fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সোনার হার ছিনতাইয়ের অভিযোগে ধৃত আরপিএফ জওয়ান!

শুভেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সোনার হার ছিনতাই করার অভিযোগ উঠল এক আরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার আরপিএফ জওয়ান বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন রেল শহর চিত্তরঞ্জনের বাসিন্দা কুনাল সিং। তিনি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বলেন, ওই আরপিএফ জওয়ান বন্দুক ঠেকিয়ে সোনার হার ছিনতাই করেছেন।

ওই যুবক সেই বন্দুক ছিনিয়ে পালিয়ে গিয়ে কোনক্রমে প্রাণে বাঁচেন। পরে সেই বন্দুকটি তিনি চিত্তরঞ্জন থানায় জমা করে দেন ও আরপিএফ জওয়ান তার তিন সঙ্গীর নামে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনজন পালিয়ে গেলেও, পরে পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আরপিএফ জওয়ানকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় রেল শহরে।
রেল শহরের বাসিন্দারা অভিযুক্ত আরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ ও অত্যাচার চালানোর অভিযোগে থানায় বিক্ষোভও দেখান। রবিবার ধৃত জওয়ানকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে, বিচারক তার জামিন নাকচ করে ৬ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি স্করপিও গাড়িতে আরপিএফ জওয়ান তার তিন সঙ্গীকে নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় শনিবার রাতে দশটা নাগাদ হিন্দুস্তান কেবলস দেশবন্ধু পার্ক এলাকা থেকে চিত্তরঞ্জনের ৫এর পল্লী এলাকায় ফিরছিল। চিত্তরঞ্জনের ৩১ নং স্ট্রিটের ১৫ নং ক্রশ রোডে তাদের স্করপিও গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে যায়। সেই সময় রেল শহরের বাসিন্দা কুণাল সিং সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। কুণাল গাড়িটির চাকা গর্ত থেকে আরোহীরা তোলার চেষ্টা করছে দেখে, তাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায়।

কিন্তু অভিযোগ, গাড়ির সামনে যেতেই গাড়ির ভেতর থেকে বন্দুক বার করে তার মাথায় ঠেকিয়ে গলায় থাকা সোনার চেন ছিনিয়ে নেয় অভিযুক্ত আরপিএফ জওয়ান।
এরপর গুলি করতে উদ্যোত হতেই কোনোক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়ে আরপিএফ জওয়ানের হাত থেকে বন্দুকটি ছিনিয়ে নিয়ে কুণাল দৌড়ে পালিয়ে আসেন চিত্তরঞ্জন থানায়। সঙ্গে সঙ্গে চিত্তরঞ্জন পুলিশ অত্যন্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ওই আরপিএফ জওয়ানকে গ্রেফতার করে। যদিও তার সঙ্গে থাকা তিন সঙ্গীকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

খবর পেয়ে চিত্তরঞ্জনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়ে অভিযুক্তকে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাত ১১ টা থেকে শনিবার ভোর ৪ টে পর্যন্ত রেল শহর চিত্তরঞ্জনে শোরগোল পড়ে যায়।
আরপিএফের অ্যাসিসট্যান্ট সিকিউরিটি কমিশনার কৃষ্ণেন্দু রায় চৌধুরী বলেন, বর্তমানে ওই জওয়ান পঙ্কজ কুমার সাসপেন্ড হয়ে আছেন। কয়েকমাস আগেই তাকে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তারই মধ্যে অন্য এক আরপিএফ জওয়ানের সঙ্গে মারপিট করে। সেই অভিযোগে আবার তাকে সাসপেন্ড হয়। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার রাতের ঘটনা আমরা জেনেছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে। দোষ প্রমাণ হলে আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে তিনি, রেল শহরের বাসিন্দাদের অভিযোগ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

আসানসোল দূর্গাপুর পুলিশের ডিসিপি (পশ্চিম) অনমিত্র দাস শনিবার বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই জওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেআইনি অস্ত্র রাখা সহ একাধিক ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এদিন তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বাকি তিনজনের খোঁজ চলছে।

Related Articles

Back to top button
Close