fbpx
গুরুত্বপূর্ণদেশহেডলাইন

আস্থাভোটে জয়ী গেহলট, নিজেকে শক্তিশালী যোদ্ধা বলে দাবি পাইলটের…

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: কংগ্রেসে বিদ্রোহ দেখা দেওয়ার পর সংকটে পড়েছিল অশোক গেহলোট সরকার। একসময় মনে হচ্ছিল, সরকার বাঁচানো সম্ভব হবে না গেহলোটের পক্ষে। সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল শুক্রবার। নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়ে গেল রাজস্থানে বিধানসভা অধিবেশন। আর শুরুতেই চমক খেলেন প্রাক্তন উপমুখ্যন্ত্রী শচীন পাইলট। একটা সময় যিনি মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের কাছাকাছি বসতেন। এদিন তাঁরই আসল নির্ধারিত রয়েছে বেশ খানিকটা দূরে। বোঝা গেল দুরত্ব বেড়েছে পাইলট এবং গেহলটের সম্পর্কের। দেখা গেল বিরোধী লাগোয়া একটি আসনে বসেছেন মরুরাজ্যের তরুণ তুর্কি।

পাইলট ও তাঁর অনুগামী ১৮ জন বিধায়ক কংগ্রেসে ফিরে আসেন। এরপরই বোঝা যায়, আস্থাভোটে জিততে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী গেহলোট। আস্থাভোটে জয়ী হওয়ার পরে মুখ্যমন্ত্রী টুইট করেন, ‘রাজস্থানের মানুষ বিজয় অর্জন করেছেন। বিধায়কদের ঐক্য বিজয়ী হয়েছে। সত্যের জয় হয়েছে। সত্যমেব জয়তে।’ বিদ্রোহ করার কিছুদিনের মধ্যে শচীনকে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেজন্য শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পরে দেখা যায়, শচীনের জন্য অন্য একটি স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সরকারপক্ষের বিধায়কদের আসনের মধ্যে শচীন বসেছেন দ্বিতীয় সারিতে। তার কাছেই অপোজিশন বেঞ্চ। সেখান থেকে বিজেপি বিধায়করা তাঁকে বিদ্রোহ করেন। দলে অন্দরে যে ফাঁটল এখনও রয়েছে, তা কিন্তু বুঝতে দিলেন না বিরোধীদের।

বরং পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত ধাতস্থ হয়ে ঝাঁঝালো মেজাজে বক্তৃতা শুরু করলেন কংগ্রেসের নেতা শচীন পাইলট। চিরাচরিত ভঙ্গিমায় বিজেপিকে বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। শচীন জবাব দেন, ‘আমি এখন বিরোধীদের কাছাকাছি বসেছি। আমাকে সীমান্তে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে সাহসী ও শক্তিশালী যোদ্ধাদেরই সীমান্তে পাঠানো হয়।’ বিজেপির সমালোচনা করে অশোক গেহলোট বলেন, ‘দেশ যখন করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন বিজেপির লক্ষ্য একটাই। তা হল, নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়া।’

যদিও এদিন অধিবেশন কক্ষে দেখা হওয়ার পর সৌজন্যমূলক হাসি ফুটে ওঠে গেহলট এবং পাইলটের মুখে। করমর্দনও করেন দুজনে। বোঝাই যাচ্ছে নবীন এবং প্রবীন কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে দুরত্ব অনেকটাই বেড়েছে। তবে সেটাকে আপাতত আমল দিতে নারাজ। এদিকে অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আস্থা ভোটের প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। অন্যদিকে অনাস্থা এনেছে বিজেপিও।  তবে তাঁদের প্রস্তাব যে ধোপে টিকবে না তা ভাল করেই জানে কংগ্রেস শিবির।

আরও পড়ুন: অবশেষে স্বস্তি গেরুয়া শিবিরে, করোনামুক্ত অমিত শাহ, টুইট করে জানালেন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিন বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিতর্কের সূচনা করেন রাজ্যের মন্ত্রী শান্তিকুমার ধারিওয়াল। তিনি বলেন, ‘রাজস্থানে অশোক গেহলোট বিজেপিকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়েছেন। গোয়া বা মধ্যপ্রদেশে যা হয়েছে, রাজস্থানে আমরা তা হতে দিইনি।’ ২০০ সদস্যের রাজস্থান বিধানসভায় গরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হলে ১০১ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। গেহলোট এদিন ১২৫ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছেন।

সোমবার ‘ঘর ওয়াপসি’ হয় রাজস্থানের বিদ্রোহী নেতা শচীন পাইলটের। এদিন বিকালে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন শচীন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। সন্ধ্যায় শচীন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকটি নীতিগত প্রশ্ন তোলার জন্য তাঁরা বিদ্রোহ করেছিলেন। তাঁর কথা শোনার জন্য শচীন ধন্যবাদ দেন প্রিয়ঙ্কাকে। রাহুল বলেছেন, শচীনের অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের প্যানেল তৈরি হবে। প্রিয়ঙ্কা তার সদস্য হবেন। মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোটের ‘কাজের পদ্ধতির’ বিরোধিতা করেছিলেন শচীন। অশোক গেহলোটের শিবির থেকে বার বার অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। কিন্তু শচীন বলেন, কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল। ৪২ বছর বয়সী শচীনের কথায়, ‘আমি প্রথম থেকে বলে আসছি, নীতিগত কারণেই যা করার করেছি। দলের স্বার্থেই কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা দরকার ছিল।’

Related Articles

Back to top button
Close