fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মল্লারপুরের পারুলিয়া গ্রামের শিবমন্দিরগুলির ভগ্নদশা

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সাঁইথিয়া : বীরভূমের মল্লারপুর থানার অন্তর্গত ঝেকোড্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতের পারুলিয়া গ্রামের প্রায় ১৫টি প্রাচীন শিবমন্দিরের আজ হতশ্রী অবস্হা। তিনশো বছরেরও বেশী পুরোনো এই শিবমন্দিরগুলোর গায়ে বিশাল বিশাল ফাটল এবং তার ভেতরে শেকড় বেষ্টনী দিয়ে বেড়ে ওঠা বট গাছ আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন উল্লাসে মত্ত।

 

 

শোনা যায়, বহু বছর আগে কাশীরাজের রাজগুরু পারুলিয়া গ্রামের পশ্চিমদিকে একটি পুকুরের ধারে বসবাস শুরু করেন। এখনও পুকুরটি রয়েছে এবং গোমস্তাপুকুর নামে পরিচিত সকলের কাছে। এই সন্ন্যাসী বর্ধমানের রাজার পত্তনীদার গুসকরার বিখ্যাত চোঙদার পরিবারের নায়েব এই শিবমন্দিরগুলির প্রতিষ্ঠাতা চট্টোপাধ্যায় পরিবারের পূর্বপুরুষ কে শিষ্যত্ব দিয়ে নিজের কাছে বসবাসের ব্যবস্হা করেন। পরে চট্টোপাধ্যায় পরিবার প্রভুত বিত্তশালী হন এবং এই শিবমন্দিরগুলো নির্মান করেন। চট্টোপাধ্যায় পরিবার সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে গ্রামের মধ্যে পরিবারের বাড়িঘর অনেক হয় এবং সে কারনে পারুলিয়া গ্রামের পরিচিতি হয় চট্টোপারুলিয়া নামে।

 

 

এই বংশের উত্তরপুরুষ বরুন চট্টোপাধ্যায় বলেন, মন্দিরের গায়ে একটি শিলা খন্ডে উল্লেখ রয়েছে যে মন্দিরগুলো তৈরী হয়েছে বাংলা ১১৭০ বঙ্গাব্দে। তিনি আরও জানান, এই প্রাচীন মন্দিরগুলো সংস্কার করা তাদের সাধ্যাতীত এবং সরকার থেকে সংস্কারের ব্যবস্হা করলে এগুলো রক্ষা পায়। এ প্রসঙ্গে বলা যায় বিশ কিলোমিটার দুরে ঝাড়খন্ড সীমান্তে মলুটি গ্রামের প্রাচীন শিবমন্দিরগুলোর সংস্কার সরকারী তত্বাবধানে করা হচ্ছে। যদিও পশ্চিমবঙ্গের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রগুলোতে অনেকবার পারুলিয়ার শিবমন্দিরের খবর প্রকাশিত হয়েছে ,কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোন খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।

Related Articles

Back to top button
Close