেও তার অভিযোগ।

ওই দুই গ্রাম পরপর দুইবার জল প্লাবিত হয়ে পড়ায় পাটের ব্যাপক ক্ষতি হল বলেও তিনি জানান। বন্যায় ফসলের ক্ষতির বিষয়টি কৃষি দফতরকে যেমন জানান হয়েছে তেমনি জল প্লাবিত এলাকার মানুষকে সরকারিভাবে সাহায্যের জন্য ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন জানান হয়েছে। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে এলাকায় নদীর জলে প্লাবিত হয়ে পাটের কতটা ক্ষতি হয়েছে তার পরিসংখ্যান নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা ১ ব্লকের বিডিও সৌভিক চন্দ বলেন, দিন দশেক আগে বৃষ্টি ও নদীর জল বেড়ে যখন ওই দুই গ্রাম জল প্লাবিত হয়ে পড়ে তখন যেমন বাসিন্দাদের সাহায্য করা হয় তেমনি নতুন করে নদীর জল বেড়ে এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ায় বাসিন্দাদের ত্রিপল থেকে শুরু করে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানো হয়।

Related Articles

Back to top button
Close