fbpx
অন্যান্যপশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

গাছের জৈব সার…

নিজস্ব প্রতিনিধি: গাছের সারকে সাধারণত ২টি ভাগে ভাগ করা যায়। ১) জৈব সার ২) রাসায়নিক সার। তাছাড়াও সারের অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান থাকে। প্রধান তিনটি উপাদান যেন নাইেট্রোজন, ফসফরাস ও পটাশ। এছাড়াও সারে বেশ কিছু অন্যান্য উপাদান থাকে। গাছকে বড় করতে, ভালো ফলন পেতে এই উপাদানগুলোর প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ধরা যাক জিঙ্ক, বোরন, মলিবভেনাম, ক্যালসিয়াম প্রভৃতি। এই উপাদানগুলোকে মাইক্রো-নিউট্রেন্টস বলে।

প্রধান উপাদানের সঙ্গে এই মাইক্রো-নিউট্রেন্টস মিশ্রিত হলে গাছের গঠন ভাল হয় এবং ফলনও উত্কৃষ্টমানের হয়। এবার আমরা বলা যাক গাছের কী ধরনের সারের প্রযোজন। প্রথমে বলি জৈব সারের কথা। জৈব সার প্রধানত মাটির চরিত্রকে উন্নত করে। যেন মাটিতে হিউমাস দরকার হয়। জৈব সার মাটিতে হিউমাস ঠিক মতো রক্ষণাবেক্ষণ করে। এছাড়াও এই জৈব সারটি আরও উন্নত করার জন্য ছোলা, বাদাম, খড়ের অব্যবহৃত অংশ ইত্যাদি মিশিয়ে দিলে এই জৈব সারটি আরও উন্নত হয়। উন্নত দেশগুলোতে জৈব সার বহুদিন রক্ষা করার চেষ্টা করছে। তা করতে পারলে সারের গুনাগুন আরও বৃদ্ধি পায়।

                                     আরও পড়ুন: ঋতুভিত্তিক ফসল মটরশুঁটি চাষ

এই এফ.ওয়াই.এম গাছের চারা রোপনের ৩-৪ সপ্তাহ আগে মাটিতে প্রয়োগ করলে ভালো হয়। তা করতে পারলে মাটির জল ধারণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় যা গাছের একান্ত প্রয়োজন। তাহলে বোঝা যাচ্ছে গাছের অনেকগুলো কাজে এই জৈব সার প্রয়োজনীয়। মাটির স্বাস্থ্যের প্রতি মনযোগ দিতে পারলে গাছের ফলন এবং গাছের স্বাস্থ্য অনেক ভালো থাকবে এবং খরচও কম হবে।

ভিন্ন রকমের জৈব সার পাওয়া যায়। ‘ফার্ণ ইয়ার্ড মেনেউর (এফ ওয়াই এম) একটি সর্বাধিক মূল্যবান জৈব সার। এই সারটি ভারতবর্ষে সব থেকে বেশি ব্যবহার করা হয়। এফ.ওয়াই.এম-এ গোবর থাকে। তাছাড়া একটি ফার্মে যে সকল প্রাণী থাকে তাদের না খাওয়া অংশগুলো খড় হিসেবে অথবা পূর্বে চাষ করা গাছের পাতা অথবা গাছের ডাটা, সব মিলিযে এফ.ওয়াই এম. তৈরি হয়। আমরা গোমূত্র সঠিকভাবে ব্যবহার করি না।

চাষাবাদের জন্য গোমূত্র খুবই মূল্যবান। জানলে অবাক হবেন ৯৫ শতাংশ পটাসিয়াম, ৬৩ শতাংশ নাইেট্রোজেন এবং ৬০ শতাংশ সালফার গোমূত্রে পাওয়া যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে গোমূত্র সুন্দরভাবে জমিয়ে তা কৃষিকাজে লাগানো হয়। মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধির জন্য পশুর হাড়ের গুঁড়ো এবং সবুজ সার খুবই কার্যকরি

ভূমিকা নিয়ে থাকে। মাটির হিউমাস বজায় রাখতে সাহায্য করে। এই সার মাটিতে প্রয়োগ করার পরে বিভিন্ন জীবাণু সারটাকে বর্দ্ধিত করে। সঙ্গে নাইেট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ে। কম্পোস্ট সার গত ২০-৩০ বছর ধরে খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

 

ভাল কম্পোস্ট সার বেশ সস্তাও হয় কারণ যে মিশ্রনটি তৈরি করা হয় তাতে গোবর সার থাকে। ধান বা গোবর খড়, ক্ষেতের আগাছা, পাতা প্রভৃতি দিয়ে কম্পোস্ট তৈরি হয়। এই সার ব্যবহারের আগে ভাল করে পঁচানো দরকার। আজকাল বহুল পরিমাণে টাউন কম্পোস্ট কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। মানুষের মল-মূত্র সহযোগে মাটি লম্বালম্বি কেটে এই সার তৈরি হয়। তিন মাসের ভেতরে প্রায় বিনা পয়সায় এই সার তৈরি হয়ে যায়। এই সারে নাইেট্রোজেন, ফসফেট এবং পটাশ সবই পাওয়া যায়।

গ্রীন ম্যানুয়ার কাকে বলে? অনেক চেষ্টার পরেও ফার্ম ইয়ার্ড ম্যানুয়ার যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়। সেজন্য কৃষি বিজ্ঞানীরা চিন্তা-ভাবনা করে মাটির নীচে যে নাইেট্রোজেন থাকে তাকে কাজে লাগিয়ে এবং তার সঙ্গে শন, ধৈঞ্চা, বারসিম, ইত্যাদি একসঙ্গে মিশিয়ে এই জৈব সারটি তৈরি করেন। পরিলক্ষিত হয় যে শন খুব ভাল গ্রীন ম্যানুয়ার।

তাছাড়া ধৈঞ্চা খুব ভাল কাজ করে পশ্চিমবাংলা, অসম, বিহার, এবং মাদ্রাজে। গ্রীন ম্যানুয়ার পদ্ধতি বিশেষ করে মাটির ফসফরাস বৃদ্ধির সহায়ক। জীবাণু সার ব্যাক্টেরিয়া ভিত্তিক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু। এদের বাসা মাটির নীচে। মাটির নীচে এরা জন্মায়। আমাদের একটা ধারণা আছে যে ব্যাক্টেরিযা হলেই তা মানুষের পক্ষে ক্ষতিকারক, তা নয়। অনেক ব্যাক্টেরিয়া আছে যা আমাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। প্রথমে যে নামটি মনে পড়ছে তা হল আ্যাজোটা ব্যাক্টার। এরা মাটির নীচে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। যেহেতু গাছের খুবই প্রযোজনীয় খাদ্য নাইট্রোজেন। এরা থাকে গাছের গোড়ায় বাসা বেধে এবং অনবরত নাইট্রোজেন গাছকে জুগিয়ে যায়। আজকাল অবশ্য নতুন

প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা এদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়েছি। ফলতঃ মাটির নীচে প্রচুর নাইট্রোজেন খুব কম খরচায় জোগাতে পারি। ফসপোব্যাক্ট্রিন-এই জীবাণু সার গাছে ফসফেট গ্রহণ করতে সাহায্য করে এবং বেশ ভাল মাত্রায় ফসফেট জীবাণু সার তৈরি করে।

Related Articles

Back to top button
Close