fbpx
আন্তর্জাতিকহেডলাইন

আমেরিকা ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কারাবাখ শান্তিচুক্তি পরিবর্তনের অভিযোগ রাশিয়ার

মস্কো(সংবাদ সংস্থা): আমেরিকা ও ফ্রান্স সম্প্রতি স্বাক্ষরিত নাগর্নো-কারাবাখ শান্তিচুক্তি পুনর্মূল্যায়নের যে চেষ্টা করছে তা প্রতিহত করবে মস্কো, এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন রাশিয়ার বিদেশ মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। মঙ্গলবার রাতে মস্কোয় তিনি বলেন, নাগর্নো-কারাবাখে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তাকে আর্মেনিয়ার পক্ষে পরিবর্তনের যে চেষ্টা আমেরিকা ও ফ্রান্স করছে তাকে সফল হতে দেবে না রাশিয়া।

তবে এদিন ল্যাভরভ বলেন, রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ওই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে সংঘর্ষপীড়িত নাগর্নো-কারাবাখে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের তৎপরতা চালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, ওই অঞ্চলে মানবিক ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা চালাতে রাস্টপুঞ্জের অন্যান্য সংস্থার প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর রাশিয়ার মধ্যস্ততায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নাগার্নো-কারাবাখে যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। এই দুই দেশের স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বলা হয়েছে, আর্মেনিয়া দখলীকৃত অগদাম, লাচিন ও কালবাজার এলাকা আজারবাইজানের কাছে হস্তান্তর করবে। চুক্তি অনুযায়ী কারাবাখ অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আজারবাইজানের লাচিনকে করিডোর হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি পাবে আর্মেনিয়া। তবে এর বিনিময় আর্মেনিয়াও আজারবাইজান ও নাখচিভান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য করিডোর সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

আরও পড়ুন: গরু পাচার কাণ্ড: ধৃত বিএসএফ কমান্ড্যান্ট সতীশ কুমারের ১৪ দিন সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ

এদিকে ইতিহাস বলছে, নাগার্নো-কারাবাখ হচ্ছে ৪ হাজার ৪শ বর্গ কিলোমিটার (১ হাজার ৭০০ বর্গ মাইল) আয়তনের একটি পর্বতাঞ্চল। যেখানে ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আর্মেনিয়ান এবং মুসলিম তুর্কদের আবাসস্থল। তবে এই অঞ্চলটি একটি বিবাদপূর্ণ ছিটমহল হিসাবে পরিচিত। যে অঞ্চলটিকে ঘিরে ১৯৮৮-১৯৯৪ সালে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এতে সংঘর্ষে বাস্তুচ্যুত হন প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ এবং নিহত হন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। পরে ১৯৯৪ সালে দুই দেশ অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছালেও সময়ে সময়ে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আর চলমান সেই উত্তেজনায় এখন নিহতদের তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন দুই দেশের অসহায়, নিরাপরাধ শিশু ও নারীরা। তবে, গত ১০ নভেম্বরের শান্তি চুক্তি সেই ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ দিতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Related Articles

Back to top button
Close