fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

মনসা ঠাকুরকে সন্তুষ্ট রাখতে হিন্দু-মুসলিম এক যোগে মান্দাস ভাসালো মাতলা নদীতে

ফিরোজ আহমেদ, ক‍্যানিং: সাপের মৃত্যু থেকে বাঁচতে এবং মনসা ঠাকুর কে সন্তুষ্ট রাখতে প্রতিবছর ভাদ্র মাসে ভাসানো হয় মান্দাস। পুজো দেওয়া হয় মনসা দেবীকে। আর এর ফলে গ্রামে কমেছে সর্প দংশন। এমনই মত স্থানীয় মানুষের। হিন্দু মুসলমান সমস্ত ধর্মের কয়েক হাজার মানুষ মাতলা নদীতে এই মান্দাস ভাসানো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন প্রতিবছর।

২০০৮ সালে ক্যানিংয়ের মধুখালীর গ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয় ১১ জনের। কয়েকদিনের ব্যবধানে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। তারপর স্থানীয় মানুষজন মনসা পুজো করে মান্দাস ভাসিয়ে দেন মাতলা জলে। তারপর বন্ধ হয় সাপে কামড়ানোর মৃত্যুর ঘটনা। কথিত আছে মা মনসার সন্তুষ্ট করতে এই সেই থেকে মান্দাস ভাষানো অনুষ্ঠান হয়ে আসছে এই গ্রামে। আর তারপর থেকেই আর কেউ সাপে কামড়ে মারা যায়নি এমনই ধারণা স্থানীয় মানুষের।

প্রতিবছর ভাদ্র মাসের মঙ্গলবারে এই পূজা অনুষ্ঠান হয়। পূজা পাঠের পর মনসা ঠাকুর কে কলা গাছের ভেলায় মান্দাস বানিয়ে ভাসানো হয় মাতলা জলে। এ বিষয়ে উদ্যোক্তাদের প্রক্ষে ইন্দ্রজিৎ সর্দার বলেন, “স্থানীয় মানুষজন নিজেদের বিশ্বাস থাকে দীর্ঘদিন ধরেই পূজা করে আসছে। এ বছরও তাই অনুষ্ঠিত হলো। হিন্দু-মুসলমান সকল ধর্মের মানুষ একযোগে উপস্থিত থাকেন। এর ফলে এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা পেয়েছে।”

মনসামঙ্গল কাব্যে কথিত আছে মনসর রোসে পড়ে সপ্তডিঙ্গা ও সমস্ত পুত্রকে হারিয়েছিল চাঁদ সওদাগর। তারপর লখিন্দরের কে নিয়ে বেহুলা মান্দাসে করে ভাসতে-ভাসতে উপস্থিত হয়েছিল ইন্দ্রের সভাতে। বেহুলার অনুরোধে শিবভক্ত চাঁদ সওদাগর পূজা দিয়েছিল মনসা কে। সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করেও একে একে ফিরে এসেছিল তার সমস্ত সন্তান ও সম্পত্তি।

তারপর থেকে সাপে কামড়ে কেউ মারা গেলে কলার ভেলায় মান্দাস করে তা ভাসিয়ে দেওয়া হতো নদীর জলে। যেভাবে গাঙ্গুর নদীর জলে ভাসানো হয়েছিল লখিন্দর কে। কিন্তু বর্তমানে কোন ব্যক্তির সাপে কামড়ে মৃত্যু হলে ময়নাতদন্ত করা হয়। দেহ আর নদীতে ভাসানো হয় না। কারণ সরকারি তরফ থেকে পাওয়া যায় মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ।তাছাড়া চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হওয়াতে বহু মানুষ এখন বিষধর সাপের কামড় থেকেও বেঁচে ফিরছেন।

এ বিষয়ে এলাকার উপপ্রধান খতিব সরদার বলেন, “মানুষের বিশ্বাস এবং এলাকার মানুষের অনুরোধেই বেশ কয়েক বছর ধরে এই পূজা পাঠ হয়ে আসছে। মনসা ঠাকুর কে পূজা দিয়ে এই মান্দাসে করেই মাতলা নদীতে ভাসিয়ে দেন স্থানীয় মানুষজন। এই ক্ষেত্রে কোন ধর্মের বাধা-নিষেধ থাকেনা। কারণ যখন সাপে কামড়ে মারা যাচ্ছিল স্থানীয় মানুষরা। তখন হিন্দু মুসলমান সব ধর্মের ছিল।”

Related Articles

Back to top button
Close