fbpx
অফবিটপশ্চিমবঙ্গ

অলক্ষ্মীকে বিদায় দিয়ে কালীপুজোর আমাবস্যায় লক্ষ্মী আরাধনা বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায়

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: অলক্ষীকে বিদায় দিয়ে কালী পুজোর সন্ধ্যায় দেবী লক্ষ্মীর পুজো। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বর্ধমানের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ার দে বাড়িতে হয়ে আসছে এমনই ব্যতিক্রমি লক্ষ্মীপুজো। শুধু দে পরিবারের সদস্যরাই নয়, ব্যতিক্রমী এই লক্ষী পুজোয় মাতোয়ারা হন এলাকার বাসিন্দারাও। এই লক্ষ্মী পুজো শুরুর প্রসঙ্গ নিয়ে দে পরিবারের প্রবীন কর্তারা তাঁদের দে পরিবারের অতীত কাহিনী তুলে ধরেন।

তাঁরা জানান, একদা তাঁদের পরিবারের বসবাস ছিল বাংলাদেশে। বছর ষাট আগে সপরিবার তাঁরা ভারতে চলে আসেন। বসতি স্থাপন করেন বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলা পাড়ায়। স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তানকে নিয়েই ছিল রবীন্দ্রনাথ দে এর সংসার। রবীন্দ্রনাথ বাবু সেই সময়ে সামান্য কিছু পুঁজি দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ব্যবসায় তেমন শ্রীবৃদ্ধি না হওয়ায় তাঁর সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছিল। সেই সময় তিনি অভাব অনটন থেকে পরিত্রান লাভের পথ খুঁজছিলেন। একদিন তাঁর মনে পড়লো বাংলাদেশের বাড়িতে কালীপুজোর দিন লক্ষ্মী পুজো হবার কথা। রবীন্দ্রনাথ বাবু তাঁর স্ত্রী পুষ্পকে ওই পুজোর কথা জানিয়ে বলেন তাঁদের বাংলাদেশের বাড়িতে কার্তীকেয় আমাবস্যায় কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মীকে বিদায় দিয়ে সন্ধ্যায় হত লক্ষ্মী পুজো। লক্ষ্মীর কৃপায় বাংলাদেশে তাঁদের পরিবারে কোনও আভাব অনটন ছিলনা।

সাংসারিক অভাব অনটন থেকে মুক্তিলাভ কামনায় অাজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ বাবু ও তাঁর স্ত্রী পুষ্প বর্ধমানের বাড়িতে কালীপুজোর দিন লক্ষী পুজোর সূচনা করে। দেবীর কৃপায় ব্যবসাতে শ্রীবৃদ্ধি বাড়ার সাথে সাথে দূর হয় তাঁদের সাংসারিক অভাব অনটন। সেই থেকে প্রতি বছর কার্তীকেয় আমাবস্যায় কালীপুজোর দিন অলক্ষ্মীকে বিদায় দিয়ে ঘটা করে বড়িতে লক্ষ্মীপুজো হয়ে আসছে। পুজোর আয়োজনেও রয়েছে অভিনবত্ব। কালীপুজোর দিন পরিবারের কর্তা অলক্ষ্মীর মূর্তি গড়েন। বাড়ির বাইরে প্রথম হয় অলক্ষ্মী পুজো। অলক্ষ্মীর বিসর্জন দিয়ে এদিনই পরিবারে নতুন লক্ষ্মী প্রতিমা এনে সন্ধ্যায় পুজোর আয়োজন করা হয়। পুজো শেষে এই লক্ষ্মী প্রতিমার বিসর্জন করা হয়না। সারা বছর বাড়ির সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত থাকেন দেবী লক্ষ্মী। নিষ্ঠা সহকারে দেবীর পুজোপাঠ হয়।

এদিন চিড়ে, মুড়কি, নারকেল নাড়ু প্রভৃতি দিয়ে দেবীর নৈবেদ্য সাজান হয়। দেবীর জন্য বিশেষ ভোগ অন্নেরও আয়োজন করা হয়। পুষ্পদেবী জানান, পুজোয় শুধু আত্মীয় পরিজনই নন এদিন প্রতিবেশীরাও আমন্ত্রিত থাকেন। পরিবারের পুত্র বধূ মৌমিতা দে জানান, কোজাগরী লক্ষ্মী পূর্ণীমার দিনের পরিবর্তে কালীপুজোর দিন আমাবস্যায় অলক্ষ্মীকে বিদায় দিয়ে বাড়িতে লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন প্রকৃত অর্থেই ব্যাতিক্রমী। শ্বশুর বাড়ির আরাধ্য দেবীর পুজোর মাধুর্যই আলাদা। দেবীর কৃপায় সারাটা বছর আমাদের সংসারে অভাব অনটন বলে আর কিছু দেখা দেয়না। তাই এই দেবীর প্রতি আমাদের পরিবার পরিজনের পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও অগাধ ভক্তি রয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close