fbpx
কলকাতাহেডলাইন

সভাপতি পদে ইস্তফা দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়লেন ‘অভিমানী’ সৌমিত্র

যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপির যুব মোর্চার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ভাবনা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁর  শনিবার সকালে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছাড়েন তিনি। সঙ্গে লেখেন তাঁর সিদ্ধান্তের কথাও। সংগঠনের পদাধিকারিদের নিয়ে তৈরি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়ে মহাষ্টমীর সকালে সৌমিত্র বেরিয়ে গিয়েছেন। তবে বিতর্ক তাতে থামেনি। যুব মোর্চার অন্য শীর্ষ নেতারাও এ বার তোপ দাগতে শুরু করেছেন সৌমিত্রের বিরুদ্ধে।

যুব মোর্চার রাজ্য পদাধিকারিদের নিয়ে যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে সেটির নাম ‘বিজেওআইএম ওয়েস্টবেঙ্গল অফিসিয়াল’। শনিবার সকাল ৯টা ৪ মিনিট নাগাদ ওই গ্রুপে সৌমিত্র লিখেছেন, ‘শুভ মহাষ্টমী। সকলে ভাল থাকবেন। আপনাদের খুবই সহযোগিতা পেয়েছি। আমি চাই বিজেপিকে সরকারে আনতেই হবে। তাই হয়ত আমার অনেক ভুল ছিল যাতে দলের ক্ষতি হচ্ছিল। তাই আমি ইস্তফা দেব আর সকলে ভাল থাকবেন। যুব মোর্চা জিন্দাবাদ, বিজেপি জিন্দাবাদ, মোদিজি জিন্দাবাদ’।

বঙ্গ বিজেপিতে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বিরোধী কৈলাস বিজয়বর্গীয়-মুকুল রায়দের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খান। যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর নিয়োগ প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাই রাজ্য কমিটি গঠন নিয়েই দিলীপ ঘোষের সঙ্গে সৌমিত্রের লড়াই শুরু হয়। যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির নিয়োগ করা সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের তালিকা বাতিল করে দিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। পরে অবশ্য বিজেপি রাজ্য সভাপতির বেশ কয়েকজন অনুগামীকে ঠাঁই দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করেন সৌমিত্র।

দলের একটি অংশ সৌমিত্রের প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন ঠিকই। তবে সেই অংশ নেহাতই সংখ্যালঘু। বিজেপিতে দিলীপের উল্টো শিবিরে অবস্থান করছেন, এমন নেতারাও সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। দলে রাজ্য কমিটির সদস্য তথা যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি শঙ্কুদেব পণ্ডা এ দিন বলেন, ”সৌমিত্র খাঁ অত্যন্ত অপরিণত রাজনীতি করছেন। সামনেই নির্বাচন। তার আগে গোটা দলকে ঐক্যবদ্ধ করে তোলাই নেতাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।” শঙ্কুর মতে, জেলা কমিটিগুলি গঠনের ক্ষেত্রে সৌমিত্রের আরও ‘যত্নবান’ হওয়া উচিত ছিল, পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি ছিল। একা শঙ্কু নন, যুব মোর্চার আরও অনেক শীর্ষ নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ দাস অন্যতম। দিলীপের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত প্রকাশ এখনও সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে সংগঠনের অন্দরে তিনি সৌমিত্রের বিরুদ্ধে ‘তীব্র বিষোদগার’ শুরু করেছেন বলে যুব মোর্চা সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগেই যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এরপরই জেলায় জেলায় সংগঠন মজবুত করার লক্ষ্যে যুব মোর্চার কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন তিনি। জেলায় যুব মোর্চার সভাপতি বাছাই নিয়ে আগে থেকেই মতানৈক্য চলছিল। সেই অবস্থায় যুব মোর্চার জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। যা নিয়ে দলের অন্দরেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তবে শুক্রবারই দলের যুব মোর্চার জেলা কমিটি বাতিল করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। জানান, অনিবার্য কারণবশত জেলার বিজেপির যুব মোর্চার পদ ও কমিটি বাতিল করা হল। যুব মোর্চার নয়া জেলা কমিটি ও সভাপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব সামলাবেন বিজেপির জেলা সভাপতিরা। রাজ্য সভাপতির আচমকা এহেন সিদ্ধান্তের পর তা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক শুরু হয়। সৌমিত্র ঘনিষ্ঠ অনেকেই মনে করছেন, তার জেরেই রাতারাতি যুব মোর্চার পদ থেকে ইস্তফার ভাবনা সৌমিত্রর। যদিও এ বিষয়ে বিজেপি সাংসদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 

Related Articles

Back to top button
Close