fbpx
অসমহেডলাইন

যৌতুকের দাবিতে লালার মিরিরগুলে নববধূ খুন! গ্রেফতার স্বামী

যুগশঙ্খ প্রতিবেদন, কাটলিছড়া: স্বামীর বাড়ির চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকের দাবি না মেটানোয় বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় প্রাণ দিতে হল এক যুবতী নববধূ কে। যৌতুকের দাবিতে আফসা বেগম বড়ভুইয়া (১৯) নামের ওই যুবতী নববধূকে খুন করে দড়িতে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ তুলে লালা থানায় মামলা করেছেন পিতৃহীনা যুবতীর কাকা নাজিম উদ্দিন বড়ভুইয়া। এজাহারের ভিত্তিতে লালা পুলিশ রাজ্যেশ্বরপুরের মিরিরগুল গ্রাম থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে বুধবার ময়না তদন্তের জন্য হাইলাকান্দির এস কে রায় সিভিল হাসপাতালে প্রেরন করেছে।

লালার জয়কৃষ্ণপুর ধলিদিঘীরপার গ্রামের বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন বড়ভুইয়া লালা থানায় অভিযোগ করে বলেন, মাত্র পাঁচ মাস আগে মিরিরগুল গ্রামের কালাম উদ্দিনের সাথে সামাজিকভাবে তাঁর ভাতিজি, পিতৃহীনা আফসা বেগম বড়ভুইয়ার বিয়ে হয়। অত্যন্ত দরিদ্র আফসা বেগম বড়ভুইয়ার বিয়েতে কাটলিছড়ার বিধায়ক সুজাম উদ্দিন লস্কর সহ গ্রামের জনগন আর্থিক সহযোগিতা করেন। বিয়েতে যৌতুক হিসেবে স্বামী কালাম উদ্দিন কে নগদ ৫৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। কিন্ত তারপরও বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে শ্বাশুড়ি, ননদ, সহ অন্যরা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন।

বিয়েতে থালা কেন দেওয়া হল না এপ্রশ্ন তুলে কলাপাতায় ভাত দেওয়া হয়। শৌচাগারের ব্যবহারের জন্য ঘটি বদনা কেন দেওয়া হল না প্রশ্ন তুলে নববধূ আফসা কে শৌচাগারে ব্যবহারের জন্য ডিবা দেওয়া হয়। বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে এধরণের বিভিন্ন নির্যাতনের প্রেক্ষিতে তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে এসে আটকে রাখা হয়। কিন্ত গত শুক্রবার বিয়ের ঘটক ও স্বামী কালাম উদ্দিনের ভাই আলম উদ্দিন জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ছুটে এসে কোন ধরনের নির্যাতন হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে আফসা বেগম কে নিয়ে যান বলে জানান নাজিম উদ্দিন বড়ভুইয়া।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, আফসা বেগম বড়ভুইয়া কে নিয়ে যাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় তাকে স্বামী সহ পরিবারের লোকজন মিলে খুন করেন। ৬ জুলাই রাতে আফসা বেগম কে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হলেও ৭ সাত জুলাই বিকেল দেড়টায় বাবার বাড়ির লোকজনকে জানানো হয়। নাজিম উদ্দিন বড়ভুইয়া নববধূ আফসা বেগম বড়ভুইয়া কে খুনের সাথে স্বামী কালাম উদ্দিন , সহ পরিবারের সদস্য গিয়াস উদ্দিন, আলম উদ্দিন, সরিফ উদ্দিন, সুলতানা বেগম, পছাই আলি সহ মোট সাতজন কে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে আফসা বেগম কে খুন করেছে বলে কাকা নাজিম উদ্দিন বড়ভুইয়া সরাসরি অভিযোগ করে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে লালা পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে কাটলিছড়ার বিধায়ক সুজাম উদ্দিন লস্কর, বুধবার হাইলাকান্দির আরক্ষী অধিক্ষক পি কে নাথের সাথে যোগাযোগ করে অবিলম্বে তদন্তক্রমে দোষীদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন। বিধায়ক সুজাম উদ্দিন জানান, মাত্র পাঁচ মাস আগে অসহায় আসমা বেগমের বিয়েতে তিনিও অর্থ সাহায্য করেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে নগদ ৫৫ হাজার টাকা স্বামী কালাম উদ্দিন কে দেওয়া হয়। কিন্ত তারপরও এভাবে এক যুবতীকে যৌতুকের দাবিতে খুনের ঘটনা কোন অবস্থায় মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দৃস্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বিধায়ক সুজাম উদ্দিন হাইলাকান্দির এস পি কে আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে সরিফ উদ্দিন লালা থানার গাড়ি চালক। তাই তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে ব্যহত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে এস পি কে আহবান জানান। এদিকে এজাহারের ভিত্তিতে লালা পুলিশ ২৭৭/২০২০ নম্বরে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে। লালা পুলিশ তদন্তে নেমে ষনিহত গৃহবধূর স্বামী আব্দুল কালাম লস্কর (২৪) কে গ্রেফতার করেছে।

Related Articles

Back to top button
Close