fbpx
কলকাতাগুরুত্বপূর্ণপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

একুশের ভোটে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতবে বাংলার বঞ্চিত তফশিলিরা, বিজেপির এসসি মোর্চার দায়িত্ব পেয়ে হুঙ্কার দুলালের

রক্তিম দাশ, কলকাতা: স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলার তপসিলি সম্প্রদায় বঞ্চিত। অনেক আশা নিয়ে তাঁরা বামশাসনের অবসান ঘটিয়ে দিদিকে ক্ষমতায় এনেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল তাঁদের ধোঁকা দিয়েছে। একুশের ভোটে তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতবেন বাংলার সেই বঞ্চিত তফশিলিরা। বৃহস্পতিবার যুগশঙ্খকে দেওয়া একান্তে সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করলেন বাগদার বিধায়ক তথা বঙ্গ বিজেপির তফশিলি মোর্চার নব নিযুক্ত সভাপতি দুলাল বর।

 

সাম্প্রতিক বঙ্গ রাজনীতিতে দুলাল বর বরাবরই বির্তকিত চরিত্র। একধিকবার দল বদল করে এখন তিনি গেরুয়া শিবিরের বিশ্বস্ত সৈনিক। প্রথমে কংগ্রেস তারপর তৃণমূল ফের গত  বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা কেন্দ্রে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জোট প্রার্থী হয়ে সিবিআইয়ের প্রাক্তণ যুগ্ম অধিকর্তা তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী উপেন বিশ্বাসকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। অবশেষে বাংলার চানক্য মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে।

 

বারবার দলবদল নিয়ে দুলাল বর বলেন,‘ রাজনীতি মানুষের প্রয়োজনে করি। দিল্লিতে কতবার সরকার বদল হচ্ছে দেশের মানুষ যাকে চাইছেন সেই ক্ষমতায় আসছে। আমি প্রথম জীবনে নকশাল করতাম। বামফ্রন্ট আমলে অত্যাচার দেখে কংগ্রেসে যোগ দিলাম। কংগ্রেসর হয়ে প্রধান ছিলাম। তৃণমূলের প্রথম জনসভা আমি করেছিলাম বাগদায়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় মনে রাখেন নি।’

 

 

তৃণমূলের হয়ে বিধানসভায় ভাঙচুর করে বির্তকে জড়িয়ে ছিলেন। সেই ঘটনার জন্য আজ নিজেকে লজ্জিত মনে করেন দুলাল বর। তিনি বলেন,‘ আজ ভাবলে লজ্জা লাগে। যাঁর জন্য করলাম আজ তিনি ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য বাংলার স্বার্থকে বিক্রি করে দিচ্ছেন। তৃণমূলে যাঁরা মন্ত্রী হয়ে বসে আছেন তাঁরা সব পরগাছা। আমার সরিয়ে দিয়ে উপেন বিশ্বাসকে মন্ত্রী করল তৃণমূল। যাঁর প্রতিবাদ করে আমি জিতলাম। পঞ্চায়েতেও বাগদায় অনেক আসন জেতার পরেও ধরে রাখা গেল না। টাকা ছড়িয়ে আর ভয় দেখিয়ে সবাইকে  কিনে নিল। পদে পদে আমার মতো তপসিলিরা তৃণমূলে অপমানিত হয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ বিজেপির কাছে যাঁরা আমায় দলে নিয়ে তফশিলিদের যোগ্য সম্মান দিয়েছেন।’

 

 

তফশিলি মোর্চার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করলে বাগদার মানুষ বঞ্চিত হবে না তাঁর থেকে এমনটাই দাবি করে দুলালবাবু বলেন,‘ বিধায়কের কাজ করার ইচ্ছা থাকলে কোনও সমস্যা নেই। আমারও তাই। দিনে আমি ৮ ঘণ্টা ঘুমায় বাকি সময় কাজ করি। প্রতিদিন ছুটে বেড়ায়। মোবাইল কখনও বন্ধ করি না। দুলাল বর মানুষের পাশে সব সময় আছে এটা আমার শত্রুও জানে।’

 

সারা রাজ্যের তপসিলিদের একছাতার তলায় নিয়ে আসায় লক্ষ এটা জানিয়ে দুলাল বর বলেন, ‘আজ মতুয়াদের জন্য আমি বিধায়ক। হরিচাঁদ-গুরুচাঁদের জন্ম না হলে আমি কোন দিন বিধায়ক হতাম না। বাংলায় তপসিলিরা ২৩ দশমিক ৫ শতাশ হয়েও তাঁরা মন্ত্রী হন না। চাকরি পান না। সংরক্ষণ মানা হয় না। তপসিলিদের এতগুলো বছর ধরে ভূল রাজনীতির স্বীকার হচ্ছেন। এটা তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন বলেই বিজেপিকে দুইহাত ভরে আর্শীবাদ করেছিল লোকসভা নির্বাচনে। এবার ফাইনাল লড়াই। একুশের বিধানসভায় তপসিলিরা তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতে দিদিকে বিদায় দেবেন পাকাপাকি ভাবে বাংলার রাজনীতি থেকে।’

Related Articles

Back to top button
Close