fbpx
ব্লগহেডলাইন

করোনার বিরুদ্ধে নার্সদের লড়াইকে সম্মান জানাতে  ১২ মে নার্স দিবসে গোলাপ দেওয়া হোক 

ভাস্করব্রত পতি, তমলুক : আজকের এই কঠিন সময়ে যাঁদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, তাঁরা ‘নার্স’। তাঁদের এই পেশাকে পৃথিবীবাসী মনে রাখবে আজীবন। একদিন কোভিড ১৯ এর যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাবে পৃথিবীর মানুষ। কিন্তু মানুষ মনে রাখবে এঁদের লড়াই। এঁদের ত্যাগ। এঁদের দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যবোধ।

ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মদিবসকে স্মরণ করে প্রতি বছর ১২ ই মে সারা বিশ্বজুড়ে পালিত হয় “ইন্টারন্যাশনাল নার্সিং ডে”। চলতি ২০২০ তে আইসিএন নার্স দের জন্য যে থিম ঘোষণা করেছে, তা হল-‘NURSING THE WORLD TO HEALTH’। আজ কোভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে একেবারে মুখোমুখি ময়দানে নেমে সেবা কার্যক্রম তো এই নার্সরাই করছে। এঁদের সাহচর্য ছাড়া আজ এই লড়াইতে জয়ী হওয়া অসম্ভব। এমতবস্থায় আমরা কি পারিনা ১২ ই নারী দিনটিতে বিশ্বজুড়ে নার্সদের জন্য একটু অন্যভাবে সম্মান জানাতে? তাঁদের মনোবল বাড়াতে?

‘নার্সিং’ তথা ‘ধাত্রীবিদ্যা’। নার্সদের ইতিহাস বেশ গৌরবজনক। সেই ক্রিমিয়ার যুদ্ধের সময় থেকে আরও বেশি অতিপরিচিত একটি শব্দ। ব্রিটিশ মহিলা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল সেদিন দেখিয়েছিলেন সেবা কার্যক্রম কাকে বলে! নার্সিংয়ের পরিধি ও নীতিমালা নির্ধারণ করে তখন লিখেছিলেন তাঁর “নোটস অন নার্সিং”তে। সেই যুদ্ধে ছাপ রেখেছিলেন মেরি সি কোলও। তেমনি নার্সিং জগতে অতি পরিচিত নাম এলিজাবেথ জোন্স আমেরিকাতে এবং লিণ্ডা রিচার্ডস জাপানে আধুনিক গুনগতমান সম্পন্ন নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করেছিলেন। এলেন ডাফার্টি হলেন নিউজিল্যান্ডের প্রথম নিবন্ধীকৃত পেশাদার নার্স। ১৯০১ এর ১২ ই সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডে প্রথম নার্সদের নিবন্ধন শুরু করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে। ১৯০৩ এ ‘নার্সিং লাইসেন্স ল’ গৃহীত হয়। যুদ্ধক্ষেত্রে নার্সদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৪৬ জন কানাডিয়ান নার্সদের মৃত্যু হয়! এখন আবার শুরু হয়েছে যুদ্ধ। কোরোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

আরও পড়ুন: লকডাউনে শ্রমিকদের ফোন করে খোঁজ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ যখন শুরু হয় তখন ইংল্যাণ্ডে খুবই সামান্যতম হারে মহিলাদের সামরিক বাহিনীতে নার্সরূপে নিয়োগ করা হয়েছিল। সেসময় ‘কুইন আলেকজান্দ্রা’জ ইম্পেরিয়াল মিলিটারী নার্সিং সার্ভিস’ এবং ‘প্রিন্সেস ম্যারি’জ রয়েল এয়ার ফোর্স’- এ ১০,৫০০ নার্সকে নিযুক্ত করা হয়েছিল। রাজার অর্থানুকূল্যে এবং আনুগত্যে তাঁরা ১৯০২ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সেবাকার্যে রত ছিলো।

এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস সোসাইটিতেও স্বেচ্ছাসেবী নার্সও নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে সারা বিশ্বজুড়ে রেড ক্রশের অসংখ্য শাখা রয়েছে চিকিৎসা সেবাপ্রদানের জন্য। সেখানে নার্সদের কাজে লাগানো হয়। চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে নার্সদের নানা ধরনের পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল যেমন – ‘মেট্রন -ইন – চিফ’, ‘চিফ প্রিন্সিপাল মেট্রন’,  ‘সিস্টার’  এবং ‘স্টাফ নার্স’। যুদ্ধ চলাকালীন সময়েও চিকিৎসা সেবাদানের জন্য নার্স হিসেবে অনেক নিয়োগ করা হয়েছে। ১৯১৪ সালে শেষ দিকে ‘কুইন আলেকজান্দ্রা’জ ইম্পেরিয়াল মিলিটারী নার্সিং সার্ভিস’এ নিয়মিত নার্সদের সংখ্যা ছিল মোট ২,২২৩ জন। অবশেষে যুদ্ধশেষে দেখা যায় যে সেখানে প্রশিক্ষিত নার্সদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০,৪০৪ জন। এই ইতিহাস মানুষ ভোলেনি।

যাইহোক, এটি এখন অন্যতম সেবামূলক পেশা। সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশেও যথেষ্ট সমাদর পায় নার্সিং কাজ। এটি একটি অন্যতম নোবেল প্রফেশন এখন। আর্ত, পীড়িত, মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের চিকিৎসা অন্যতম কাজ হলেও সারা সময় ঐ রোগীর পাশে থেকে যাবতীয় MENTAL SUPPORT এবং ভালোবাসা দিয়ে রোগীর যন্ত্রনার উপশম করার কাজে একমেবাদ্বিতীয়ম কিন্তু এই নার্সরাই!

কেউ বলেন “নান ” , কেউ বা “দিদি”। আবারও কেউ বা বলেন “সিস্টার”! অপ্রশিক্ষিতদের বলে “আয়া”। যাইহোক পেশাদার এবং আধুনিক গুনগতমান সম্পন্ন চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে সেবাদান করার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে সারা বিশ্বে। হাজার হাজার মহিলা এই পেশাকে বেছে নিচ্ছেন আত্মিকভাবে।

একজন তথাকথিত রোগীর পেট থেকে তাঁর দেহের ও মনের কষ্টের কথাগুলো জানতে পারার বিরল ক্ষমতা কিন্তু এই নার্সদেরই রয়েছে। সেটাই তাঁদের পেশার অন্যতম দিক। ডাক্তারের সাথে সাথে একজন সত্যিকারের নার্সই পারে একজন মৃত্যুপথযাত্রী রোগীকে যমদুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনতে — স্রেফ ভালোবাসা আর একনিষ্ঠ সেবাদানের মাধ্যমে।

আজ বিশ্বজুড়ে লড়াই কোভিড ১৯ এর বিরুদ্ধে। সুস্থ হয়ে উঠতে হাসপাতালই ভরসা। সেখানে আছে নার্সরা। আসলে ভগবানের পাঠানো দূতরা। যাঁদের কাজ মুমূর্ষু রোগীর হৃদয়ের কাছে দাঁড়িয়ে বাঁচিয়ে তোলা। কোরোনার বিরুদ্ধে লড়াইতে মনোবল বাড়াতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ৩ রা মে ভারতের প্রতিটি হাসপাতালের ওপরে ফুল ছড়িয়ে সম্মান জানাবে। দারুন উদ্যোগ। সামনেই যখন আন্তর্জাতিক নার্স দিবস। তাহলে কি ঐ ১২ ই মে দেশের প্রতিটি নার্সের হাতে একটি করে গোলাপ তুলে দিয়ে তাঁদের একটু সম্মান জানাতে পারিনা?

Related Articles

Back to top button
Close