fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

ভাতারের বেলডাঙ্গা গ্রামে চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কার, চাঁদা তুলে নালা সংস্কার ভাতার বাজারের ব্যাবসায়ীদের

দিব্যেন্দু রায়,ভাতার:  দীর্ঘ দিন ধরে গ্রামের রাস্তা বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে । সংস্কারের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি । এদিকে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টিপাত হচ্ছে । ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিল । শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে চাঁদা তুলে গ্রামের রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করলেন ভাতার থানা এলাকার বেলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা । মঙ্গলবার দেখা গেল চাঁদার টাকায় কেনা ভাঙা ইঁট ফেলা হচ্ছে বেলডাঙ্গা গ্রামে ঢোকার মুল রাস্তাটিতে । গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে এই কাজ করছেন । অন্যদিকে একই ভাবে চাঁদা তুলে নিকাশি নালা সংস্কারের কাজ করলেন ভাতার বাজারে হকার্স মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকার ব্যাবসায়ীরা ।

ভাতার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বেলডাঙ্গা গ্রামে চার’শর অধিক পরিবার রয়েছে। অধিকাংশই মানুষ কৃষিকাজ গোপালন পেশার সঙ্গে যুক্ত। গ্রামে ঢোকার মুল রাস্তাটি ভাতার সামন্তী সড়কপথে গিয়ে মিশেছে । গ্রামবাসীদের অভিযোগ,বিগত বামফ্রন্ট সরকারের শেষের দিকে রাস্তায় মোড়াম ফেলা হয়েছিল । তারপর থেকে আর রাস্তা সংস্কারের কাজ হয়নি। প্রবোধ ঘোষাল গ্রামবাসী দেবাশীষ দেয়াসী, ছোট্টু প্রামানিকরা বলেন, ‘দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাতে বড়বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে বর্ষার বৃষ্টিপাতের জল জমে যাওয়ায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ছিল । তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেছি ।’ তাঁদের অভিযোগ,’বর্ষায় এরকম পরিস্থিতি হবে জেনে বহু আগে থেকেই রাস্তা সংস্কারের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতে বারবার আবেদন জানিয়েছিলাম । কিন্তু পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি ।’

আরও পড়ুন: করোনা আবহে যাত্রীর অভাবে মার খাচ্ছে শিলিগুড়ি সহ সংলগ্ন অঞ্চলের আটো ব্যবসা, বিপাকে চালকেরা

এই বিষয়ে ভাতার গ্রাম পঞ্চায়ত প্রধান পরেশনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘বেলডাঙ্গা গ্রামের ওই রাস্তাটি ঢালাই করার কথা হয়েছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা তার পরিবর্তে কাঁদরের ওপর সেতু নির্মানের আবেদন জানান। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সেতু নির্মানের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দও হয়েছে। তবে পাশাপাশি রাস্তার কাজও যাতে হয় সেই চেষ্টাও করব ।”

অন্যদিকে ভাতার বাজারে হকার্স মার্কেটের পাশে অন্য আর একটি মার্কেট রয়েছে। দুই মার্কেটের মধ্যে দিয়ে একটি রাস্তা গেছে। ওই রাস্তার এক পাশ দিয়ে একটি নিকাশি নালা গেছে ৷ স্থানীয় ব্যাবসায়ী অনিল হাজরা,বাপ্পা হাজরারা জানিয়েছেন,নালাটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বুজে গিয়েছিল। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তাতে এক হাঁটু জল জমে যেতে । এই দেখে খরিদ্দারেরা ওই মুখো হত না । ফলে তাঁদের ব্যাবসায়ের ক্ষতি হচ্ছিল । তাঁদের অভিযোগ, “নিকাশি নালটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েতের কাছে বারবার দরবার করেও কোনও কাজ হয়নি । তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে নালাটি সংস্কারের কাজ শুরু করেছি ।”

Related Articles

Back to top button
Close