fbpx
একনজরে আজকের যুগশঙ্খকলকাতাহেডলাইন

ওপারের হিন্দু বাঁচাও! বাংলাদেশ দূতাবাস অভিযানের ডাক

রক্তিম দাশ: বাংলাদেশে পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের উপর নির্যাতন এবং খুনের ঘটনায় এবার পথে নেমে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে হিন্দু সংগঠনগুলি। এই হিংসাত্মক ঘটনার প্রতিবাদের পাশাপাশি বাংলাদেশে হিন্দুদের সুরক্ষার দাবিতে একাধিক হিন্দু সংগঠন মঙ্গলবার কলকাতার তিনটি প্রান্ত থেকে মহামিছিল করে পার্ক সার্কাসে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানাবে। এই মহামিছিলে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং মঠ-মন্দিরের সন্ত-সন্ন্যাসীরা অংশ নেবেন।

জানা গিয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ-বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তর কলকাতার তারাসুন্দরী পার্ক, কলেজ স্কোয়ার এবং দক্ষিণ কলকাতার এলগিন রোড থেকে এই মহামিছিল সকাল ১১টায় শুরু হবে। ডেপুটি হাইকমিশনে গিয়ে হিন্দুদের সুরক্ষার দাবিতে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা।

কলকাতা, দুই চব্বিশ পরগণা,হুগলি, হাওড়া এবং বর্ধমান থেকে কয়েক হাজার মানুষ এই মিছিলে সামিল হবেন। এছাড়া রাজ্যপালকেও এই বিষয়ে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা।

এদিকে ইসকনের পক্ষ থেকে রবিবার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের সামনে প্রতিবাদ জানানো হয়। ইসকনের সাধু, ভক্তরা মোমবাতি এবং হিংসায় মৃত ইসকন সদস্যর ছবি হাতে নিয়ে কীর্তন করতে করতে ঘটনার প্রতিবাদ করেন। অপরাধীদের অবিলম্বে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, ইসকনসহ অন্যান্য মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ইসকনের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের কাছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার ভারত সেবাশ্রমের প্রধান সম্পাদক স্বামী বিশ্বানন্দ একটি লিখিত বিবৃতিতে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর আক্রমণের এই ঘটনাকে নির্মম ও পৈশাচিক বলেছেন। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশে দুর্গাপুজো চলাকালীন তিন দিন ধরে মৌলবাদীরা পরিকল্পিকত আক্রমণে শতাধিক দুর্গা প্রতিমা,পুজা মণ্ডপে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ হয়েছে। ইসকন মন্দিরে আগুন, রামকৃষ্ণ মিশন ও রামঠাকুরের আশ্রমের ব্যাপক ক্ষতি করেছে মৌলবাদীরা। ইসকনের সন্ন্যাসী সহ পাঁচ জনকে মৌলবাদীরা নির্মম ভাবে হত্যা করেছে, বেশ কিছু সংখ্যক হিন্দু এখনও নিখোঁজ। হাজার হাজার হিন্দুদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়েছে মৌলবাদীরা। আমরা তীব্র ভাষায় এই নির্মম এবং পৈশাচিক ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই দুষ্কৃতীদের শাস্তির জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন করছি।’’

অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের পক্ষ থেকে ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মহীতোষ বৈদ্য বলেন,‘ এর আগে আমাদের আরাধ্য হরি-গুরুচাঁদ ঠাকুরের মূর্তি এবং হরি মন্দির বাংলাদেশে ভেঙে ছিল মৌলবাদীরা। ধারবাহিকভাবে এই মূর্তি আর মন্দির ভাঙার উৎসব চালাচ্ছে মৌলবাদীরা। এরজন্য প্রতিটি সনাতনীর পথে নামা উচিত। আমরা মতুয়ারাও এ নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়েছি।’

আমরা বাঙালির পক্ষ থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ করে কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায় বলেন,‘ বাংলাদেশে শারদোৎসবকে কেন্দ্র করে যেভাবে ইসকন মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু ভক্তদের হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। কিছু ধর্মান্ধ মানুষ ধর্মের জিগির তুলে মানুষে মানুষে, ধর্মে ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজকে খন্ড বিখন্ড করে শোষণের যাঁতাকলে পিষে মারতে চায়। এ ঘটনা তাদের দ্বারাই সংগঠিত। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন, এই দুষ্কৃতী হামলার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ কায়েম করুন।

Related Articles

Back to top button
Close