fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

“বিদ্যাধরী নদী বাঁচাও”, বাসন্তী হাইওয়েতে মৎস্যজীবীদের পথযাত্রা

শ‍্যাম বিশ্বাস, উত্তর ২৪ পরগনা: “বিদ্যাধরী নদী বাঁচাও”, বাসন্তী হাইওয়েতে মৎস্যজীবীদের পথযাত্রা হল। বসিরহাট মহকুমার মিনাখাঁ ব্লকের বিদ্যাধরী নদী দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে নদীর জল দূষিত হচ্ছে। অভিযোগ কলকাতা কর্পোরেশন ও লেদার কমপ্লেক্সের  দূষিত জল    নদীতে পড়ে দূষণ বাড়ছে। একদিকে জলের চরিত্র পাল্টেছে, অন্যদিকে দূষণ বাড়ছে, সেইসঙ্গে নদীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মৃত্যু হচ্ছে, স্বাভাবিকভাবে মৎস্যজীবীরা তাদের  জীবন-জীবিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বসিরহাট মহকুমা সুন্দরবনের সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের হাসনাবাদ, মিনাখাঁ, হাড়োয়া এই চারটি ব্লকের প্রায় দশ হাজার মৎস্যজীবী তাদের জীবন-জীবিকা থেকে বঞ্চিত হয়ে, অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যাধরী নদী বাঁচাও কমিটি আন্দোলন করার পর, গ্রিন ট্রাইবুনালে উপযুক্ত নথি জমা দেওয়ার পরে নির্দেশ আসে, হাড়োয়া থেকে মিনাখা পর্যন্ত প্রায় কুড়ি কিলোমিটার বিদ্যাধরী নদীর সংস্কার করতে হবে। যার জন্য ইতিমধ্যে সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২১ সালের মধ্যে, সেই কাজ আজও থমকে রয়েছে, সেই কাজ কবে হবে সেকথা কেউ বলতে পারছেনা।

[আরও পড়ুন- ২০২১-এর নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ বিজেপির]

এই বিদ্যাধরী নদীর সংস্কারের কাজ দ্রুত করার দাবিতে রবিবার এই চারটে ব্লকের কয়েক হাজার মৎস্যজীবী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা সহ একাধিক পরিবেশবিদরা মালঞ্চ বাসন্তী হাইওয়ে থেকে হাড়োয়া কুলটি পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। তাদের মূলত দাবি  দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে, পাশাপাশি নদীর আগের চরিত্রে ফিরিয়ে আনতে হবে,যাতে নদীর জল দিয়ে একদিকে মাছ চাষ করা যায়, পাশাপাশি কৃষিজমিতে চাষ করতে পরিশুদ্ধ জল যাতে পাওয়া যায়, বিশেষ করে

মৎস্যজীবীরা তাদের মূল জীবিকায় ফিরতে পারে,সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপেশচন্দ্র পাত্র, পরিবেশ বাঁচাও কমিটির নেতা প্রদীপ চ্যাটার্জী বলেন, দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে, তা না হলে তারা আগামী দিনে মৎস্যজীবীদের নিয়ে আবার পুনরায় বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা এবং পদ যাত্রারায় সামিল হবেন। তাঁরা আরও বলেন, গ্রিন ট্রাইবুনাল-এর নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন কাজ শুরু হচ্ছে না, কেন নদী পুনর্জীবিত করা হচ্ছে না, আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই আমাদের আজ এই পদযাত্রা, এই নদীর দূষণ মুক্ত কাজ শুরু না করলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাটতে বাধ্য হব।

Related Articles

Back to top button
Close