fbpx
কলকাতাহেডলাইন

মানুষের অসুবিধা দেখলে চুপ থাকতে পারি না, আট বারের বিধায়ক, সবাই আমার কাছে সমান: সাধন পাণ্ডে

অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘মানুষকে পরিষেবা দিতে গিয়ে বাধা প্রাপ্ত হয়েছি। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম।’ সাফাই দিলেন ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পান্ডে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে প্রকাশ্যে মুখ খোলা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাধন।

সম্প্রতি বিপর্যয় মোকাবিলায় উত্তর কলকাতায় কাজে নেবে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল ক্রেতা সুরক্ষা মন্ত্রী কে। আর সে কারণেই মানুষের কষ্ট দেখে তিনি রেয়াত করেননি নিজের দলের মন্ত্রীকেও। প্রকাশ্যে তোপ দেগেছিলেন ফিরহাদ হাকিমকে। যদিও সে কারণে তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়েছিল। প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চিঠির কথা তিনি স্বীকার করে নেন।

এদিন সাধন পাণ্ডে বলেন, ‘মানুষের কাজে অসুবিধা হয়েছে দেখে চুপ থাকতে পারিনি। আমার কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই কাজ করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আমি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলাম এ কারণে দল থেকে আমাকে চিঠিও দিয়েছে। আমি তার উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছি। পার্টি চিন্তাভাবনা করছে আমার উত্তর নিয়ে। ক্যাবিনেট মিটিংএ আমার সঙ্গে ফিরহদের দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। ও আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমার সঙ্গে কারোর ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ হয় না। মানুষের দুঃখে ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক কিছুটা খারাপ হয়েছিল। কিন্তু এখন ঠিক আছে। সবাই কাজ করছে একটু লেট হয়েছে। লকডাউনের প্রথম দিন থেকে এলাকায় নেমে মানুষের স্বার্থে কাজ করছি।’

সাধন পান্ডের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিমের সংঘাত প্রকাশ্যে আসতেই ময়দানে নেমে পড়েন বিধায়ক পরেশ পাল। তিনিও সুভাষ সরোবর তড়িঘড়ি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সাধন পান্ডে কে দল থেকে উৎখাত করার কথা বলেছিলেন। যদিও তাকেও রেহাদ করা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাকেও শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি পরের সাধন পান্ডে কে যে ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন তাও নিন্দনীয় ছিল দলীয় নেতৃত্বের একাংশের মতে। এদিন পরেশ পাল প্রসঙ্গে সাধন পান্ডের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘ওর চৈতন্য হোক। ঠিক যেমনটা শ্রীরামকৃষ্ণ বিনোদিনীকে আশীর্বাদ করে বলেছিলেন।’

পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেভাবে বিরোধী দল গুলি  রাজনৈতিক স্বার্থে  রাজ্যের শাসক দলকে নানা ইস্যুতে বিধ্ছেন।  সে প্রসঙ্গ তিনি বলেন, ‘এ সময় বাংলা কঠিন সময়ে রয়েছে। কেউ রাজনীতি করবেন না দয়া করে। বাংলা মা এসময় কাঁদছে তার পাশে দাঁড়ান সবাই একসঙ্গে। আমি এ রাজ্যের আট বারের বিধায়ক। আমার সঙ্গে সব দলেরই সুসম্পর্ক আছে। তাই সকলের কাছে রাজনীতি না করার আবেদন।’

তৃণমূলের বর্ষিয়ান মন্ত্রী সাধন পান্ডে এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভার্চুয়াল সভাকে কটাক্ষ করেন। অমিত শাহের উদ্দেশ্যে বলেন, আযুষ্মাণ ভারত প্র্কল্পের আগে থেকে বাংলায় স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প চলছে। সরকার এর অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের ফলে। এখন এটা বদল করা সম্ভব নয়। তাছাড়া রাজ্যকে যদি চল্লিশ শতাংশ টাকা দিতে হয় আযুষ্মাণ ভারত প্রক্ল্পের জন্য। তবে প্রকল্প বদল করে লাভ কি? এতে ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না রাজ্যের।’

Related Articles

Back to top button
Close