fbpx
পশ্চিমবঙ্গহেডলাইন

পরিযায়ী শ্রমিকদের খাবার প্রদানে পুলিশের বাধার মুখে সেবা ভারতী

বিজয় চন্দ্র বর্মন‌ , মেখলিগঞ্জ : সরকারি উদ্যোগেই হোক কিংবা নিজেদের উদ্যোগেই ‌হোক , ভিন রাজ্য থেকে ‌বাসে করে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজেদের রাজ্যে তথা জেলায় ফিরছে। এতে কারও‌ সময় লাগছে চার দিন ,কারো‌ পাঁচ দিন‌।একটানা এই টেনশনের জার্নিতে অনেকে আবার গাড়িতেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ওপর খিদের বেত্রাঘাত তো‌ রয়েছেই । তবুও তারা‌ সবকিছুকেই নিরবে‌ মেনে নিয়ে ঘরে‌ ফেরার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন ।সরকার যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতেই তারা খুশি ।সরকারি উদ্যোগেই আজ তারা নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরে‌ আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

পথ ক্লান্তিতে নুইয়ে পড়া এইসব পরিযায়ী শ্রমিকদের পথের সাথী হয়ে খাবার ও জলের জোগান দিতে রাস্তায় নেমেছেন অনেক সংগঠন ।তার ব্যাতিক্রম হয়নি কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জেতও। ভিন রাজ্য থেকে কোচবিহারে পৌঁছানোর পথে মেখলিগঞ্জের ১২ এ রাজ্য সড়কের জামালদহে পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস থামিয়ে তাদের হাতে মিনারেল‌ ওয়াটারের বোতল‌ ও রান্না করা খাবারের প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন “সেবা ভারতী” নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা। এভাবে তিন- চার দিন ধরে পরিসেবা দেওয়ার পর রবিবার দিন‌ পুলিশের বাঁধার মুখে পড়ে‌ খাবার ও পানীয় জল প্রদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা।

অভিযোগ , রাজ্য সরকারের পুলিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছে কোনওভাবেই পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতে খাবার ও‌ জল তুলে দেওয়া যাবে না । ফলে‌ পুলিশের বাঁধা দানে‌ খাবার ও‌ জল‌ বিলি বন্ধ রাখে সেবা ভারতী। এমনকি রবিবার দিন প্রস্তূত হয়ে যাওয়া খাবারও বিলি করতে দেয়নি পুলিশ । পুলিশের কাছে ওই খাবার টুকু বিলির অনুমতি চেয়েও অনুমতি মেলেনি । দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে আসলেও অনুমতি না পাওয়ায় সে খাবার নষ্ট হয়ে যায় । ফলে প্রায় ৪০০ প্যাকেট খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে ওই সংগঠনের সদস্যরা।
এ ঘটনায় সেদিনই জামালদহে এসে পৌঁছায় আরএসএসের উত্তরবঙ্গ প্রান্ত প্রচারক সাধন পাল এবং আর এস এসের চন্দন কুন্ডু।

সাধন‌বাবু জানান, মানবিকতার কারনে অভুক্ত ও তৃষ্ণার্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের রান্না করা খাবার ও পানীয় জল সোস্যাল ডিস্টেন্স মেনে তুলে দিয়েছেন সেবা ভারতীর সদস্যরা‌ । কয়েক দিন দেওয়ার পর পুলিশ কোনও অজ্ঞাত কারণে বারন করে দিয়েছে । এমনকি এদিন রান্না হয়ে গিয়েছে এমন‌ খাবার গুলোও বিলি করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে ৪০০ প্যাকেট খাবার ফেলে দিতে বাধ্য হয়েছে সদস্যরা। এই ঘটনায় আজ প্রশ্ন‌ জাগে যে আমরা কোন‌ দেশে বাস করছি ? অভুক্ত ও‌ তৃষ্ণার্তকে‌ খাবার ও জল দেওয়া ভারত বর্ষের সংস্কৃতি । কিন্তু এই ঘটনার একটা বিহিত ও‌ প্রতিকার হওয়া দরকার । তা না হলে পরবর্তীতে একটা খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। এবিষয়ে মেখলিগঞ্জ থানার ওসি রাজু সোনার জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের চ্যাংড়াবান্ধা নাকা চেক পোস্টে খাবার দিচ্ছেন বিডিও। এছাড়া সেখানে খাবার বিলিতে অনুমতি নেওয়া হয়নি । ওরা খাবার বিলি করতে চাইলে গ্রামে‌ গিয়ে সেখানকার মানুষ দের বিলি করুক। ওখানে এভাবে খাবার বিলি করায় সমস্যা হচ্ছে । তাই বন্ধ করে দেওয়া‌ হয়েছে।

Related Articles

Back to top button
Close